বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী আমেজ গাঢ় হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় নেতৃত্বে আসতে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা জানান। তারা বলেন, একাদশ নির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় নির্বাচনী আমেজে রয়েছেন তারা। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করার পর পরই প্রতিটি উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এদিকে উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন কিংবা কর্মীসভাগুলোতেও বাড়ছে নেতাকর্মীদের সমাগম আর সেই সাথে বাড়ছে নেতৃত্ব কোন্দল। নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্য উপজেলা কিংবা ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও মরিয়া হয়ে উঠছেন। অপরদিকে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আগামি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল বিএনপির নেতৃবৃন্দের মাঝে কোন ধরনের কোন্দল সৃষ্টি না হয় এ ব্যাপারে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। তারপরেও নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোর পদ পদবী নিয়ে তৃনমূলে কোন্দল সৃষ্টি হওয়ার আশংকা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি উপজেলা ও ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ‘কর্মীসভা’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। এ কর্মীসভাকে কেন্দ্র করে দলের তৃনমূল নেতা-কর্মীরা পদ পদবীর বিষয়াদি নিয়ে নিজেরাই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন। নিজেদের প্রভাব বিস্তার কখনোবা ঠুনকো বিষয় নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছেন প্রায় ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতা-কর্মীরা।
তবে আগামি কয়েকমাসের মধ্যেই প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানান দলটির নেতারা। বিএনপির নেতারা বলছেন, নিজেদের মধ্যে একটু-আধটু মারামারি করে বিএনপির যে নেতাকর্মী আছে তার জানান দেওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি উপায় বের হবে। সরকার ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারীর যে একতরফা নির্বাচন করেছে তা এবার করবে না বলেই আমাদের প্রত্যাশা। আর এটি তারা করতেও পারবে না। বিএনপি খুব শিগগিরই জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিবে। সেখানে জনগনের আশা-আকাঙ্খাকে সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাবনা দেবে। এসকল প্রস্তাবনাকে সামনে রেখে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান বের হয়ে আসবে। আর কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় আগামি একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত আশায় জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সিদিক এগুচ্ছে।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমান্ড জাতীয় নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনই কোনো বার্তা না দিলেও প্রস্ততি পর্ব সম্পন্ন করতে দ্রুত গতিতে কাজ করছেন। সারাদেশের সাংগঠনিক অবস্থানকে সুসংহত করতে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ফিরিয়ে আনতে দলটির কয়েকটি টিম কাজ করছেন। এসকল টিম সারাদেশ সফর করে দলের সাংগঠনিক চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি করনীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন দলের চেয়ারপার্সনের নিকট। এজন্য তারা জেলা সফর নিয়ে প্রতিবেদনও প্রস্তত করছেন।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করাসহ আগামী নির্বাচনের প্রস্ততির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডগুলোতে ‘কর্মী সভা’ কর্মসূচি হাতে নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। আর বিএনপি চেয়ারপার্সনের এমন সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতৃবৃন্দ কর্মীসভার মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দলের কর্মীসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে এমন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, বড় দলগুলোর মধ্যে এমনটা হয়েই থাকে। যা হচ্ছে এতে বোঝা যায় বিএনপির নেতা-কর্মী আছে। তাছাড়া নেতৃত্বে দ্বন্ধ থাকতেই পারে। এসবের মধ্যে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যেতে হবে। দলের এমন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্য হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় একটি নির্বাচনমুখি রাজনৈতিক দল। যে কোন নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একটু চাপতো থাকবেই। আগামী নির্বাচনের জন্য এমনটা হচ্ছে তা সত্য নয়। নেতৃত্ব প্রতিযোগিতাই এখানে মূল ভূমিকা রাখছে।

