বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শামীম ওসমান-সেলিম ওসমান-ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটুসহ ১৯৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
গত ১৪ মে বুধবার দিবাগত রাতে ক্লাবের সুপারভাইজার অঞ্জন কুমার রায় বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। শুক্রবার বিকেলে মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়।
মামলাটির বাদী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সুপারভাইজার রঞ্জন কুমার রায় সুমন অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ছিল ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, তাঁর ভাই সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান শামীম ওসমানের শ্যালক ক্লাবের চার বারের সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটুর হাতে। তারা ক্লাবের বহুতল ভবন নির্মাণসংক্রান্ত তথ্যাবলি গোপন রাখেন। বহুতল ভবনসহ ক্লাবে ঘটা দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, তহবিল তসরুপ ধামাচাপা দিতে ২ আগস্ট সন্ধ্যা ছয়টায় ক্লাবের গেস্ট হাউসের প্রেসিডেন্ট স্যুটে গোপন বৈঠকে মিলিত হন তারা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারনে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে ৫ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে আটটায় শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভিতর ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ সময় ৮-১০টি ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়।
পরবর্তীতে তারা ক্লাবের অফিস কক্ষ, গেস্ট হাউস, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন কক্ষে বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে ব্যাংকের হিসাব জমা বই, এফডিআর রশিদ, রেকর্ডপত্র, টিভি, ফ্রিজ, এসি, কম্পিউটারসহ সবকিছু পুড়ে যায়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ক্লাবের দশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করেন তিনি।
মামলার উল্লেখযোগ্য অপর আসামীরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, শামীম ওসামনের বেয়াই ফয়েজ উদ্দিন লাভলু, শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

