বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের অভিপ্রায়ে স্মরণ করা হচ্ছে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের। সেই লক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে নির্মিত প্রথম স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ছয়জন উপদেষ্টা আসছেন এই জেলায়।
রোববার (১৩ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়া।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত বিজয়ের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শুরু হয়েছে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা ২০২৫’। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে নির্মিত প্রথম “জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ” উদ্বোধন করা হবে।
এই উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে আসছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ছয়জন উপদেষ্টা। তারা হলেন- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
জানা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার সরকারি কর্মসূচি। এতে অংশ নেবেন নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা, মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস স্মরণ করে আয়োজনটি আয়োজন করা হচ্ছে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের ত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে। নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
