বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আগামী মার্চ মাসের প্রথম দিন থেকে বন্দর খেয়াঘাটের মত নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে যাত্রীপারাপার টোল ফ্রি করে দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। পাশাপাশি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কদম রসুল কলেজটি সরকারীকরণ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। সেই সাথে কদমরসুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও এলাকার মানুষের জন্য কল্যাণকর হয় সিটি করপোরেশনের এমন যে কোন কাজে মেয়রকে সহযোগীতা করার আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ২৩ ফেব্রুয়ারী বন্দর নবীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত কদমরসুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ দিন ধরে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে নদী পারাপারে জন সাধারণ দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিল। সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে জনসাধারণের ্দুর্ভোগের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পরদিনে সরেজমিনে খেয়াঘাটে গিয়ে সেলিম ওসমান খেয়াঘাটের টোল ২ টাকার পরিবর্তে ১ টাকা করে দেন। পাশাপাশি ঘাটে চলাচলকারী নৌকা ও ই্িঞ্জন চালিত নৌকার ঘাট জমা অর্ধেক করে দেন। এরপর থেকে নবীগঞ্জের মানুষ সেলিম ওসমানের কাছে বন্দর খেয়াঘাটের মত নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়েও টোল ফ্রি করে দেওয়ার দাবী তুলেন। বৃহস্পতিবারও অনুষ্ঠানের মঞ্চে নবীগঞ্জ এলাকার মানুষ খেয়াঘাটটি টোল ফ্রি করে দেওয়ার দাবী করেন।
এলাকাবাসীর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মত একটি স্বাধীন দেশে বন্দরের মানুষ পরাধীন হয়ে রয়েছে। এখনও এখানকার মানুষকে টোল দিয়ে খেয়া পারাপার হতে হয়। বন্দর খেয়াঘাটটি আমি নিজ উদ্যোগে টোল ফ্রি করে দিয়েছি। নবীগঞ্জবাসীর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটটি টোল ফ্রি করে দিতে পারবো বলে আমি আশাবাদী। ঘাটটি টোল ফ্রি করে দেওয়া হলে খেয়াঘাট দিয়ে চলাচলকারী নৌকার মাঝিরাই ঘাটের দেখাভাল করবে। কোন মাঝি যদি যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরন করে তবে ওই মাঝি আর ঘাটে নৌকা চালাতে পারবে না।
এদিকে কদমরসুল কলেজের একজন নবীন ছাত্র কলেজে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্যের কাছে দাবী রাখেন। ইতোমধ্যে কলেজটির সীমানা দেয়ালের বাইরে কলেজের নিজস্ব জমি ভরাট করা হয়েছে। যেখানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবনা দিয়েছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র একজন কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রস্তাবনা দিয়েছেন কলেজের ভেতরে সিটি করপোরেশনের যে জায়গাটুকু রয়েছে সেটি তারা কলেজকে দিয়ে দিবেন এবং কলেজের বাইরে জায়গাটিতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের এমন প্রস্তাবনা আমি সমর্থন জানাই। সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে এই কলেজের উন্নয়ন করা উনারও দায়িত্ব। কদমরসুল কলেজ এবং এলাকাবাসীর কল্যাণ হয় এমন যে কোন কাজে আমি সহযোগীতা করতে রাজি আছি। আর যদি উনি আমার সহযোগীতা না নিতে চান। উনি যদি একাই উন্নয়নের কাজ করতে চান তাতেও এই এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমার কোন আপত্তি থাকবে না।
দ্রুত সময়ের মধ্যে কদমরসুল কলেজ সরকারী করণ হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই কদমরসুল কলেজটি সরকারীকরণ হবে বলে আমি আশাবাদী। সারাবাংলাদেশে যে কয়েকটি কলেজ সরকারী করণের তালিকায় রয়েছে সেখানে কদম রসুল কলেজটি রয়েছে দ্বিতীয় নাম্বারে। অতত্রব প্রথম ১০টি কলেজকে যদি সরকারীকরণ করা হয় তাহলে সেখানে কদম রসুল কলেজ দ্বিতীয় স্থানে সরকারীকরণ হবে। তবে একটি সমস্যা রয়ে গেছে। কলেজটি সরকারী হয়ে গেলে এখানে আর পরিচালনা কমিটি থাকবে না। তখন ইচ্ছে করলেই টাকা খরচ করা যাবে না। কদম রসুল কলেজে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের একটি বরাদ্দ এসেছে। কলেজের বাইরের জমিটিতে নতুন ভবনটি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যেহেতু সেখানে সিটি করপোরেশন থেকে সেখানে মসজিদ করা হবে তাই আমাদেরকে দ্রুতই কলেজের ভেতরে নতুন ভবনের কাজ শুরু করতে হবে। কোন অবস্থাতেই সময় নষ্ট করা যাবে না। তাই তিনি পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দদের দ্রুত নতুন ভবনের কাজ শুরু করার জন্য তাগিদ দেন।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানটি মোট দুই পর্বে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে সভাপতি, প্রধান অতিথি আর বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরাই। যেখানে কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী জতি ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে আসন গ্রহণ করেন দ্বাদশ শ্রেনীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মাহমুদা ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্নাস ২য় বর্ষের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী রাহিমা আক্তার, ও আমেনা খাতুন। পরীক্ষায় তাদের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সভাপতি, প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি নির্ধারণ করা হয়।
পুরো অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান। কদম রসুল কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি প্রফেসর শিরিন বেগম, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ লায়ন প্রকৌশলী এম এ ওহাব, কলেজের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর শাওন অঙ্কন, বন্দর মুক্তিযোদ্বা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার কাজী নাসির, মদনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এম এ সালাম, বন্দর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, ও কলেজ উদ্যোক্তাদের মধ্যে ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমনসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

