বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
একসময় টলটলে ছিল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কংস নদীর পানি । এই নদীতে ধান পাটের নৌকা নিয়ে চলাচল করতো পাইকাররা। বসবাসের সুবিধার্থে এই নদীর আশেপাশে বেশ কয়েকটি বাড়ি তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর আগে সরকারী সংস্থাগুলো চিহ্ণিত করেছেন দখলদারের। এই নদীর আশেপাশে যাদের নিজস্ব জমিতে বাড়ি রয়েছে তাদেরও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে ছাড়পত্র। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী তেরা মার্কেট এলাকার হাজী আনোয়ার ইসলামের ভবনটি কংস নদীতে পরেছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে নানা তথ্য। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কংস নদীর পাশে নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ করেছেন হাজী আনোয়ার ইসলাম। নদীর জন্য ২ ফুট জায়গা ছেড়ে গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন এমনটিই জানা যায় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে।
সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী এলাকার স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার জানান, আমরা যতুটুক দেখেছি এবং শুনেছি আনোয়ার ইসলামের ভবনটি কংস নদীর জায়গায় পরে নাই। তিনি তার নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মান করেছেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও এলাকায় বেশ পরিচিত। নিজের পরিশ্রমে গড়েছেন সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসবাসের জন্য বাড়ি ।
এদিকে সরকারী জায়গা উদ্ধারে পানি উন্নয়ণ বোর্ড সহ সকল সরকারী সংস্থা তদন্ত করে প্রতিবেদন করেন। সরকারী জায়গা কংস নদী উদ্ধারে যারা দখল করেছেন এবং যাদের জায়গা কংস নদীতে পরে নি সেইসব বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন সংস্থাগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আনোয়ার হোসেন যে কংস নদী দখল করেননি সে বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- আরএস ৯৯১ ও ১০০৩ দাগে হাজী আনোয়ার ইসলাম এর নিজস্ব মালিকানা জমি। উক্ত মালিকানা জমিতে হাজী আনোয়ার ইসলাম কংস নদীর উভয় পার্শ্বে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন। কংস নদীতে তার বিল্ডিং পরে নাই মর্মে প্রতিয়মান হয়।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সহ সভাপতি আনোয়ার ইসলাম সাথে কথা বললে তিনি জানান, কংস নদী দখল করে আমি কোন বাড়ি নির্মাণ করিনি। সরকারি ভাবে মাপের পর নদীর জায়গা ছেড়ে আমি ভবন নির্মাণ করেছি। কোন ভাবেই আমি নদী দখল করেনি যার জন্য সরকারীভাবে আমাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই কংস নদীর জন্য আমার নিজের জায়গা থেকে দুই ফুট জায়গা ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানীত হয়ে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির সংগঠন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। আওয়ামীলীগ করতে পদ লাগে না দলের নিবেদিত থাকতে পারাটাই মূখ্য বিষয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নেতৃত্বে ও শ্রমিকলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে আওয়ামীলীগের সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে আসছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি সামাদ বেপারী বলেন, আনোয়ার ইসলাম ভাই আমাদের প্রস্তবিত কমিটির সহ সভাপতির পদে রয়েছেন। তিনি আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত লোক। আনোয়ার ভাই একজন পরিশ্রমী ও ভাল মনের মানুষ। আমরা যতটুকু জানি তিনি কোন নদীর জায়গা দখল করেননি বরং সরকারী নদীর জায়গার জন্য নিজের জায়গা ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া বলেন, আনোয়ার ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগের কোন পদে না থাকলেও সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন। তিনি আওয়ামীলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ বলেন, কংস নদীর জায়গায় আনোয়ার ইসলামের ভবনটি পরেছে কিনা সেটি আমরা তদন্ত করে বলতে পারবো। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর তদন্ত করে দেখছে।

