বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, , পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই দিল্লিতে শেখ হাসিনার পুরো পরিবার নির্বাসিত হোক কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে এদেশের আঠারো কোটি মানুষ স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত আছে।
বুধবার (২১ আগষ্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যাদের অত্যাচার, অবিচার অতিরিক্ত ছিল তাদের জন্য আল্লাহর রাসূল বলেছেন কোন ক্ষমা নেই। সোনারগাঁয়ে শত শত মানুষের ওপর নিপীড়নের জন্য চিহ্নিত কিছু মানুষ দায়ী। তাদের তালিকা করে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে। এদেশের মানুষের সাথে কাজ করতে হলে তাদের হৃদয়ের আবেগ বুঝতে হবে। ইসলামের বিরুদ্ধাচারণ করে হয়ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী হবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন বলেন ,দিল্লিতে বসে কেউ যদি স্বপ্ন দেখে শাহজালালের বাংলাদেশকে কেউ নরেন্দ্র মোদিদের স্বার্থের বলি বানাবে। আমরা বলতে চাই রক্ত দিয়ে যেভাবে স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়ার পরেও ফ্যাসিবাদের জায়গা বাংলাদেশে হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ কখনও ফ্যাসিবাদকে মেনে নেবে না। ২০০৯ সালের পিলখানার দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীদের হত্যা করা হয়েছিলো, ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বরে তাহাজ্জুদরত সহস্রাধিক হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিলো ,সর্বশেষে ২০২৪ সালে আমাদের ছাত্রদের উপর যেভাবে নির্বিচারে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। দেশের জনগনের টাকায় হেলিকাপ্টার কেনা হয়েছে দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। আর সে হেলিকপ্টার থেকে শেখ হাসিনার পালিত গুন্ডা বাহিনী পুলিশ বাহিনীর পোষাক পরে নির্বিচারে গুলি করে শিশুসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। এ বাংলার মাটিতে এর বিচার করতেই হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক ও ইমাম ওলামা ঐক্য পরিষদের সোনারগাঁ শাখার মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন , কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন খাঁন, খেলাফত মজলিশের সোনারগাঁ শাখার সভাপতি হাফেজ ক্বারী আব্দুল আওয়ালসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সকল শহীদ ও আহতদের স্বরণে দোয়ার মাধ্যমে মাগফেরাত কামনা করা হয়।

