বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই নিজেদের মধ্যে দ্বন্ধ-বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। এ নিয়ে জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় সম্মেলন না হলেও আবদুল হাইকে সভাপতি, স্থানীয় সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহসভাপতি ও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কর্মসূচি পালনে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবদুল হাই। তিনি বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য ১১ মাস আগে জমা দেওয়া হলেও আজতক পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। জেলার নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে আগামি জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের আগে জেলা আওয়ামীলীগের পূনাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা না হলে এর প্রভাব নির্বাচনে পড়ার শংকা প্রকাশ করেছেন পদ প্রত্যাশী নেতারা।
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে আ: হাইকে সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষনা করা হলেও পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়! দলের মধ্যে বিভাজন এবং মত পার্থক্য থাকার কারনে জেলা আওয়ামীলীগের পূনাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হচ্ছে না বলে সূত্রে জানা গেলেও জেলা কমিটির সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক নির্ধারিত হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জেলা সভাপতি আঃ হাই জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কাউন্সিল হওয়ার পূর্বেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের পূনাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কাউন্সিল সম্পূর্ন হয়ে গেলেও জেলা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি এখনা ঘোষণা করা হয়নি। আর পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা না হওয়ায় দলের নেতৃবৃন্দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের গন্ডির মধ্যেই কি সীমাবদ্ধ থাকবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কমিটি?
তবে রাজণৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কারনে কেন্দ্র থেকে পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে পদ প্রত্যাশিত একাধিক সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের পূনাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা না হলে সাংগঠনিকভাবে দল অনেক দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশংকাও করছেন অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তবে ভিন্নমত পোষন করেছেন নব গঠিত জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃহাই। তিনি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের পূনাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানান, অচিরেই হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের পূনাঙ্গ কমিটি। ইতিমধ্যে কেন্দ্রে জেলার পরীক্ষিত ও ত্যাগী সমন্বয়ে দলীয় হাই কমান্ডের সাথে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি তালিকা প্রেরন করা হয়েছে। কেন্দ্র সঠিক সময়তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। কেন্দ্র চাইলে পূনাঙ্গ কমিটি যে কোন সময়তেই হতে পারে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে অচিরেই পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনার ব্যাপারে কেন্দ্রের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নিকট সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃহাইয়ের এমন বক্তব্য মানতে নারাজ দলের একাধিক সিনিয়র নেতা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামীলীগের পদ প্রত্যাশী একাধিক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ জানান, জেলা সভাপতির বক্তব্য শুধুমাত্র আইওয়াশ। জেলা আওয়ামীলীগের মূল কমিটিতে পদ পদ প্রত্যাশী সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ ঘনিয়ে এসেছে। তাই কোন ধরনের কালক্ষেপন না করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য জেলা আওয়ামীলীগের মূল কমিটি গঠন করা অতীব জরুরী।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ’৭৫এর পট পরিবর্তনের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওইসময় নাজমা রহমান সভাপতি ও শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় যুগেও সম্মেলন হয়নি দলটিতে। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে ৬৩ সদস্যবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক এমপি এসএম আকরামকে আহবায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। ওই আহবায়ক কমিটির ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও প্রায় ১৪ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে শামীম ওসমানকে আওয়ামীলীগ সমর্থন দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী আ’লীগ নেত্রী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে কাজ করেন জেলা আওয়ামীগের আহবায়ক এস এম আকরাম। নির্বাচনে আইভী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে আওয়ামীলীগের আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে সাবেক এমপি এসএম আকরাম। তারপর আকরাম যোগ দেন নাগরিক ঐক্যে। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম আহবায়ক মফিজুল ইসলাম। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মফিজুল ইসলাম চলে যান না ফেরার দেশে। এরপর থেকে জেলা আওয়ামী লীগ মূলত নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে এখানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সম্প্রতি মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছে। এ কমিটিতে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামীলীগ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আসা আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি এবং এড.খোকন সাহাকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। দলীয় সূত্র আরো জানিয়েছে, আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে কোন সংসদ সদস্য জেলা কমিটির সভাপতি হতে না পারলেও এ পদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নাম প্রস্তাব করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু শামীম ওসমান নিজে সেই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার অনিচ্ছা প্রকাশ করে বয়োজেষ্ঠ্য হিসেবে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি পদ দেয়ার সম্মতি প্রকাশ করলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের নাম ঘোষনা করা হয়।
