বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আমি রাজনীতিতে উত্তর সূরী হিসেবে কাউকে বিশ্বাস করি না। রাজনীতিতে উত্তরাধিকার বা পরিবারতন্ত্র আমি ওইটা করতে চাইনা। আমি সব জায়গায় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে চাই। এখানে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আছেন। অনেক প্রবীন নেতা। ফতুল্লা থানা কমিটি যখন হয়েছে। ওনারা আমাকে কমিটি দেখাতে এসছিলেন। আমি আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলতে চাই। ওই কমিটি আমি দেখি নাই। শুধু শুনেছি ওই কমিটিতে আমার, আমার ছেলের এবং আমার স্ত্রীর নাম দেওয়া হয়েছে। আমার এবং তাদের নাম কমিটি থেকে কেটে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। সেটা কেটে দেওয়া হয়েছিল। কারন আমি মনে করি আমার সন্তান আমার স্ত্রী আমার পরিবার হিসেবে তাদের তোন পদ দরকার নেই। ওইখানে একটা ত্যাগী নেতাকে যদি দেওয়া হয়। সেই ত্যাগী নেতাটা খুশি হবে। সেটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া হবে।
রবিবার বিকেলে রাইফেল ক্লাব প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান আরো বলেন, এবার নির্বাচনে জয়ী হয়েই প্রথমেই বলেছি নারায়ণগঞ্জের সমস্যাগুলো সমাধান করবো। সম্ভবত এটাই আমার শেষ নির্বাচন। আমরা মানুষের সেবা করতে এসছি। আমরা মানুষের সেবা করি। তিনি আরো বলেন, কয়েকদিন আগে সাংবাদিকরা একটা উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই উদ্যোগটা ভাল উদ্যোগ ছিল। উদ্যোগ ছিল নারায়ণগঞ্জের সমস্যার সমাধান করা। একটা হচ্ছে হকার সমস্যা, যানজটের সমস্যা, রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি চলাচল বন্ধ করা। এগুলো ম্যাসেজ ছিল। এ বিষয়ে নিয়ে আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান ও আমার বোন মেয়র আইভী একসাথে বসেছি। এই সমস্যা সমাধানে মেয়র আইভী আমার কাছে সহযোগীতা চেয়েছে। যেহেতু সহযোগীতা চেয়েছে আমার দায়িত্ব হচ্ছে আমার এই সহযোগীতা করা।
শামীম ওসমান হকার প্রসঙ্গে বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে হকার ভাইদের আমি বলতে চাই । আপনাদের কেউ উস্কানি দিবে। ওইযে উচ্ছিষ্ট বাম যারা আছে তারা কিন্তু আপনাদের সমস্যার সমাধান করবে না। এরা জাষ্ট আপনাদের নিয়ে খেলবে। আমি গরীব মানুষের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবো। এ ব্যাপারে কোন কথা নেই। কিন্তু এভাবে প্রতিদিন চলতে চলতে পারেনা। আমি দেখেছি হকাররা বিনা পয়সায় বসে না। মীর জুমলা রোডে প্রতিদিন ছোট চৌকি ৩ বার ভাড়া দেয় ২৪শ টাকা। আর বড় চৌকি ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা। এ টাকা কে পায়। আমরা বা সিটি করপোরেশন পায় না। এ টাকা পায় চাঁদাবাজরা। কিছু চাঁদাবাজের জন্যই আমি নারায়ণগঞ্জের মানুষকে কেন অশান্তিতে রাখবো। প্রত্যেক জায়গায় হকারদের চাঁদাবাজদের টাকা দিতে হয়। যদি টাকা দিতে না হতো তাহলে আমি তাদের পক্ষে থাকতাম। আমি বড় সেলিম ওসমান ও ছোট বোন মেয়র আইভীর সাথে আলোচনা করেছি। হকারদের জন্য একটা পারমানেন্ট জায়গা বরাদ্দ করার জন্য।
এসময় কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দনশীল, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা. জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল সহ সদর, ফতৃুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

