বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ত্বকী হত্যা মামলায় গত দুদিনে র্যাবের হাতে আটক সাফায়েত হোসেন শিপন ও মামুনের পরিবার আটকৃতদের নির্দোষ দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে পরিবার দুটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
বুধবার বিকেলে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত সাফায়েত হোসেন শিপনের স্ত্রী ফারজানা আহমেদ রিংকি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে সাদা পোষাকে র্যাব তার শিশু সন্তানসহ শিপনকে শহরের কালিরবাজার র্যাব ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক পৌনে একটায় বিষয়টি আমাদের অবহিত করা হয়। তখন আমরা র্যাব ক্যাম্পে গেলে তারা আমার সন্তানকে আমাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এসময় র্যাব ক্যাম্প থেকে আমাদের জানানো হয় শিপনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। পরে রাত আনুমানিক দুইটায় র্যাব ক্যাম্প থেকে শিপনকে নিয়ে আসার জন্য ফোন দেয়। তাকে আনতে যাওয়ার সময় মাঝ রাস্তায় পৌছলে আবারও ফোন দিয়ে বলে রাতে নয় সকালে গিয়ে যাতে নিয়ে আসি। এরপর মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত শিপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। পরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে জানতে পারি শিপনকে ত্বকি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় শিপনের স্ত্রী রিংকি আরো বলেন, ত্বকি হত্যাকান্ড একটি আলোচিত হত্যাকান্ড। আমরাও চাই ত্বকি হত্যাসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার হোক। কিন্তু সেই বিচারটা করতে গিয়ে যেনো কোন নিরপরাধ ব্যাক্তিকে ফাসানো না হয়। এসময় তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিমাসেই এই হত্যাকান্ড নিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ দেখতে পাই। কিন্তু কোন সমাবেশে শিপনের নাম আলোচনায় ছিলো না। শিপনকে নিরিহ দাবী করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিংকি। আমরা সাফায়েত হোসেন শিপনকে ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি শুনে অবাক ও হতভম্ব। ত্বকী হত্যাকান্ডের মত স্পর্শকাতর মামলায় কি করে আমার স্বামী আসামী হয় তা বোধগম্য নয়। ত্বকী হত্যাকান্ড নিয়ে অসংখ্য সভা সমাবেশ গত ১১ বৎসর যাবত নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখনও প্রতিমাসেই এই হত্যাকান্ড নিয়ে মানববন্ধন সমাবেশ চলমান। কিন্তু কোথাও কোন সমাবেশে শিপনের নাম আলোচিত হতে শুনিনি। এমনকি কোন গণমাধ্যমকেও শিপনের ব্যাপারে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কোন সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। অপরদিকে ত্বকীর পিতা সহ সভা সমাবেশ থেকে যাদের দায়ী ও গ্রেফতার দাবী করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তাদের কাউকে আমরা গ্রেফতার হতে দেখিনি। অথচ এখন নিরীহ শিপনকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এসময় অন্য সবার মতো তারাও ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করে এবং অবশ্যই তা সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীরা যেন শান্তি পায় সে দাবীও জানায়।
এদিকে অপর সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের হাতে আটক মামুন মিয়ার স্ত্রী রাফিয়া সুলতানা বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সোয়া এগারোটায় মামুন মিয়াকে র্যাব আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানার পর আমরা র্যাব ক্যাম্পে গিয়ে আটকের কারণ জানতে চাইলে আমাদের জানানো হয় মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে আমাদের চোখ ফাকি দিয়ে তাকে আদালতে নিয়ে ত্বকি হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে আনা হয়। পরে মামুনকে আটকের কারণ জানতে আমরা আদমজীস্থ র্যাব-১১ সদর দপ্তরে যাই। সেখান থেকে আমাদের কোন তথ্য দেয় নাই। পরে বুধবার আমরা বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এসময় আটকৃত মামুনকে নির্দোষ দাবী করে স্ত্রী রাফিয়া জানান, তার স্বামী একজন ব্যাবসায়ি। ত্বকি হত্যার সাথে তার কোন নূন্যতম সম্পর্ক নাই বলেও দাবী করেন। সম্পূর্ণ বিনা কারণে সঠিক তথ্য যাচাই বাছাই না করে মামুন মিয়াকে র্যাব গ্রেফতার করেছে বলে দাবী করেন মামুনের স্ত্রী রাফিয়া।
এসময় তিনি ২০১৪ সালে ১৩ মার্চ ত্বকি হত্যা নিয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে বলেন, বিগত সময়ে তদন্তকালে যে মামুনের নাম প্রকাশ পেয়েছিল, তিনি হলেন আজমেরী ওসমানের খালাতো বোনের জামাই মামুন। আজমেরী ওসমানের খালাতো বোনের জামাই মামুনকে বাচানোর জন্য চক্রান্ত হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি। তিনি আরো দাবী করেন প্রকৃত আসামী মামুনের পরিবর্তে আমার স্বামী নির্দোষ মামুন মিয়াকে ত্বকি হত্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য চক্রান্ত চলছে। এসময় কারা আপনার স্বামী মামুনকে চক্রান্ত করে ফাঁসাতে চাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাফিয়া কারো নাম জানাতে পারে নাই। তবে তার স্বামী মামুনকে নিরীহ দাবী করে প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন তিনি।
উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে গত ৮ সেপ্টেম্বর শহরের চাষাড়া ও কালিবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় শাফায়েত হোসেন শিপন ও মামুন মিয়াকে। পরে ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় কাজলকে। এদিকে বুধবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ভাতিজা এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ ও জাতীয় পার্টির নেতা প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের গাড়ি চালক জামশেদকে। গ্রেফতারকৃত শাফায়েত হোসেন শিপন, মামুন এবং কাজলকে পৃথকভাবে ৬ ও ৫ দিনের রিমান্ডে আনা হয়। অপরদিকে আজমেরীর গাড়ি চালক জামশেদকে বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদ করে র্যাব। শুনানী শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। নারায়ণগঞ্জ আদালত পরিদর্শক আব্দুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

