বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শুরু হয়েছে। গণঅভ্যুন্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কারের জন্য এই সংলাপ শুরু হয়েছে। সংলাপে বিএনপি, জামাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করছে। চলমান এই সংলাপে জাতীয় পার্টিকে না ডাকার আহ্বান জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান। যদি সংলাপে জাতীয় পার্টিকে ডাকা হয় তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি করেন এই নেতা। সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ২নং ওয়ার্ডের দশ পাইপ এলাকায় মহানগর কমিটি ঘোষনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন রাশেদ খান। এসময় তিনি জাতীয় পার্টিকে জাতীয় কুলাঙ্গার পার্টি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, আওয়ামীলীগ যে দোষে দোষী, জাতীয় পার্টিও সেই একই দোষ দোষী। আওয়ামীলীগ যদি রাজনীতি করতে না পারে তাহলে জাতীয় পার্টিও রাজনীতি করতে পারবে না। চৌদ্দ দলে যারা ছিলো তারা সবাই আওয়ামীলীগের দোসর। বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামীলীগ এবং জাতীয় পার্টির নামে রাজনীতি করতে পারবে না। এসময় রাশেদ খান ২০১৪ সাল থেকে যে ডামি নির্বাচন হয়েছে এবং সেগুলোতে যারা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলো সেসক সাংসদদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এসময় তিনি জাতীয়র পর্টির জিএম কাদের ও মজিবুল হক চুন্নুর গ্রেফতারের দাবী জানান। তাদের নামে ইতোমধ্যে মামলা হয়ছে। কিন্তু এই সরকার তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। বরং তাদেরকে সংলাপে ডাকছে। মামলা হওয়ার পরও কিভাবে জিএম কাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করলা? আমরা সেটি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে জানতে চাই। জিএম কাদেরের নামে মামলা আছে। তাকে গ্রেফতার করার কথা। অথচ এই দোসরকে গ্রেফতার না করে সংলাপে বসছে। আমরা এটি মানবো না। নতুন বাংলাদেশে আমরা চাইনা আওয়ামীলীগ ও তার দোসররা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। যদি সেটা করে তাহলে শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা হবে। দোসরদেরকে রাজনীতিতে পুনর্গঠন করা যাবে না। যারা গণহত্যার সাথে জড়িত তাদের যতদিন পর্যন্ত গ্রেফতার না করা হচ্ছে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের পক্ষে। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টি অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ ৩০ থেকে ৪০টি আসন পাবে। তাহলে তারা আবার সংসদে যাবে। এটি হতে দেওয়া যাবে না। আপনারা কি এটি চান? আমরা চাইনা এই পাচারকারী এবং গণহত্যাকারীরা আবার সংসদে পুনর্বাসিত হোক। সুতরাং আওয়ামীলীগ জাতীয়পার্টিকে না বলতে হবে। তারুণ্যের শক্তিকে হ্যা বলতে হবে। শেখ হাসিনা চট করে দেশে ফিরে আসতে চায়। আমরা চট করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিতে চাই না। কোন ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে মেনে নেয়া হবে না। শেখ হাসিনাকে দেশে আনা হবে বন্দি চুক্তির মাধ্যমে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এবং তাদেরকেই শেখ হাসিনার সর্ব্বোচ্চ শাস্তির নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী আরিফ ভূইয়াকে সভাপতি, রুহুল আমিন (রাহুল)-কে সাধারণ সম্পাদক ও রাকিব মাহমুদ কালামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৪৪ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি ষোঘণা করা হয়। পরবর্তীতে এর সদস্য সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন নব গঠিত মহানগর কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী আরিফ ভ্ইূয়া। দপ্তর সম্পাদক শাহিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সমন্বয়ক শাকিল উজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান মিল্কি, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ প্রমুখ।

