বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ডিএনডির জলাবদ্ধতা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে নিরসন, খাল-জলাশয় দখলমুক্ত করা, নষ্ট পাম্প মেরামতসহ পর্যাপ্ত পাম্পের ব্যবস্থা করে পানি নিষ্কাশন করা, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তাঘাট সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ সকাল ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ, ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে মিছিল ও ১২ টায় জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্মারকলিপি দেয়ার পূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জালকুড়ি, কোতালেরবাগ, দক্ষিণ সস্তাপুর, বুড়িরদোকান, ইসদাইর, গাবতলী, সেয়াচর, রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূক্তভোগী সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। সমাবেশ দুটিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ জেলা ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, সিপিবি নেতা বিমল কান্তি দাস, ইকবাল হোসেন, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, এস এম কাদির। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও নেতা হিমাংশু সাহা, ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিএনডি বাধ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বৃষ্টির মৌসুমে প্রতি বছর জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই এলাকায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ), নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অংশ, একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এখানে বর্তমানে ২০ লক্ষাধিক মানুষের বাস। এখানে রয়েছে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসসহ বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বাণিজ্য। রয়েছে অনেক স্কুল, কলেজ। বাধের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় ৩/৪ ফুট পর্যন্ত জলাবদ্ধতা থাকায় কারখানায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে, রাস্তা-ঘাট ডুবে থাকায় জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক সংকট হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইরি ধান চাষের জন্য ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে স্বাধীনতার পূর্বে ডিএনডি বাঁধ তৈরী করা হয়। ৩২.৮ কিলোমিটার বাঁধের অভ্যন্তরে ৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা বর্তমানে ২০ লক্ষাধিক মানুষের আবাসিক ও শিল্প এলাকায় পরিণত হয়েছে। যখন সেচ প্রকল্প ছিল পানি প্রবাহের জন্য কংস নদ, নলখালী খালের মত ৯টি জলাশয় এবং আরো ৯টি শাখা খাল ছিল। এছাড়াও ছিল আরও ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। ছোট-বড় ১৮৬ কিলোমিটার খাল এঁকেবেঁকে অবস্থান করত। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় খাল দখল-ভরাট করে স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় পানি প্রবাহের মাধ্যম্গুলো বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতে হাঁটু পানিতে ডুবে যায় ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট । বেশি বৃষ্টিতে তৈরি হয় কৃত্রিম বন্যা ।
নেতৃবৃন্দ বলেন ডিএনডি বাধ এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ৫১ বছর আগে স্থাপিত পুরনো পাম্প হাউজ আছে। এর ৪টি মোটরে পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ছিল ৫১২ কিউসেক। বর্তমানে একটি মোটর নষ্ট। বাকীগুলো পুরনো হওয়ার কারনে আগের মত পানি নিষ্কাশন করতে পারে না। সহযোগী ২২টি স্যালো মোটরের ১৭টিই নষ্ট। সংশ্লিট এলাকার জনপ্রতিনিধি, সরকার কেহই এগুলো কার্যকরী করার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিচেছন না। ২০১৬ সালে ডিএনডি বাধ এলাকার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়াী সমাধানে একনেকের বৈঠকে ৫৫৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়নের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবী করেন। অন্যথায় সমস্ত এলাকাবাসিকে সাথে নিয়ে সমস্ত বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দেন।

