বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে করোনায় থামবে না পড়া স্লোগানে করোনা দুর্যোগেও পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে স্বেচ্ছাশ্রমে বিনাবেতনের স্কুল অদম্য পাঠশালার র্কাযক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । গতকাল বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের (বীর উত্তম) এর ৪৪ তম ফাঁসি দিবস উপলক্ষে আজ ২২/০৭/২০২০ ” আমাদের অদম্য পাঠশালার উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহের স্মরণে নারায়ণগঞ্জ সদরের নিতাইগঞ্জ রিষিপাড়া অঞ্চলে আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল ,অর্থ সম্পাদক মুন্নি সরদারসহ অদম্য পাঠশালার শিক্ষকবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১ নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর ঐতিহাসিক কামালপুরের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার সময় পাক সেনাদের গোলায় মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়। ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যাট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। সেনাবাহিনী সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে তৎকালীন সরকারের সাথে মত পার্থক্য হলে ৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। সেনাবাহিনীর আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙ্গে জনতার বাহিনী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। সমাজতন্ত্রে বিশ^াসী কর্নেল তাহের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার প্রধান ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সে অভ্যুত্থান ছিনতাই করে জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতা করায়ত্ব করে। একটি প্রহসনের বিচারে মাধ্যমে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়। প্রকাশ্য আদালতে সিপাহী জনতার প্রিয় কর্নেল তাহেরের বিচার তারা করতে সাহস পায়নি, করেছে কারাগারের অভ্যন্তরে গোপন সামরিক আদালতে। দেশ প্রেমের উজ¦ল দষ্টান্ত কর্নেল তাহেরের জীবন সংগ্রাম ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে নিয়ে আসা অতীবজরুরী।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা সংক্রমনে বাংলাদেশ বিপর্যস্ত। সাধারণ নি¤œ আয়ের মানুষ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। করোনা অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনায় বড় ধরণের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে নি¤œ আয়ের মানুষের সন্তানদের। শ্রমজীবি মানুষদের সন্তানদের অনেকাংশের শিক্ষা থেকে ঝড়েপড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় ঝড়েপড়া রোধে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিনাবেতনের পাঠশালার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারাই ধারাবাহিকতায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এই ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে খাতা ও কলম দেওয়া হয়।
সারাদেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এই অদম্য পাঠশালার কার্যক্রম এই ঝড়ে পড়া কিছু পরিমান হলেও রোধ করতে পারবে বলে আমাদের বিশ^াস।

