বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নিজের আখের গোছাতে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে প্রার্থীরা। ইতিমধ্যেই আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রত্যাশী হয়েছেন একসময়ের ছাত্রদল নেতা সায়েম আহাম্মেদ। করছেন সভা সমাবেশ এমনকি বঙ্গবন্ধু ছবির সাথে নিজের ছবি লাগিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে শহরময় লাগিয়েছেন রঙ্গিন পোষ্টার। এ নিয়ে শহরময় বইছে সমালোচনার ঝড়। প্রশ্ন ঘুরছে কার আশ্রয় প্রশয়ে বিএনপির রাজনীতি করা সায়েম আহাম্মেদ এখন আওয়ামীলীগ নেতা? হাইব্রিড কাউয়া রাজনীতি অঙ্গণের একটি আলোচিত পরিচিত শব্দ। টানা তিনবার ক্ষমতা থাকায় কিছু স্বার্থনেশী নেতা নিজের দল ভারী করতে সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানী, টাউট-বাটপাড়দের দলে ঢুকাচ্ছেন। আর এই সুযোগে নিজের আখের গোছাচ্ছেন নব্য আওয়ামীলীগরা। দীর্ঘ সময় ক্ষমতা থাকায় এ যেন সবাই আওয়ামীলীগ। যার কারনে দলের ত্যাগী তৃনমূল বঞ্চিত হয়ে হয়ে পরেছে কোনঠাশা। কোথায় কোথায় নব্য আওয়ামীলীগারদের হাতে ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা মার খাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। না হলে বিএনপি জামাত থেকে হাইব্রিড কাউয়ারা যেখানেরই যে অপরাধ সংঘটিত করবে সেখানে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার খবর প্রচার হলে সেটা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে কলুষিত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে বিএনপি নেতাদের একাধিক সূত্র জানা যায়, আলীরটেক নিবাসী সায়েম আহাম্মেদ ছাত্রদলের সক্রিয় একজন নেতা। তৎকালীন সময়ে বিএনপি সকল কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশহগ্রহন করতেন সে। সেই সময়ে জেলা ছাত্রদের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ করেছিলেন এই সায়েম। তবে তার স্বার্থনেশীর কারনে তিনি তাতে ব্যর্থ হন। ইতিমধ্যে বনে গেছেন অঢেল সম্পদের মালিক। সুযোগ সন্ধানী সায়েম নির্বাচনে সুবিধা নিতে এখন বনে গেছেন আওয়ামীলীগ নেতা। এরা আসলে কোন দলেরই হতে পারেনা। এরা আসলে নিজের আখের গোছাতে যখন যে দল প্রয়োজন সে দলে ঢুকে নাম ব্যবহার করে। সায়েম আহাম্মেদকে বিএনপি সক্রিয় ক্যাডাদের সাথে এখনো সখ্যতা রেখে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, সায়েম আহাম্মেদ নামে কারো আওয়ামীলীগে কোন পদে নেই। এরা তো এখন দেখা যায় আমাদের থেকে আওয়ামীলীগের বড় নেতা। হাইব্রিড কাউয়া সুসময়ে ফল খেতে আসে দলের দুঃসময়ে এদের খোঁজে পাওয়া যায়না। বিএনপি জামাত করা লোকদের আওয়ামীলীগে ঠাই দেওয়া হবেনা।
মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, বিএনপি জামাত করা লোকদের আওয়ামীলীগে যোগ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কেউ কেউ ব্যক্তির কথা চিন্তা করে নিজের দল ভারী করতে এদেরকে প্রশ্রয় দেয়। সত্যিকার অর্থে যারা আওয়ামীলীগ করে দলীয় নেতৃত্ব মেনে চলে তাদের থেকে হাইব্রিডের কোন প্রশয় থাকবে না। একসময় ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা সায়েম আহাম্মেদ বঙ্গবন্ধু ছবির সাথে নিজের ছবি দিয়ে পোষ্টার করে আওয়ামীলীগ নেতা দাবি করছে সে কি আওয়ামীলীগের কেউ? উত্তরে শাহ নিজাম বলেন সে তো আওয়ামীলীগের কেউ না।
এ বিষয়ে বর্তমান ছাত্রদলের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, সায়েম আহাম্মেদ মূলত সুবিধাবাদি। একসময় ছাত্রদলের রাজনীতি করতো। এখন নির্বাচনে সুবিধা নিতে আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ার জন্য মরিয়া হওয়ার চেষ্টা করছে। যখন যেখানে সুবিধা পাওয়া যায় তারা সেখানেরই অবস্থান করেন। এরা কোন দলের হতে পারেন। এরা উভয়ই দলেরই হাইব্রিড কাউয়া।
ছাত্রদল নেতা কাম আওয়ামীলীগ নেতা দাবি করা সায়েম আহাম্মেদ এ বিষয়ে বলেন, এবার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি তৃনমূল মূল্যায়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থীতা পাবো বলে আশাবাদী। কেউ কেউ চায়না আমি নির্বাচন করি। একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন আমি অনেক আগেই থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। আমি কখনো ছাত্রদল করিনি।

