বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরের চৌরাপাড়্য়া ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ করছে নাম পরিচয়হীন ভুইফোঁড় একটি প্রতিষ্ঠান। যাদের না আছে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা, না আছে দক্ষ জনবল, না আছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। কোন রকম অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেবল মাত্র গায়ের জোরে পানি ও গ্যাস লাইনের ওপর দিয়ে নেয়া হচ্ছে বিপজ্জনক এই লাইন। অদক্ষ অনভিজ্ঞ হওয়ায় মেশিনে মাটি কাটার সময় কাটা পড়ছে গ্রাহকের পানি ও গ্যাস পাইপ লাইন। সন্ত্রাসীদের দিয়ে কাজটি করানো হচ্ছে বলে কাউকে তোয়াক্কা করছেনা তারা। অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জানান, বন্দরের দেউলী চৌরাপাড়া এলাকায় মাটির নীচ দিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন টানছে লক্ষণখোলার সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল। টেন্ডার ছাড়াই লাইনের যাবতীয় অবকাঠামো স্থাপনের দায়িত্ব পায় সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলের দালাল হিসেবে পরিচিত ও পরিচালক ইসহাক খানের চামচাখ্যাত চৌরাপাড়ার কাইল্যা শাহা , ফজু গং। এদের সহযোগিতা করছে এলাকার আসাদ মিয়া, শহীদুল্লাহ মাস্টার, নাজিমউদ্দিন, শাহজাহান মোল্লাসহ কতিপয় প্রভাবশালী দালাল। এলাকাবাসী জানান, বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন স্থাপনে এদের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। নেই কোন ত্বরিৎ প্রকৌশলী , অভিজ্ঞতা সম্পন্ বিদ্যুৎ কর্মী ও নেই তাদের। লোকাল লেবার দিয়ে কমমূল্যে নিম্ন মানের কাজ করানো হচ্ছে। মাটি খোড়ার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওয়াসার পাইপ লাইন ও তিতাসের গ্যাস লাইন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে ওয়াসার মূল সঞ্চালন লাইনের উপর দিয়ে আরসিসি ঢালাই করে স্থাপন করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক লাইন। এতে ভবিষ্যতে পানির পাইপ লাইন সংস্কারের প্রয়োজন হলে সংস্কার করা দুরুহ হবে বলে এলাকাবাসী জানান। গ্যাস লাইনের অবস্থা ও অনুরূপ।
এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় জনসাধারণ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাধার মুখে জনবসতিপূর্ণ এলাকার উপর দিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন স্থাপনে ব্যর্থ হয়ে ১০ কিলোমিটার রাস্তা খুঁড়ে মাটির নীচ দিয়ে লাইন স্থাপন করছে সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল। ৫ মাস আগে এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের চেষ্টা করে সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীদের বাঁধার কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন না করে পিছু হটে একটি টেক্সটাইল মিলের পক্ষে খুঁটি স্থাপন করতে আসা বিদ্যুৎ কর্মীরা।
এলাকাবাসী জানান, সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলটি লক্ষণখোলা এলাকায় অবস্থিত। মিল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সঞ্চালন লাইন লক্ষণখোলা এলাকা দিয়ে নিতে চাইলে বিপদজনক হওয়ায় বাধ সাধেন সেখানকার অধিবাসীরা। প্রতিবাদের মুখে লক্ষণখোলা এলাকা দিয়ে না নিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা ঘুরিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী মস্তান ম্যানেজ করে অপর এলাকা দেউলী চৌরাপাড়ার মত অতি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা দিয়ে নিচ্ছে। কবি নজরুল স্কুল সড়কে তিতাস গ্যাস ও ওয়াসার সঞ্চালন লাইনের উপর বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের জন্য মেশিনে মাটি খোড়ার কাজ শুরু করে। এতে বাধা দেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনটি গ্যাস লাইন ও পানির লাইনের উপড়ে স্থাপন করা হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন। এ ছাড়া ৬ ফুট গভীর করে গর্ত খুঁড়ার কথা থাকলেও গর্ত করা হচ্ছে মাত্র ২/৩ ফুট করে। এর আগে সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলের নেয়া ১১ হাজার ভোল্ট ক্ষমতা সম্পন্ন সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ব্যক্তি নিহত ও দুটি গরু মারা যায় বলে এলাকাবাসী জানান।

