বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নদী পারাপারে যাত্রীদের কাছ থেকে নৌকার মাঝিদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে তিনি নৌকার মাঝিদের সমঝোত হওয়ার অনুরোধ রেখে যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ টাকার উর্ধে ভাড়া না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বন্দরের সাধারণ মানুষ এবং নারী সহ শ্রমিকদের নদী পারাপারের সুবিধার্থে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে নদী পারাপারে সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে টোল ফ্রি করে দেওয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর নিয়মিত সরকারী ইজারা টাকা তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে আসছেন। যাত্রীদের টোল ফ্রি করার পূর্বে উক্ত ঘাট দিয়ে যাতায়াত কালে যাত্রীদের নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। ইজারাদাররা টোল হিসেবে প্রতিজন যাত্রী থেকে ৫০ পয়সা করে আদায় করতেন। পাশাপাশি যাত্রীর সাথে থাকা হাঁস, মুরগি, আসবাবপত্র, সাইকেল, এমনকি সাথে থাকা সুটকেসের জন্য টোল আদায় করা হতো। যা কিনা রীতিমত সাধারণ মানুষের অত্যাচারের সামিল ছিল। আর উক্ত খেয়াঘাট দিয়ে যে সকল নৌকা দিয়ে যাত্রী পার করা হতো সেই সকল প্রতিটি নৌকার জন্য প্রতিদিন ৩০ টাকা করে জমা আদায় করতেন ইজারাদারা। সেই সময় নৌকা ভাড়া ছিল জনপ্রতি ২ টাকা।
নদী পারাপারে যাত্রীদের টোল ফ্রি করে দেওয়ার পূর্বে এমপি সেলিম ওসমান খেয়াঘাটের নৌকার মাঝিদের সাথে কয়েকদফা আলোচনায় বসেন। আলোচনার মাধ্যমে তিনি যাত্রীদের টোল ফ্রি করে দেওয়ার পাশাপাশি মাঝিদের প্রতিদিন ঘাট জমার ৩০টাকা সম্পূর্ন ফ্রি করে দেন। সেই সময় উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নৌকার মাঝিরা যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২টাকা করে ভাড়া নিবেন। আর রিজার্ভের ক্ষেত্রে ৩০টাকা। প্রতিটি নৌকায় তারা ১৫ জনের বেশি যাত্রী তুলবেন না। কয়েক দফার আলোচনায় মাঝিদের সম্মতিক্রমে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে নদীর পারাপারে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেলে যাত্রীদের নিরাপদে পারাপারের সুব্যবস্থা করতে বন্দর খেয়াঘাট দিয়ে ১০টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালু করা হয়। যেখানে যাত্রীরা কোন প্রকার টোল প্রদান ছাড়া মাত্র ২ টাকা ট্রলার ভাড়া দিয়ে নদী পারাপার করতে পারছেন।
এমতাবস্থায় নৌকার মাঝিদের ৫টাকা করে ভাড়া আদায় করা যাত্রীদের সাথে আমানবিক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি নৌকার মাঝিরা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫টাকা করে ভাড়া আদায় করা বন্ধ না করেন তাহলে ঘাটের ইজাদারের সাথে আলোচনার করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
