বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
গত ২২ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় পরিদর্শনে এসে মহাসড়কের একাংশ দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেন স্থানীয় প্রসাশনকে। তারই প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর (সওজের) ফুটপাত ও মহাসড়কের একাংশ দখল করা চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।
জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা কাঁচপুর এলাকায় ১ হাজারেরও বেশী দোকানপাট নিমার্ণ করে মাসে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে। প্রতি দোকান থেকে মাসিক ও দৈনিক হিসেবে এ চাঁদার টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফুটপাত থেকে অগ্রিম বাবদ ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোশারফ ওমর দেড় শতাধিক দোকান বসিয়ে প্রতি দিন কয়েক হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন। সোনারগাঁ ফিলিং স্টেশনের সরকারী জায়গা দখল কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শ্রমিকলীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান মিয়া প্রায় ৪ শতাধিক দোকান নিমার্ণ করে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা, আবুল খায়ের নামে এক ব্যক্তি দুইশতাধিক দোকান বসিয়ে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন। কাঁচপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিন মিয়া ও তার ভাই আক্তার হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা আমান খাঁন, আকমল হোসেন শতাধিক দোকান ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
কাঁচপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, ‘এটা উচ্ছেদ নাটক। এ নাটকের রাইটার দখলদার রাজনীতিবিদ, পরিচালক সওজ ও জনপদ, অভিনয়ে প্রশাসন, এ্যাকশন রুলে পুলিশ, দর্শক বোকা বাঙালী আর ভূক্তভোগী কিস্তিতে ভারাক্রান্ত হকাররা। কারন সরকারী জায়গা থেকে সড়ক ও জনপদের লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে দোকান পাট উচ্ছেদের পরপরই আবারও অবৈধ দখলদারেরা দোকানপাট নিমার্ণ করে ফেলেন। যত বার দোকান ভাঙ্গা হয় ততবার আমাদের অগ্রিম দিতে হয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, যতবার দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে তত বারই সওজের কর্মকর্তা ও পুলিশকে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে অগ্রীম বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। আমারা না খেয়ে থাকলেও তাদের (চাঁদাবাজদের) কোন আসে যায় না। বার বার অগ্রীম টাকা দিয়ে আমরা নিঃশ্ব হয়ে পড়েছি।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের (সওজের) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান ফারহান জানান, মহাসড়কে যান চলাচল করতে যেন বাধার সম্মুখিন না হয় সে জন্য মহাসড়কের পাশ থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
অভিযান পরিচালনাকারী সোনারগা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোবায়েত হায়াত শিপলু জানান, মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
