বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
করোনা মহামারীতে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মানুষ যখন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন। সরকারী বেসরকারী বেশীরভাগ হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়ে যেখানে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। সেখানে বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ন বিনা খরচে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাজেদা হাসপাতাল। এ নিয়ে রিপোর্ট করছেন নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধী গৌতম সাহা।
করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের সাজেদা হাসপাতাল। গত ২১ মার্চ থেকে বেসরকারী পর্যায়ে নিজেদের অর্থায়নে সম্পূর্ন বিনা খরচে রোগীদের খাবার, ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন এই হাসপাতালটি। করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাসা থেকে এ্যাম্বুলেন্স করে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে আনছেন বিনা খরচে তারা। এইসব রোগীদের সেবায় হাসপাতালটির প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে দেড় কোটি টাকা। রোগীর আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস খরচও বহন করছেন এই সাজেদা হাসপাতাল। হাসপাতালটিতে দেখা গেছে করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী শিশু রোগীকে নিজ হাতে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মী ও ডাক্তাররা। নারায়ণগঞ্জের আশেপাশের মানুষ এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালটিতে রোগীদের সেবায় ২৪ ঘন্টা পর্যায়ক্রমে কাজ করছেন ডাক্তার, নার্স সহ ১০০ জন স্টাফ। এই পর্যন্ত প্রায় ২০০ এর অধিক করোনা রোগীর সেবা প্রদান করেছেন তারা। তাদের সেবা নিয়ে ১৫০ এর অধিক করোনা রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এই হাসপাতাল থেকে। মহামারীর শেষ অবধি এই চিকিৎসা সেবা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্র্র্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য হওয়া করোনা রোগী ও বর্তমানে চিকিৎসা নেওয়া একাধিক রোগীরা জানান,
ভর্তি হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগীরা সাজেদা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন সম্পূর্ন বিনা খরচে আন্তরিকভাবে এই হাসপাতালের ডাক্তার নার্স আমাদের সেবা দিচ্ছেন। অনেকেই তাদের সেবায় নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন এবং বর্তমানে সেবা নিচ্ছেন। দিনরাত ২৪ ঘন্টা তাদের সেবা দিচ্ছেন বলে জানায় রোগীরা।
এ বিষয়ে সাজেদা হাসপাতালটির ইনচার্জ ডা. ইবনে নাকিব জানান, আমাদের একটা আলদা টিম আছে তাদের কাজ হচ্ছে রোগীদের খাবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা । কেউ যদি নিজ হাতে না খেতে পারে তাহলে আমাদের স্টাফদের দায়িত্ব দেওয়া আছে রোগীকে নিজ হাতে খাইয়ে দেওয়ার এবং সার্বক্ষনিক চেষ্টা করা। সরকার থেকে আমরা সার্বিক সহযোগীতা চাচ্ছি। আমাদের ইচ্ছা আছে করোনা রোগীদের সেবা বিনামূল্যে দিয়ে যাবো।
সাজেদা হাসপাতালের ম্যানেজার মো. ওবায়েদুল্লাহ জানান, আমরা ২০২ জন রোগী দিয়ে শুরু করেছি এর মধ্যে ১৫১ জন রোগী সুস্থ্য হয়ে গেছেন। আমরা সেবা দিতে আসছি। আমরা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবো।
সাজেদা হাসপাতালের আইসিইউ সিনিয়র ইনচার্জ ডা. মো সানি- জানান, যাদের করোনা আছে দেখা যাচ্ছে করোনার কারনে ডায়ালাইসিস করাতে পারছেনা আমার রোগীকে সেবা দিচ্ছি। আমরা এখন পর্যন্ত রোগীদের সফলভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পেরেছি।
ওয়ার্ড ইনচার্জ ডা. মো. আরিফ জানান, আমাদের এখানে কোভিড নাইনটিন পেশেন্ট নিয়ে আমরা দুইমাসের উপর কাজ করছি। রোগী আসলে প্রথমে আমরা অভজারবেশনে রেখে ডিসিশন নেই সে আইসিও তে যাবে না ওয়ার্ড যাবে।
হাসপাতালটির অন্যান্য ডাক্তাররা জানায়, করোনা রোগীদের দিনরাত আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি শেষ অবধি এই সেবা দিয়ে যাবো। উন্নত মানের খাবার ও চিকিৎসা সেবাও বহন করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমাদের জন্যও আলদা থাকার ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রীরও ব্যবস্থা রেখেছেন হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।
সাজেদা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারী সহযোগীতা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হাসপাতালটির কর্র্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত এই করোনা মহামারীর যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন বলে জানায় তারা।

