বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
বিদেশ থেকে জিটুজি’র মাধ্যমে আমদানির নামে কমিশন বাণিজ্য করতেই সরকারের ঘরে চাল-গম মজুদে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ রেখে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে গত বছরের চেয়ে অনেক কম খাদ্যশস্য সংগ্রহ করায় তৈরি হয়েছে এই সংকট। খোদ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালীরা এই সিন্ডিকেটে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
বোরো উঠার পর বছরের এই সময়ে সরকারি চালের মজুদ থাকার কথা ৬ থেকে ৭ লাখ টন। কিন্তু এখন সরকারি গুদামে চাল আছে মোটে ১ লাখ ৭০ কাজার মেট্রিক টন।
এ মজুদ পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সরকার ভিজিএফ, ভিজিপি, জিআর, টিআরসহ অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীতে চালের পরিবর্তে গম দেয়া শুরু করে । আর এতে করে ৩০ জুনের পর গমের মজুদও ৩ লাখ টন থেকে কমে নেমে আসবে ১ লাখ টনে। চাল-গমের মজুদের এত করুন দশায় আগে কখনো পড়তে হয়নি সরকারকে।
কেন এই সংকট তার কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বেশ কিছু তথ্য। অভ্যন্তরীন উৎস থেকে ধান-গম সংগ্রহের যে লক্ষমাত্রা সরকার নির্ধারণ করে তা পূরণ না করেই আমদানিতে তৎপর হয়ে উঠে খাদ্য মন্ত্রনালয়েরই একটি চক্র।
এ কারণে গেলবার সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করলেও এবার আতপ ও সিদ্ধ মিলিয়ে চাল সংগ্রহ হয় মাত্র ৪৫ হাজার টন। গম সংগ্রহ হয় মাত্র ৮৭ হাজার টন, যা গেলবার ছিল ২ লাখ টন। ঘাটতি পুরনে জিটুজির মাধ্যমে দুই দফায় রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয় ১ লাখ টন গম। আর ভিয়েতনাম থেকে ২ লাখ টন চাল আনার সমঝোতা স্বারক সই করা হয়। অভিযোগ আছে, এসব আমদানির নেপথ্যে রয়েছে ওই চক্রের কমিশন বাণিজ্য।
সূত্রটির দাবি, ওই চক্র চালের আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিলম্বিত করার চেষ্টায় তৎপর। ফলে বেসরকারিভাবে চাল আমদানিও শুরু হয়নি ব্যাপকহারে। আর তাই দেশে চালের মজুদ পৌছে আশংকাজনক পর্যায়ে ।
মজুদ পরিস্থিতি ও সিন্ডিকেটের কমিশন বাণিজ্য নিয়ে দু’দিন চেষ্টা করেও খাদ্য মন্ত্রণালয় কিংবা খাদ্য অধিদপ্তরের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এই সংকটের জন্য সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপিপন্থী মিল মালিকদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
