বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
উত্তর কোরিয়ার কারাগারে ১৭ মাস আটক মার্কিন শিক্ষার্থী ওয়ার্মবিয়ার দেশে ফেরার ১ সপ্তাহের মাথায় মারা যাওয়ার ঘটনাকে মর্যাদাহানিকর বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যুর দায় এড়িয়ে পিয়ংইয়ং অন্য কাওকে দায়ী করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আশা একেবারেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ওটো ওয়ার্মবিয়ারের দেশে ফেরার ১ সপ্তাহের মাথায় মারা যাওয়ার ঘটনা পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
এমনিতেই উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসুচির জেরে দেশটির ওপর নানা ধরণের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ওপর ওটোর মৃত্যু যেন দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনার নতুন ইস্যু।
ওয়ার্মবিয়ারের পরিবারের অভিযোগ উত্তর কোরিয়ায় নির্মম নির্যাতনের কারণেই তাদের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের মত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অভিযোগ করেন, উত্তর কোরিয়ার অবহেলা ও নির্মম নির্যাতনের কারণেই ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ওটোর সঙ্গে যা ঘটেছে তা অপমানজনক। কোনভাবেই এমনটা ঘটতে দেয়া উচিত হয়নি। ওটোকে আরও অনেক আগেই দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত ছিলো, তাহলে হয়তো এমনটা ঘটতো না।’
কয়েক মাস আগে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ওয়ার্মের মৃত্যুর ঘটনায় সে আশা একবারেই ক্ষীণ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউস মুখপাত্র শ্যন স্পাইসার।
স্পাইসার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যখন উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তখনকার চেয়ে এখনকার অবস্থা আলাদা। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান পরিস্থিতিতে পিয়ংইয়ং-এর সঙ্গে বন্ধুত্বের ইচ্ছে প্রেসিডেন্টের আর নেই।’
ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যুর দায় উত্তর কোরিয়ার এবং দেশটি কোনভাবেই এ দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোসেনস্টেইন। তিনি আরও বলেন পিয়ংইয়ং-এর নির্যাতন নিপীড়নই প্রমাণ করে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন।
বৃহস্পতিবার ওহাইয়োতে ওয়ার্মবিয়ারের অসেন্ত্যষ্টিক্রিয়ার কথা রয়েছে। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওটো ওয়ার্মবিয়ার একটি পর্যটক দলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ায় ঘুরতে যাওয়ার পর অপপ্রচারমূলক পোস্টার চুরির অভিযোগে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে আটকের পর ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন উত্তর কোরিয়ার আদালত।
মানবিক কারণে মুক্তি দেওয়ার পর গত ১৩ জুন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়। তখন জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে কোমায় রয়েছেন ওয়ার্মবিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ২২ বছর বয়সী ওই যুবক।
পিয়ইংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, খাদ্যে বিষয়ক্রিয়ার কারণে ওয়ার্মবিয়ার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে একটি ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তারপরই তিনি কোমায় চলে যান। গত সোমবার তার মৃত্যু হয়।
