বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর একটি ক্ষমতা প্রেমিক ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমাদের দেশে প্রতিটা ক্ষেত্রে অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে শুধু জ¦ালিয়ে রাখছে। নেভানোর মত সুযোগ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, চাদাবাজি ও খুন খারাপি বন্ধ না করেন-এখনো আমরা রাজপথ থেকে উঠি নাই। চাঁদাবাজদের বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতা দেখতে চায় না। আমরা আর খুনি ও চাঁদাবাজদের সহযোগী হবো না। বাংলাদেশের মানুষ ও মাটি এখন চায় ইসলামী নীতি ও আদর্শের শাসন।
শুক্রবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার, পিরআর পদ্ধিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও জুলাই ঘোষণা পত্র পাঠের দাবিতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসাইন জাফরী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আবরার, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি দ্বীন ইসলাম। অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে ছিলেন, খেলাফত মজলিশের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব সিরাজুল মামুন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সভাপতি আব্দুল জাব্বার প্রমুখ।
চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ৫ আগস্টের পরে আমাদের আশা ছিল এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে সাজাবো। স্বাধীন হিসেবে আমরা বাংলাদেশে বসবাস করবো। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে ক্ষমতা প্রেমিক একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমাদের দেশকে প্রতিটা ক্ষেত্রে অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে শুধু জ¦ালিয়ে রাখছে। নেভানোর মত সুযোগ পাচ্ছে না।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জুলাই হয়েছে মাত্র এক বছর। এখনও যদি আপনারা চাদাবাজি বন্ধ না করেন,এখনও যদি খুন খারাপি বন্ধ না করেন-এখনো আমরা রাজপথ থেকে উঠি নাই। চাঁদাবাজদের বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে।
চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আরও বলেন, আমাদেরকে চোখ রাঙিয়ে লাভ নাই। আপনাদের ভূমিকা আমরা দেখেছি। বার বার সোহাগের মত পাথর মেরে বাংলাদেশের সন্তানদের মারবেন আর আমরা সেটা দেখতে চাই না। বাংলার জমিনকে আজাদ ও স্বাধীন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতা দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ ও মাটি এখন চায় ইসলামী নীতি ও আদর্শের শাসন।
তিনি বলেন, গত ১৮ জুনের ঢাকার মহাসমাবেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধানরা আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে গেছে। আজকেও নারায়ণগঞ্জের পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল এসে ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের অবদানের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে গিয়েছে। তারা বলেছেন, স্বৈরাচার তাড়ানোর পর তারা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে।
যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ছোট ছোট ছেলেদের সাহসী অবদানের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। তারা বুক পেতে বুলেটের সামনে যে সাহসিকতা দেখিয়েছে সেটা ইতিহাসে বিরল। গতানুগতিক রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের জন্য তারা রক্ত দেয় নাই। তারা রক্ত দিয়েছে একটি আদর্শ কল্যাণকামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে। কোন ফ্যাসিস্ট পুনরায় তৈরি যাতে হতে না পারে সে জন্য।
তিনি আরও বলেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কাউকে শত্রু বানাতে চায় না। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিত্যাগ করে কল্যাণমুখী হতে হবে।
রেজাউল করীম আবরার বলেন, এদেশে আমরা থাকবো কোন খুনিরা থাকতে পারবে না। এদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমান থাকবে কোন চাঁদাবাজ থাকতে পারবে না। আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি না; আমরা রাজনীতি করি আল্লাহর জমিনে তাঁর দ্বীন বাস্তবায়নের জন্য।
