বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যাপক যুদ্ধ চালানো সম্ভব। তবে এই সংকট নিরসনে তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন।আগামী শনিবার ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে রয়টার্সকে দেয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে মাধ্যমেও আমরা সমস্যার ইতি টানাতে পারি। যদিও আমরা কূটনৈতিকভাবেই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী, কিন্তু সেটা খুবই কঠিন।’
তিনি বলেছেন, অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে উত্তর কোরিয়া সংকটের সমাধান চান। এ জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বিবেচনা করছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি চান দক্ষিণ কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাডের মূল্য পরিশোধ করুক। এর মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে চান বলেও জানান।
চুক্তির বিষয়ে কখন ঘোষণা দেবেন জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, খুব তাড়াতাড়ি। আমি এখনই এর ঘোষণা দিচ্ছি।
উত্তর কোরিয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন ট্রাম্প। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি বিশ্বাস করি শি জিনপিং সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তিনি একজন ভালো মানুষ। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি ধ্বংস এবং মৃত্যু দেখতে চান না।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন অল্প বয়সে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তার মাত্র ২৭ বছর বয়স। তার বাবা মারা গেছেন। এরপর তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। এই বয়সে সবকিছু সহজ নয়।
৪২ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনের সঙ্গে আবার আলাপের বিষয় নিয়ে শান্তভাবে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এর আগে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপে চীন ক্ষুব্ধ হয়।
ট্রাম্প বলেন, সমস্যা হলো চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। আমি বুঝতে পারি এই পরিস্থিতে তিনি আমাদের সাহায্য করার জন্য সবকিছু করছেন। এ কারণে আমি এখন তার জন্য কোনো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না। প্রথমে আমি তার (শি জিনপিং) সঙ্গে কথা বলতে চাই।
ইসরায়েল-প্যালেস্টাইনের শান্তি দেখতে চান বলে জানান ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সৌদি আরব নিজেদের অংশের মূল্য পরিশোধ করছে না।
ইসলামি দেশগুলো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, জঙ্গিবাদকে পরাস্ত করতে হবে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই সতর্ক করে বলেন, সেখানে বর্তমানে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে রাশিয়ার একজন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং এ কথা বলেন বলে এক বিবৃতিতে জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিশ্বের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র দেশ চীন। কিন্তু গত কয়েকমাসে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চীনের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীন তাদের প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে আর কখনও পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছে বলেও জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। না হলে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও চীন সতর্ক করেছে বলে জানান তিনি। তবে কি ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে সে বিষয়ে টিলারসন কিছু বলেননি।
যদিও চীন ফেব্রুয়ারিতেই উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য কয়লা।
উত্তর কোরিয়া উসকানি মূলক আচরণ অব্যাহত রাখলে তাদের তেলের চালানের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে বলে এ মাসে চীনা গণমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশ পায়।

