বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিশনন্দী ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের যুবক নয়ককে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ফাসি দিয়ে হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার গড়িমসির অভিযোগ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত নয়নের পরিবার। মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত এক বক্তব্যে জানানো হয়, ১০৭ দিনেও নয়ন হত্যার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়া হয়নি। এমনকি অভিযুক্ত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে নয়ন হত্যার প্রধান আসামি চাচাতো বোন তানিয়া, দূর সম্পর্কের ভাই আমানসহ সকল আসামির শাস্তি ও সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করা হয়।
মামলার বাদী নিপা আক্তার বলেন, আসামীরা ও আমরা একই এলাকার এবং পূর্ব পরিচিত। মামলার প্রধান আসামি তানিয়ার চরিত্র ভালো না। এর আগে আরো ২টি বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পরেও একাধিক ছেলের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল তানিয়া। যে সমস্ত ছেলেদের সঙ্গে তানিয়ার পরকিয়া ছিল এবং প্রেমে লিপ্ত ছিল। ধারণা করা যাচ্ছে আমার ভাই নয়ন তাদের মধ্যে একজন।
একপর্যায়ে আমার ভাই নয়ন তানিয়াকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের পরিবার চরম আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তানিয়ার ও অন্যান্যদের প্ররোচনায় আমার ভাই নয়নকে বিবাহ করিতে চাইতো তানিয়া। ২৫ মে আমার ভাইকে প্ররোচিত করে বিয়ের জন্য মীরপুর নিয়ে যাওয়া হয় এবং আটকে রাখে। এর পরদিন ২৬ মে আমার ছোট ভাইয়ের গলায় ফাস দেয়া জুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দেখেই নিশ্চত হওয়া যায়, এটা আত্মহত্যা নয়। তাই সেদিনই আমরা তানিয়া আক্তার পিতা মো. সিরাজ, আমান পিতা মো. আব্দুল রশিদ, সুলতান পিতা আউয়াল, হাওয়া বেগম পিতা মো. শইয়া, কামিনী পিতা মো. আউয়াল, শিরীন পিতা মো. সিরাজ, ফয়জুল্লাহ পিতা আব্দুল হোসেনকে আসামী করে একটি মামলা করি। কিন্তু এর কোনো সুষ্ঠ তদন্ত হয় না। তাই মৃত্যুর দেড় মাস পর আবার আদালত মামলা দায়ের করি।
আদালত মামলা আমলে নিয়ে, আড়াই হাজার থানা পুলিশকে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলে ও পুলিশ তদন্তের নামে একবার আমাদের বাসায় এসে কিছুক্ষণের কথা বলে চলে আসে। অদ্যবধি মামলায় তদন্তকারী এসআই রাকিব কোটে কোন তদন্ত রিপোর্ট জমা করেন নি। উল্টো মামলার তদন্ত রিপোর্ট কতদিনে জমা দেবেন জিঞ্জাস করলে আমাদের দিনের পর দির ঘোরাচ্ছে। মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন মনে কনেনি। শুধু তাই নয় এসআই রাকিব টাকার বিনিময়ে আসামীপক্ষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতগন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন মৃত নয়নের বাবা তাজ্জুদ্দিন, মা নূর জাহান, বড় ভাই মো. হারুনর রশিদ, বড় বোন ও মামলার বাদী নিপা আক্তার এবং ছোট বোন জামাই মুসা খান অভি প্রমুখ।
