বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আড়াইহাজারে পুলিশ একটি হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার করার কেন্দ্র করে মামলার বাদির বাড়িতে হামলা চালানো অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে বাদির ছোট ভাই রনিকে কুপিয়ে দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে হামলাকারীরা। এ সময় একই পরিবারের অন্তত পাঁচজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে।
এদের মধ্যে গুরুতর আহতরা হলেন, বাদীর স্ত্রী, ছোট ভাই রনি ও মা জাহানারা বেগম। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রনিকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত ১৮ ফেব্রæয়ারি এ হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছাদ্দাম হোসেন। এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের অস্ত্রধারী একদল সন্ত্রাসী বাদির পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামে ২০১২ সালে খুন হন রব মিয়া। এ ঘটনায় মামলা করেন নিহতের ছেলে মাঈনউদ্দিন। ১৫ ফেব্রæয়ারি মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৮ ফেব্রæয়ারি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ইয়ানুছ আলী, রাসেল, জুয়েল, জাকির, আলী হোসেন, হালিম ও আলামিনসহ ১৫ থেকে ১৬ জনের এক দল সন্ত্রাসী বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়।
এ সময় এলোপাতাড়ির হামলায় বাদীর স্ত্রী, ছোট ভাই মোহাম্মদ রনি ও মা জাহানারা বেগমকে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় বাদীর ছোট ভাই কলেজের শিক্ষার্থী রনির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করাসহ তার বাম হাতের কব্জি কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর প্রভাব খাটিয়ে তিনি নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সাদ্দাম। আড়াইহাজার থানা পুলিশের (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এরই মধ্যে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এজাহারে সাদ্দামসহ আরো ৬ থেকে ৭জনের নাম উল্লেখ্য করে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত. আবদুল্যাহ (২৩) নামে হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি স্থানীয় কালাপাহাড়িয়া ইউপির ইজারকান্দী এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে। ২০১২ সালে রব মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়। ধৃত ব্যক্তি এ মামলায় এজাহার নামীয় আসামি। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। সে গোপনে নিজ বাড়িতে আসলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশ সোপর্দ করেন। এ ছাড়াও মামলায় সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের আদালত থেকে তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কালাপাহাড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শহিদুল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলা নং- ২০(৯)১২ইং।

