বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অনুদান সংস্থার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতা ফখরুজ্জামান@তপু ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
দিবাগত রাতে থানাধীন বড় বিনাইরচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার বড় বিনাইরচর এলাকার মহিবুর রহমান ভূইয়ার ছেলে।
বিষয়টি আজ র্যাব-১১ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী ফখরুজ্জামান@তপু ভূঁইয়া একজন পেশাদার প্রতারক। তিনি ও তার সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজসে দাতা সংস্থার আড়ালে সহজ সরল সাধারণ জনগনের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ০৮/০৫/২০২২ তারিখে প্রতারক চক্রের মূলহোতা ফখরুজ্জামান@তপু ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা লক্ষীপুর এ অবস্থিত খিলবাইছা রহমানিয়া মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল এর নিকট নিজেদেরকে অনুদান সংস্থার লোক পরিচয় দিয়ে, মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য ইলেকট্রিক মালামাল ক্রয় করে দেয়ার প্রলোভন দেখায়। সেই হিসেবে ভাইস প্রিন্সিপাল হুমায়ুন কবির তাদেরকে একটি ইলেকট্রিক দোকানে নিয়ে যায়। আসামীরা সেই দোকান থেকে ২,০০০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার মালামাল ক্রয় করে এবং ইলেকট্রিক পণ্য ক্রয়ের মূল্য পরিশোধের নিমিত্তে ইসলামী ব্যাংক মতিঝিল শাখার একটি চেক প্রদান করে। পরবর্তীতে ভূক্তভুগী ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী উক্ত চেক নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের লক্ষীপুর শাখায় গেলে জানতে পারেন উক্ত একাউন্টে কোন টাকা নেই। উক্ত ইলেকট্রিক ব্যবসায়ীর মনে সন্দেহ হলে আসামীর মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে তা বন্ধ দেখায়। সেসময় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালের সাথে ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী যোগাযোগ করলে জানতে পারেন যে, তিনি মূলত তাদের চেনেন না এবং তারা দাতা সংস্থার লোক বলে মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে তার সাথে পরিচিত হন। প্রতারক চক্রটি ইলেকট্রিক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে ক্রয়কৃত ইলেকট্রিক পন্য উক্ত মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য প্রদানের প্রতিশ্রæতি দিয়ে সেই পণ্য মাদ্রাসার উন্নয়নে না দিয়ে সকল ইলেকট্রিক পন্য নিয়ে চক্রের সবাই পলায়ন করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এরই প্রেক্ষিতে র্যাব ১১, সিপিএসসি এর গোয়েন্দা টীম এই ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনুদান সংস্থার আড়ালে টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রতারক ফখরুজ্জামান@তপু ভূঁইয়া এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আড়াইহাজার থানাসহ বিভিন্ন থানায় ০৭ টি প্রতারনার মামলা রয়েছে। এরূপ প্রতারকদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে লক্ষীপুর থানায় এ সংক্রান্তে একটি মামলা রুজু হয়েছে।

