বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পায়ে শিকলে বাঁধা অবস্থায় এক গৃহবধূ আড়াইহাজার থানায় আশ্রয় প্রার্থী হয়েছে।
শুক্রবার (২০ আগষ্ট) দুপুরে পায়ে কোমরে লোহার তালাযুক্ত শিকলে বাঁধা অবস্থায় শাহিদা (১৮) নামে এক গৃহবধূ আড়াইহাজার থানার ডিউটি অফিসারের রুমে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
গৃহবধূ শাহিদা থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান,তার বাড়ি উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শালমদী একতা বাজার এলাকায়। ১ বছর আগে তার পিতা-মাতার পছন্দে তাকে পার্শ্ববর্তী জোকারদিয়া গ্রামের রহিমের ছেলে শরিফুলের সাথে বিয়ে দেন। সম্প্রতি তার স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হয়। এ নিয়ে শাহিদার পিতা-মাতা জোর করে শাহিদাকে তার পিত্রালয়ে নিয়ে আসে। শাহিদা তার স্বামীর বাড়ি যেতে চাইলেও তার পিতা আছমত আলী ও মা নাসিমা বেগম তাকে স্বামীর বাড়ি যেতে দিচ্ছিল না। শাহিদা স্বামীর বাড়ি যেতে জেদ করলে তার পিতা-মাতা ৪আগষ্ট বুধবার থেকে তার দুই পা ও কোমরে লোহার শিকল বেঁধে তালা মেরে বসত ঘরে ফেলে রাখে। তাকে দিনে দুবার খাবার দেওয়া হত। ১৫ দিন শিকলে বাঁধা থেকে ক্লান্ত শাহিদা ২০ আগষ্ট শুক্রবার দুপুরে পেট খারাপ হয়েছে বলে তার মাকে জানান। মা শিকলে বাঁধা অবস্থায় শাহিদাকে টয়লেটে নিয়ে গেলে মায়ের চোখকে ফাঁকি দিয়ে শাহিদা আড়াইহাজার থানায় ডিউটি অফিসারের রুমে এসে আশ্রয় নেন। এ ঘটনার পর থেকে শাহিদার পিতা-মাতা বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যায়। শাহিদার পিতা আছমত আলীর ০১৯৮৯০৪৮৮৭৬ নম্বরে মোবাইলে ফোন দিলে ফোনটি শাহিদার বড় বোন রাহিমা ধরেন। তার পিতা বাড়িতে নাই বলে জানান, তবে তিনি বলেন,শাহিদার স্বামীর আর্থিক অবস্থা আমাদের থেকে ভাল বিধায় তারা আমাদেরকে কোন প্রকার মূল্যায় করেনা। তাছাড়া শাহিদার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন শাহিদাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। তাই তার জীবন বাঁচাতে তাকে তার স্বামীর বাড়িতে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে স্বীকার করেন।
শাহিদার স্বামী শরীফুলের ০১৮৭৭৭৪৫৩২২ মোবাইল নম্বরে ফোন করলে সে ফোন ধরে নাই বিধায় তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
আড়াইহাজার থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক আলমগীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঐ গৃহবধূকে অভিযোগ লিখে আনার জন্য থানার বাইরে পাঠানো হয়েছে।

