বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমাগত ধস ঠেকাতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে হবে অভিমত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। শনিবার (২৪ মে) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ কলেজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন: শিক্ষা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে করণীয়” শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালায় বক্তাগন এই কথা বলেন।
বক্তাগণ প্রতি বছর শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্ব না কমিয়ে বরং বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় পূর্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাসমূহের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত শনিবারের এই জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন স্তরের অংশীজনবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ ড. ফজলুল হক রুমন রেজা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মনিনুর রশিদ। এছাড়াও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাশফাকুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, জেলার সকল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা পর্যায়ের কর্মশালাগুলো থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ ও প্রস্তাবিত করণীয়সমূহ পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর, সমন্বিত ও বাস্তবায়নযোগ্য একশন প্ল্যান প্রণয়ন করা। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সকল অংশীদারের সম্মিলিত মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে দেশপ্রেমের চেতনায় জাগ্রত হতে হবে।
তিনি বলেন,“শুধু ফলাফলনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলায় হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে একটি সহানুভূতিশীল ও মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জাহিদুল ইসলাম বলেন আমাদের যত সম্পদ আছে, তার মূল সম্পদ হচ্ছে আমাদের শিক্ষা।তাই আমাদের জনগনকে শিক্ষিত ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন,আমরা যে দুই চোখ দিয়ে দেখি,তার বাইরেও মনের চোখ জাগ্রত করতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে।
যে শিক্ষা বড়দের সম্মান,ছোটদের স্নেহ করতে শেখায়,যে শিক্ষা সমাজে পজিটিভ পরিবর্তন আনতে পারে,সেই শিক্ষায় কি আমরা শিক্ষিত হতে পারছি,তিনি শিক্ষকদের প্রশ্ন করেন।
তিনি শিক্ষকদের সমাজে রোল মডেল হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, শিক্ষকরা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে কাজ করেন। আর এই শিক্ষাখাতে দক্ষতার অভাব হলে বাংলাদেশ পথ হারাবে।
ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার অনুরোধ করে তিনি আরো বলেন,শিক্ষার্থীরা তো ক্লাসে থাকবে। এর কোন বিকল্প নাই। তারা তো মার্কেটে থাকবে না,রাস্তায় থাকবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মনিনুর রশিদ বলেন শিক্ষাখাতের চলমান অস্থিরতা দূর করতে হলে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে হবে নীতিনির্ধারকদের।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোপাশের দাবীতে ভাইস চ্যান্সেলরের উপর উপর শিক্ষার্থীদের হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,শিক্ষাখাতের এমন নৈরাজ্য দূর করতে হলে সামাজিক ও পারিবারিক স্তরের অস্থিরতাও দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে অধ্যাপক ড. মনিনুর রশিদ আরো বলেন,শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সাথে সাথে মেধাবীরা যাতে শিক্ষক হতে আগ্রহী হয়,সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ জরুরি।
এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও সচেতন হন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কার্যকর অংশগ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
