বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৭০ বছর ধরে বেদখল থাকা ২৩ একর জমি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। জমি নিয়ে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসক দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জমিটি রাষ্ট্রীয় খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করেন। উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, কানুনগো এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী জমিটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। আড়াইহাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন জানান, জমির দাবিদারদের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। গণবিজ্ঞপ্তি ও শুনানির পর প্রমাণিত হয়, সবাই ভুয়া মালিক। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস কে মো. মামুনুর রশীদের সুপারিশে ফাইল জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক নথিতে স্বাক্ষর করে জমিকে ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি আরো জানান, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর জমির মূল মালিক হিন্দু সম্প্রদায় ভারতে চলে গেলে জমিটি অব্যবস্থাপনার সুযোগে স্থানীয় শতাধিক পরিবার চাষাবাদ শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর অনুসারীরা কৃষকদের কাছ থেকে জমি দখল করে অবৈধ বালুর ব্যবসা শুরু করে। পরে চলতি বছরের ৫ আগস্ট বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও জমি দখলে গেলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, “উদ্ধারকৃত জমিতে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক গড়ে তোলা হবে। ইকোপার্ক হলে জমিটি ভবিষ্যতে আর বেদখল হবে না। একইসঙ্গে স্থানীয়রা পর্যটন সুবিধা থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।” জমি উদ্ধার ও ইকোপার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, “আমার দাদা-বাবা এ জমিতে চাষ করতেন। কিন্তু ২০২০ সালে প্রভাবশালীদের হাতে জমি হারাই। সরকার ইকোপার্ক করলে আমাদের আপত্তি নেই, শুধু চাই ভবিষ্যতে কেউ যেন আর দখল করতে না পারে।” ফেরিঘাট জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মতিউর রহমানও একই দাবি জানিয়ে বলেন, উদ্ধারকৃত জমিতে দ্রুত ইকোপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিলে এটি আড়াইহাজারের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

