বিজয় বার্তা ২৪ ডট
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৫টার দিকে নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র—দা, বটি, টেটা, বল্লম—দিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে অন্তত পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে তিনটি বিস্ফোরিত হয় এবং দুইটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে।
ঘটনায় আছমা আক্তার (৪৭), গিয়াসউদ্দিন মিয়া (৪২), হাবিবুল্লাহ মিয়া (৫৫), জলিল মিয়া (৪৫), পিয়ারিস মিয়া (৪০), কামাল হোসেন (৩৪)সহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে আছমা আক্তার, গিয়াসউদ্দিন ও হাবিবুল্লাহ মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাবিবুল্লাহ মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। বাকিদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় রতন মোল্লা জানান, হামলাকারীরা তার মুদি দোকান ভাঙচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। একই এলাকার আরফত আলীর দুটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আড়াইহাজার এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ক্রমেই বেড়ে চলেছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

