বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নিরাপদ সড়কের দাবি সহ ৯ দাবিতে চলমান আন্দোলনের ৬ষ্ঠ দিনেও শিক্ষার্থীরা নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নেমেছেন।
রোববার সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা সংখ্যায় কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের হার আরো বেড়ে যায়।
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তারা অবস্থান নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা মানববন্ধন করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এদিকে বেশ কয়েকজন বাম নেতাকর্মীকের প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন চলাকালে তারা পেছন থেকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলও বাম নেতৃবৃন্দ সরাসরি অংশগ্রহন না করে পেছন থেকে নেতৃত্ব দেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সুষ্ঠু ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা যে নয় দফা দাবি তুলেছেন তা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন। পাশাপাশি শনিবার দুপুর থেকে বিকেলে পর্যন্ত ঢাকার জিগাতলায়-সিটি কলেজ-সায়েন্সল্যাব এলাকায় একদল যুবক যে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল তারও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আজ। চাষাঢ়ায় সরকার দলীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখল করে রেখেছেন। তারা আমাদের আন্দোলকে বাঁধাগ্রস্থ করছেন। আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আগামীকাল আমরা যে কিছুর বিনিময়ে চাষাঢ়া এলাকায় অবস্থান নিবো। কারো বাঁধা মানবো না।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিচ্ছেন। তবে অন্য দিনগুলোর চেয়ে আজ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম দেখা গেছে।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রেস ক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ২ নং রেল গেইট হয়ে আবার প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শেষে আজকের আন্দোলন সমাপ্ত করেন। শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে ২ নং রেল গেইট এলাকায় অবস্থান নেওয়া শহরের যানজটের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ১৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সভা আয়োজন করা হয়। সভায় অংশগ্রহন করতে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে অবস্থান নেয়। তাই শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে অবস্থানের সুযোগ না পেয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে একত্রিত হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ ও সাইনবোর্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেলা ১২ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জে স্কুল কলেজের পোশাক পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় বিআরটিসির একটি বাস ভাংচুর করে স্কুল কলেজের পোশাক পড়া ছাত্ররা।
আজকের আন্দোলন প্রসঙ্গে সফিক নামে এক লোক জানান, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন যৌক্তিক। আমরাও চাই নিরাপদ সড়ক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ইতিমধ্যে অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গেছে। শিক্ষার্থীদের আরো সচেতন হতে হবে। তাদের ৯ দাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছে। কয়েকটি দাবি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সবগুলো পর্যায়েক্রমে বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। এদিকে বাম নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পিছন থেকে উস্কে দিয়ে রাজপথে নামাছেন। তারা নিজেরা রাজপথে নামছেন। যেহেতু আন্দোলনে বহিরাগত প্রবেশ করেছে। এখানে যে কোন ধরনের ভয়াভহ ঘটনা ঘটতে পারে। বামের ইচ্ছে করে নিজেরা সেফ থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রসঙ্গ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (রেডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। আর এসব দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।


