বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতারে বাঁধা, পুলিশের ওপর হামলা সহ পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ মে) রাতে শহরের শহীদ নগর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ওসি নাসির আহমেদ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- সিটি করপোরশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের শহীদনগর ১ নম্বর গলির মো. হানিফের ছেলে হাসিবুর রহমান জিসান (২৮), কাশেমের ছেলে হানিফ (৪০) ও আব্দুল হাইয়ের ছেলে শওকত মিথুন (৪৩)। তারা সবাই মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে, সোমবার রাতে এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. রিপন মৃধা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫২ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০- ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরে রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, এ ঘটনায় ৫২ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০- ২০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৮মে) রাত ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত আইভীর বাড়ি চুনকা কুটিরে প্রবেশ করেন। এসময় আইভীর গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা ও তার নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আইভীর বাড়ির দিকে যাওয়ার দুইটি রাস্তায় বাঁশ, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইভীর সমর্থকরা। আশেপাশের এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকলকে আইভীর বাড়ির দিকে রওয়ানা দেয়ার আহ্বান জানান তারা। শুক্রবার ভোরে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পথিমধ্যে তাকে বহনকারী গাড়ি বহরে হামলা করা হয়। পরে তাকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জের পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সোমবার তার জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দেয়। সাবেক মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় হত্যাসহ ৫টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

