বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ ও রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসানসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপর হামলা ও অফিস ভাংচূড়কারী চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও ২ নং রেল গেইটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা ফোরামের সদস্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ সোনারগাঁ উপজেলার সমন্বয়ক বেলায়েত হোসেন, ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির।
নিখিল দাস বলেন, ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মাসদাইর চৌধুরী কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভা চলাকালে চাঁদাবাজ ঝুট সন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীর, কাউসার, আব্দুল্লার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর করে ও অফিসের আসবাব পত্র ভাংচূড় করে। কিছুুদিন যাবৎ জুটসন্ত্রাসী সুমন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফের কাছে ৭ লাখ টাকা ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল এবং চাঁদা না দিলে শরীফকে হত্যা করবে এবং অফিস উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দিচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, ৮ আগস্ট বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সংগঠকদের সভা চলাকালে সুমন ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাসদ অফিসে প্রবেশ করে শরীফের কাছে চাঁদা দাবি করে হামলা চালায়। সংগঠনের অন্যান্য কর্মীরা শরীফকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাদেরকেও সন্ত্রাসীরা এলোপাথারী মারধর করে ও অফিসের ভিতরে ভাংচূড় চালায়। এতে মারাত্মক আহত হয় রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসান। আরও আহত হয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসনাত কবীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলী, সংগ্রাম পরিষদ নেতা মিলনসহ ১০ জন নেতা-কর্মী। আহতদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
নিখিল দাস বলেন, ঝুটসন্ত্রাসী সুমন ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর বিএনপি-জামাতের শাসনামলে মাসদাইর-গাবতলী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল। সুমনের নামে বহু সন্ত্রাসী মামলা আছে, বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছে এবং মাদকের সাথে যুক্ত। বর্তমানে সুমন ও জাহাঙ্গীর মুখোশ বদল করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তাঘাটে হয়রানি করে, এলাকায় চাঁদাবাজি করে। জাহাঙ্গীর ইন্টারনেট জুয়ারি চক্রের সাথে জড়িত এবং চাঁদাবাজিসহ এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত। প্রশাসনের নির্বিকার ভুমিকার কারণেই এসব সন্ত্রাসীরা আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাসদ অফিসে হামলার পর মামলা হলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। সন্ত্রাসী সুমন ও জাহাঙ্গীর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমাদের সংগঠনের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। সুযোগ পেয়ে শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা বিপ্লব, সেলিম, শরীফের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার পাঁয়তারা করছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

