স্টাফ রিপোর্টার,বিজয় বার্তা ২৪
বান্ধবীকে কটূক্তির অভিযোগে বন্ধুকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জুনায়েদ নামের সেই কিশোরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে জুনায়েদ। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে নুরুল্লাহ নামে এক কিশোরকে মারধর করছে জুনায়েদ। জুনায়েদের অভিযোগ, নুররুল্লাহ তার মেয়েবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। তবে বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল্লাহ। তারপরও থামেনি জুনায়েদ। বিরতিহীনভাবে নুরুল্লাহকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে জুনায়েদ। আহত নুরুল্লাহ বসে পড়লে ফিল্মি কায়দায় তাকে তুলে দাঁড় করিয়ে আবারও মারে জুনায়েদ। লাথি দিতে দিতে জুনায়েদ নুরুল্লাহকে বলে, ‘তুই গুটিবাজ। তুই ওকে খারাপ বলছিস।’ উত্তরে নুরুল্লাহ বলে, ‘আমি গুটিবাজি করলে এখানে একা আসতাম না।’
ভিডিও ফুটেজে আরো দেখা যায়, নুরুল্লাহ মারের হাত থেকে বাঁচতে মিনতি জানাচ্ছে। কিন্তু মায়া হচ্ছে না জুনায়েদের। লম্বা চুলে হাত বুলিয়ে আবার সমানতালে চালাচ্ছে হাত-পা। এ সময় জুনায়েদ বলে, ‘আমি জুনায়েদ, তুই আমাকে চিনিস না।’ নুরুল্লাহর নাক-মুখ দেখিয়ে জুনায়েদ বলে, ‘আমি কাউকে মারলে এই দিক দিয়ে রক্ত বের হয়। তোকে ভাই ভেবেছিলাম, তাই মারতেও মায়া লাগছে।’ অনবরত এমন মারধর দেখে জুনায়েদকে আস্তে মারতে ভিডিও ধারণকারী মৃদুল। মৃদুলকেও মারধরে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায় জুনায়েদ।
গত ১৩ মার্চ রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। গত ১৪ মার্চ রাতে ধানমন্ডি থানায় মামলা করে নুরুল্লাহ।
নুরুল্লাহকে মারধরের ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোডের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই জুনায়েদ নামের সেই কিশোরের শাস্তি দাবি করেন।