“স্বার্থসিদ্ধি নয়,চাই ত্যাগের স্বীকৃতি”

0
শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

মোঃ  সামসুল হাসান,বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

১৯৮৬ সালে বন্দরের বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাশ করে সরকারি তোলারাম মহা-বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বাবা আবুল কাশেম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ কোর্টের পেশকার। বড় ভাই মোঃ কামরুল হাসান একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং পেশায় ব্যাংকার। আমি যখন বুঝতে শিখলাম তখন বাবা ও ভাইয়ের মুখে স্বাধীনতার কথা শুনি কিভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ ও দেশকে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করে আনে। বাবা আওয়ামীলীগ করতেন ভাই মুক্তিযোদ্ধা। তাদের মুখে স্বাধীনতার কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। তোলারাম কলেজে পড়াশোণা করার সময় ভিপি ছিলেন আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল ভাই এবং জিএস ছিলেন আক্তার ভাই। এজিএস ছিলেন মাসুদ ভাই। পরবর্তীতে ভিপি হন বাদল ভাই জিএস হন জাকিরুল আলম হেলাল। সে সময় শাহ নিজাম, জাহাঙ্গীর, কাউছার আহমেদ পলাশ, মনির হোসেন, নান্টু, কাউছার, শিপন, লিটন, বন্দরের জাকির, সামসুল (মানে আমি) পিন্টু, আনু, নাসিম, মাসুম, হাতেম, আসিক, তৌফিক, তারেক, বলাই, মোয়াজ্জেম, মাজহার, কাজী জহির, ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, শাকিল, চুন্নু, বাবু, জয়নাল, আমাদের এক ব্যাচ জুনিয়ার কবির পাপ্পু, মোশারফ, আরিফ, সালাউদ্দিন, মামুন, শেখ কামাল, খান মাসুদ, বিপ্লব, ফারুক, জনি, ফাহিম, ও মানুসহ আরো অনেক ছাত্রলীগের কর্মীরা স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দেশ তখন তুঙ্গে। আমরা সকলে নারায়ণগঞ্জের অগ্নি পুরুষ,নারায়ণগঞ্জের রাখাল রাজা যাকে আমরা আন্দোলনের পুরোধা বলে জানি,যার কথায় নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-জনতা উঠতো বসতো তিনি হচ্ছেন জননেতা একে এম শামীম ওসমান। তোলারাম কলেজের ছাত্ররা শামীম ভাইয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতো। কখন নেতা নির্দেশ দিবেন,মিছিল করতে মিটিং করতে,পিকেটিং করতে,মশাল মিছিল আর জনসভা করতে। তোলারাম কলেজকে বলা হতো ছাত্রলীগের ক্যান্টনমেন্ট। বাদল ভাই ম্লোগান ধরতেন আর মুহুর্তের মধ্যে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী এক হয়ে যেতাম। সে সময় তুখোড় ছাত্র নেতা হেললা-নিজাম জুটি ছিল। আমাদেরকে তারা নিয়ন্ত্রণ করতেন শামীম ভাইয়ের নির্দেশে বাদল ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিদিন সকাল-বিকেল মিছিল-মিটিং হতো। আমরা বন্দর থেকে  সকালে যেতাম সন্ধায় বাড়ি ফিরতাম। এরশাদের পতন প্রায় যখন সন্নিকটে নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা ছিল ‘‘ষে¦রাচার নিপাত যাক,গণতন্ত্র মুক্তি পাক’’অনেক রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার এরশাদ ১৯৯০ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন। শুরু হলো নতুন করে পথ চলা। ১৯৯২সালের ১০জানুয়ারী বন্দর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠাতা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় সামসুল হাসান(আমাকে) ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছালাউদ্দিন। আমাদের সময়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন কামরুল ভাই,সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সেলিম ভাই। পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হন এহসানুল হাসান নিপু,সাধারণ সম্পাদক হন জিএম আরাফাত। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে চলতে থাকে আমাদের রাজনীতি। আমাদের মধ্যে ছিলনা অর্থের লোভ,ছিলনা ক্ষমতার লোভও। যতটুকু পেরেছি ছাত্র-ছাত্রীদের উপকারে কাজ করেছি। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করে। আমরা আন্দোলন সংগ্রামে দিন কাটাই। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। দেশে কোন চাকরী না পেয়ে জীবিকার টানে কিছুদিন দেশের  বাইরে থাকি। কিন্তু সেখানেও দলের জন্য কাজ করি। সৌদী আরবের রিয়াদে থাকাকালীন সময়ে রিয়াদ শাখা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। নোয়াখালির জহির কাকা,ফেনীর নিজাম ভাই আমাদের নেতৃত্ব দিতেন। দেশের বাইরে থাকাবস্থায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি চালিয়ে গেছি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ বিএনপি এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকি। ২০০১সাল হতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি ফের  ক্ষমতায় আসে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জননেতা একেএম শামীম ওসমান দেশ ত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জ  জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক হিসেবে এস এম আকরাম ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা রাজনীতি চালিয়ে যাই। ২০০৬ সাল হতে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা আকড়ে রাখেন। ২০০৮ সালে পূণরায় আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা লাভ করে। এরই মধ্যে শোনা যায়  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে। ২০১১সালের ৮অক্টোবর আমি বাংলাদেশে আসি। ৩০ অক্টোবর সিটি নির্বাচন হয়। শাহ নিজাম ৯ অক্টোবর আমাকে ফোন করে বলেন বন্ধু সামসুল শামীম ভাই আওয়ামীলীগ থেকে নমিনেশন পেয়েছে। তাড়াতাড়ি মাঠে নেমে পড়। আমি আর দেরী না করে শামীম ভাইয়ের দেয়াল ঘড়ি মার্কায় ভোট চাইতে নেমে পড়ি। বিএনপি’র প্রার্থী প্রত্যাহার করে আইভীকে সমর্থন করেন এবং একটাই শ্লোগান ছিল শামীম ওসমান ঠেকাও। পরিকল্পিতভাবে বিএনপি-জামাত জোট মিলে শামীম ভাইকে মেয়র হতে দেননি। তারপরও ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। চেষ্টা করা হয়েছিল শামীম ভাই যেন পরবর্তীতে এমপি হতে না পারেন। কিন্তু অপচেষ্টাকারীদের সেই ষড়যন্ত্র বিফল হয়। শামীম ভাই নির্বাচনের পর আমাদের ডাকলেন ঐতিহ্যবাহী হীরা মহলে। সেখানে ডেকে বললেন চেইঞ্জ ইমেজ,চেইঞ্জ নারায়ণগঞ্জ। নির্দেশ দিলেন যার যার এলাকায় মাদক নির্মূল করো। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াও,সুখ-দুঃখে তাদের সাথী হও। দেখবে আল্লাহর রহমতে সব ঠিক হয়ে যাবে। এরপর ঠিকই শামীম  ভাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধাণমন্ত্রী হয়েছেন। দেশকে নিন্মবিত্ত থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছেন দূর্বার  এখনতো সময় বাংলাদেশের মানুষের মাথা উঁচু করে দাড়াবার। দেশ যখন উন্নয়নমুখী ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জে শুরু হলো নতুন খেলা। শামীম ভাইয়ের নির্দেশে প্রতিটি প্রোগ্রামে ১৬ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস,২৬শে মার্চ,মহান স্বাধীনতা দিবস,২১শে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস,৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস,১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্ত্যন দিবস,১৭মে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্ত্যন দিবস,১১জুন কারামুক্তি দিবস,১৬জুন চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে নারকীয় বোমা হামলায় নিহতদের স্মরনে নানা কর্মসূচী,১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস,আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী,যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী,ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীসহ দলের প্রতিটি কর্মসূচীতে আমরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকি। আমরা ত্বকি হত্যার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার দাবি করেছি। জেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড আই ভি পারভেজ ঘুমের ব্যাপারে আমরা প্রশাসনকে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক অনুরোধ ও কর্মসূচী করেছি। এছাড়াও শামীম ভাইয়ের নির্দেশে রাজপথে অবস্থান করে নারায়ণগঞ্জের যানজট নিরসনে ছাত্র-যুব ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। আবদুল হাই,আনোয়ার হোসেন,ভিপি বাদল,খোকন সাহা,শাহ নিজাম,হেলাল,সজল,নিপু,আহসান হাবিব,জিএম আরাফাত,জিএম আরমান,সাজনু,জুয়েল,সানি, রিয়াদ,বিন্দু যখন আমাদেরকে ডাকেন কোন প্রোগ্রাম আছে তখন নদীর পূর্ব পাড় হতে মিছিল নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে কখনো চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে,কখনো ২নং রেলগেটস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতাম। ২০১৪ সালে ২০দলীয় জোটের জ¦ালাও পোড়াও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মদনপুরে আয়োজিত জাগরন মঞ্চের ধারাবাহিক কর্মসূচীতে রশীদ ভাইয়ের নেতৃত্বে সমবেত হয়ে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি। অতি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের বন্দরের ৯ টি ওয়ার্ডের সম্মেলনে অতিথি থেকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়েছি এবং প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সফলতার সাথে কমিটি গঠন করা হয়। ১৯নং ওয়ার্ড হতে ২৭নং ওয়ার্ড পর্যন্ত যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা প্রত্যেকেই প্রকৃত ছাত্র এবং মেধাবী। বিশেষ করে জিসান,রিপ্ত,মিশুক,শাকিল,রাসেল,রবিন,লিজন,শ্যামল,অপু,সুজন,খোশরান,দীপ্ত,ডালিমের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ২০১১সাল হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দলের প্রয়োজনে নেতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে নিরলসভাবে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আন্দোলন সংগ্রাম মিটিং মিছিল করতে কারো কাছ  থেকে কখনো টাকা-পয়সা নেইনি। যতটুকু পেরেছি নিজের পয়সা  খরচ করে রাজনীতি করেছি। রাজনীতি মানে অর্থ উপার্জন নয়। রাজনীতি মানে টেন্ডারবাজী নয়,রাজনীতি মানে ভূমিদস্যূতা নয়,রাজনীতি মানে অবৈধ পন্থায় টাকা রোজগার নয়। পারলে মানুষের উপকার করার চেস্টা করি আর না পারলে চুপ-চাপ থাকি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করতে চাই। মহান আল্লাহ উপর ভরসা করে থাকি। আর আমার প্রাণপ্রিয় নেতা শামীম ভাইয়ের নির্দেশ মেনে চলি। আগামীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন করা হবে। যদি শামীম ভাই মনে করেন সংগঠনে কাজ করার সুযোগ দিবেন কমিটিতে স্থান করে দিবেন তাহলে আলহামদুল্লিাহ। আর যদি না রাখেন তাতেও কোন দুঃখ কষ্ট নেই। পরিশেষে দৃঢ়তার সাথে  বলতে চাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। আর আমার প্রিয় নেতা শামীম  ভাই উন্নয়নের মাধ্যমে প্রধাণমন্ত্রীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। পরম করুনাময় আল্লাহ আল্লাহ তায়ালার রহমতে ২০১৯ সালের নির্বাচনে শামীম ভাই পূণরায়  এমপি হবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধাণমন্ত্রী হবেন এবং আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করবে ইনশাল্লাহ। বিদায়লগ্নে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে এ দেশকে স্বনির্ভর এবং শান্তিময় হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করছি। সবাই ভাল ও সুস্থ্য থাকুন এই প্রত্যাশা রইল। জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। আল্লাহ হাফেজ। লেখক পরিচিতি: সাবেক সভাপতি,বন্দর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ,নারায়ণগঞ্জ।

শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

Leave A Reply