সাখাওয়াত একা হাটলেও শামীমপন্থিদের নৌকায় তুলতে সক্ষম হলেন আইভি

0
শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

অবশেষে ঘাটে ভেড়া নৌকায় আইভি-শামীমসহ সর্বস্তরের যাত্রী উঠতে শুরু করেছে। শুক্রবারের নারায়নগঞ্জ আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতির পর থেকে পাল্টাতে শুরু করেছে নাসিক নির্বাচনে নেতাকর্মীদের আচরন। শনিবার সকালে মেয়র প্রার্থী ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দলীয় সভাপতি-সেক্রেটারীর বাসায় গিয়ে হাজিরা দিয়েছেন। ফলে শামীম-আইভির মনোমালিন্যের পর্ব পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু- শেখ হাসিনার নৌকায় ঐক্যবদ্ধ প্রস্তুতি নিতে  শুরু করেছে যাত্রীরা। ৫ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নৌকা নিয়ে গন্তব্যে পথে ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শুরু  হতে পারে এমনি ধারনা নেতাকর্মীদের।

অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে একাই হাটছেন এড. সাখাওয়াত। বিএনপির নারায়নগঞ্জ কার্যালয় এখনো সরগরম না না হওয়ায় শনিবার রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের বৈঠক ডেকেছেন দলীয় চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়া। কারন নারায়নগঞ্জের স্থানীয় নেতাদের বারবার ডেকে কোন্দল সুরাহার চেষ্টা করলেও দলীয় মনোনীত প্রার্থী  এড.সাখাওয়াতের গনসংযোগে প্রানের সঞ্চার হচ্ছে না। ধানের শীষ প্রতীক হলেও নারায়নগঞ্জের বহিরাগত বাসিন্দা এড. সাখাওয়াতের মত প্রার্থীতা নিয়ে এখনো  সাহস পাচ্ছে না শীর্ষ নেতাকর্মীরা। শুক্রবার বিকালে নারায়নগঞ্জের কার্যালয়ে জেলা সভাপতি ও মনোনয়ন বিমুখ তৈমুর আলম খন্দকারের উপস্থিতি থাকলেও শুধুমাত্র আবু আল ইউছুফকেই দেখা যাচ্ছে এড. সাখাওয়াতের গনসংযোগে। তবে ৫ তারিখের পরে প্রতীক পেলেই দৃশ্য পাল্টায় কিনা তা দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।

নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে  আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয় দলেই বিরোধ থাকলেও নগরবাসীর দৃষ্টি ছিল শামীম- আইভির দিকে বেশী। মনোনয়ন প্রাপ্তি থেকে জমা পর্যন্ত শামীম- আইভি উভয়েই বিপরীত মেরুতেই অবস্থান নিয়েছিল। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে উভয়ের মনোমালিন্য মেটানোর চেষ্টা করলেও শুক্রবারের আগ পর্যন্ত বরফ গলছিল না। এ অবস্থায় নৌকা প্রতীকের বিজয় নিয়ে দলীয নেতাকর্মীরা সংশয়ে থাকার পর শুক্রবার বিকালে অসীম কুমার উকীলের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে শামীম- আইভি উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়।

এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকার নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরে আইভিকে শোধরানোর দাবী জানান কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। তখন কার্যালয়ের বাইরে সমবেত হাজারো নেতাকর্মীর শ্লোগান ছিল “আইভির নৌকা আর শামীম ওসমানের নৌকা,শেখ হাসিনার নৌকা আর বঙ্গন্ধুর নৌকা।” সেই শ্লোগানে উজ্জীবিত হয়েই ঐক্যের পালে হাওয়া লাগলে ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নেয় নেতাকর্মীরা। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালেই মেয়র প্রার্থী আইভি ছুটে যান সিদ্ধিরগঞ্জে সভাপতি মজিবুর রহমান আর সাধারন সম্পাদক ইয়াছিনের বাসভবনে। সেখানে ফুলের নৌকা দিয়েই আইভীকে স্বাগত জানিয়ে নৌকার বিজয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। ফলে পাল্টে যায় দৃশ্য। আইভির উন্নয়ন আর ব্যাক্তি ইমেজের সাথে শামীম ওসমানের কর্মীবাহিনী মিলে নৌকা পালে হাওয়া লাগবেই এমনি ধারনা নেতাকর্মীদের।
অপরদিকে ২নং রেলগেইট এলাকায় কার্যালয়ে ভেতরে এবং বাইরে যখন আওয়ামীলীগের মিলনমেলা চলছিল ঠিক তখনি সামান্য দুরে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে ছিল গুটি কয়েক নেতাকর্মীর নিস্প্রান সভা। সেখানে মনোনয়নবিমুখ জেলা বিএনপি সভাপতি এড. তৈমুর আলম বলছিলেন, নারায়ণগঞ্জে কোন কোন্দল নেই, কেন্দ্রীয় কিছু নেতারা এখানে কোন্দল সৃষ্টি করেছে তাদের কথায় উজিয়ে উঠে এখানকার কিছু নেতর্কর্মী বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি অনেক শক্তিশালী তাই আমরা এখানে দীর্ঘসময় মত বিনিময় করলাম কিভাবে নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়া যায়।

মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত বলেন, বিএনপির জন্য এ নির্বাচন একটি অগ্নি পরিক্ষা। এ নির্বাচনকে জাতীয় ভাবে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করেছি। যার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। খালেদা জিয়ার মার্কা ধানের শিষের কতা মনে করে আপনারা কাজ করবেন।

এটিএম কামাল নির্বাচন পরিচালনার জন্য নগরীর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হিসেবে এড. জাকির হোসেনের নাম প্রস্তাব করে বলেন আর বাকী সবাই আমরা সদস্য হিসেবে থাকতে চাই। এ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া যে প্রার্থী দিয়েছেন আমরা সকলেই তার পক্ষে কাজ করবো। কারন খালেদা জিয়া এ নির্বাচনকে টেস্ট কেস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাই আমাদের মধ্যে কোন সমালোচনা না করে আসুন নেতৃত্ব দেওয়া প্রার্থীকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয় জয়ী করার জন্য কাজ করি। এ ছাড়াও শুক্রবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় সেখানকার শীর্ষ নেতা সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের অনুপস্থিতি  ভাবিয়ে তুলেছে নেতাকর্মীদের। কারন গিয়াসউদ্দিন এখন ধানের শীষৈর প্রার্থীর চেয়ে কাউন্সিলর হিসাবে প্রার্থী তার ছেলে সাদরিলের নির্বাচন নিয়ে বেশী সময় দিচ্ছেন। অপরদিকে সাবেক এমপি দলের শীর্ষ নেতা বন্দরের এড. আবুল কালামও কাউন্সিলর প্রার্থী তার ছেলে ছাত্রদল নেতা আবুল কাউসার আশার নির্বাচন নিয়ে ব্যাস্ত। আর বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মতবিনিময সভায় দলের অনেক নেতাই অভিযোগ করেছেন,সাখাওয়াত নারায়নগঞ্জের স্থানীয় নয়। সে বিদ্রোহী নেতা হিসাবে মূলধারা নেতাকর্মীদের অনেক কষ্ট দিয়েছেন।

এ অবস্থায় সময়ই বলে দিতে পারে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের আসনটি কার দখলে যাবে।

শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

Leave A Reply