শিক্ষা ব্যবস্থায় জিপিএ-৫ একটি নির্যাতন-মন্ত্রী আসাদুজ্জামান

0
শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগীতাকে জিপিএ-৫ নির্যাতন বলে উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, সকালে বাচ্চাদের ঘুম থেকে টেনে তুলে মায়েরা স্কুলে নিয়ে যায়। তখন তাদের স্কুলে যেতে ইচ্ছা করে না। আমাদেরও যেতে ইচ্ছা করতো না। স্কুল শেষে বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুম। ঘুম থেকে উঠে হোম ওয়ার্ক। বিনোদন বলতে হিন্দিতে কার্টুন দেখা পরে বাবা মায়ের সাথে হিন্দিতে কথা বলে। বড় হয়ে জিপিএ-৫ এর প্রতিযোগীতা। আমি এটাকে বলি জিপিএ-৫ নির্যাতন। স্কুলে যাওয়ার আগে একটা কোচিং স্কুল থেকে ফিরে আবার কোচিং। যদি কোচিংয়েই সব পড়াতে হয় তাহলে স্কুলে কি পড়াচ্ছে। একটা ক্লাসে প্রথম মাত্র একজনই হয়। কিন্তু সবাই প্রথম হওয়ার প্রতিযোগীতায় লেগে থাকে। কিন্তু আমি বলতে চাই আজকে এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা সবাই কি প্রথম হয়েছেন। কয়জন এমপি মন্ত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, বাউল স¤্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম থেকে শুরু করে যারা জীবনে সফল হয়েছেন তারা কয়জনে জিপিএ-৫ পেয়েছেন? এখনকার প্রজন্ম পাঠ্য পুস্তকের বাইরে কিছুই পড়ছে না। শুধু মাত্র পাঠ্যবই মুখস্ত করে কিছু তথ্য মাথায় জমিয়ে রেখে তা পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে আসছে। এতে করে তাদের কোন জ্ঞান বিকাশ হচ্ছে না। তাই তাদের জ্ঞান বিকাশের জন্য সাংস্কৃতিক চর্চা করা প্রয়োজন রয়েছে।

বুধবার ১৭ মে দুপুর দেড়টায় শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন শেষে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের শীতলক্ষ্যা কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অনেক বাবা মা আছে যারা নিজেদের সন্তানদের গান শিখান। সন্তানদের নজরুল সংঙ্গীত, রবীন্দ্র সংঙ্গীত শেখান কিন্তু নিজে বাড়িতে বসে টিভিতে সালমান খানের ডাবাং ছবি দেখেন। তার উপর রয়েছে ভারতীয় জি বাংলার উপদ্রব। সেখানে সিরিয়াল গুলো অবাস্তব সব জিনিস দেখাচ্ছে তাই আমাদের দেশের মায়েরা বছরের পর বছর ধরে দেখছে। সেখানে দেখাচ্ছে ঝগড়া করছে সুন্দর সুন্দর শাড়ি পড়ে। রাতে ঘুমাতে যাচ্ছে সাজগোজ করে। ৮০ বছরের বৃদ্ধ মহিলাটিও শরীরে অলংঙ্কারের ভারে নুইয়ে পড়ছে। নিজেরা এগুলো দেখছি আর সন্তানদের বলছি নজরুল রবীন্দ্র শিখতে। হয়তো বাবা-মা আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত তাদের সন্তানদের নিজেদের মত আইনজীবী বানাতে চাইছেন। কিন্তু একবারের জন্য চিন্তা করে দেখছেন না আপনার সন্তানের মাঝে কি গুন রয়েছে। সেগুলো না দেখেই আমরা অসম্পূর্ন মানুষ তৈরি করছি। এভাবে হলে চলবে না। আমাদেরকে সম্পূর্ন মানুষ তৈরি করতে হবে। একটি দেশে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন করলেই চলবেই না। সব কিছুতে সমানভাবে উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সারাদেশে জেলাতে শিল্পকলা একাডেমী রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রতি উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে কিছু জেলার পরিসংখ্যান রয়েছে সেখানে শিল্পকলা একাডেমি ভবন গুলো সাংস্কৃতিক কর্মীরা ব্যবহার করছে না। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, জেলা প্রশাসন থেকেই সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এর কারন খুঁজে বের করতে হবে। এর কারন হচ্ছে আগের মত সঠিক সাংষ্কৃতিক চর্চা হচ্ছে না। আমাদেরকে সেই সমস্যা গুলো সমাধান করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মীদেরকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।

এর আগে দুপুর ১টায় পুরাতন কোর্ট এলাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন সাংষ্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মুহাম্মদ বাদল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, শিল্পকলা একাডেমীর যুগ্ম পরিচালক লিয়াকত আলী।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, নাজমুল আলম সজল, সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, মতিউর রহমান মতি, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

Leave A Reply