মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের নিয়ে ডিবির এসআই সেলিমের কিছু কথা

0
শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

আমরা সবাই শ্রমিক, আমাদের এই সোনার বাংলাতে। নইলে মোরা শ্রমিকদের সঙ্গে, মিশবো কিভাবে। মালিক শ্রমিক ভাই ভাই, স্বনির্ভর বাংলাদেশ উপহার চাই। সকল শ্রেণী ও পেশা মানুষদের অঙ্গীকার গর্জে উঠুক, এই শ্লোগান বার বার।

শ্রমিক দিবস ১লা মে ২০১৭ উপলক্ষ্যে নানা সমস্যায় জর্জরিত আমার প্রাণপ্রিয় শ্রমিক ভাইদের প্রতি সুনজর রাখার জন্য সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সকল বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ করি আমাদের বাংলাদেশী তথা বহিঃর্বিশ্বের সকল শ্রমিক ভাইদের উদ্দেশ্যে সমাজের বাস্তব চলমান কিছু ঘটনা সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করলাম।

উচুতলার বিলাশ বহুল জীবন-যাপনকারী বড়-বড় কর্তা বাবুদের প্রতিনিয়তই শ্রমিকদের উপর নির্ভর করে চলতে হয়। অথচ শ্রমিকদের বহু পুরোনো দাবী ও আকাংখিত চাওয়া প্রতিদিনের ০৮(আট) ঘন্টা কর্ম পরিধি আজও পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওয়ায় পরিনত হয় নাই।

আমার এক বন্ধু আছেন, যিনি তার ২৫(পঁচিশ) বছরের ব্যবসায়ীক জীবনে লাখপতি হতে প্রচলিত আইনের বিধি মেনে শতকোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছেন। যা সম্ভব হয়েছে শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও ন্যায় নিষ্ঠার সহিত ০৮(আট) ঘন্টার পরিবর্তে কদাপি-কদাপি ১৬(ষোল) ঘন্টা কর্মপরিধি বিস্তৃতি করার ফলে। হাজার হাজার টাকা বেতন পেয়ে কয়জন শ্রমিক ভাইয়েরা আছেন যে, এই ২৫(পঁচিশ) বছরে লাখপতি হয়েছেন। বরং খোঁজ নিয়া দেখুন অধিকাংশ শ্রমিক ভাইয়েরা দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য মৃত্যু অবধী পর্যন্ত কর্মযুদ্ধ করে যাচ্ছেন।

শ্রমিক ভাইয়েরা অন্যায় করলে মালিকগণ তাৎক্ষনিক শারীরিক নির্যাতন অথবা চাকুরীচ্যুত অথবা মামলা দিয়া হয়রানী করে থাকেন। পক্ষান্তরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা হতে বঞ্চিত করে কিছু-কিছু মালিক বন্ধুরা সু-কৌশলে টাকার পাহাড় বানানোর নিমিত্ত লিপ্ত রয়েছেন। কোন শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা আদায়ের অভিযোগ দিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাবুদের অনীহা, অনিচ্ছা, অবজ্ঞা ও পরিশেষে মিথ্যা মিমাংসার আশ্বাসের জালে বন্দী হয়ে থাকে তাদের সুবিচার। কদাপি-কদাপি আইনের অন্ধতার সুযোগে সাজানো মিথ্যা মামলায়, মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে মালিক বাবুরা উল্টো শ্রমিকদের বন্দিত্ব জীবন উপহার দেন।

আমাদের বাঙ্গালী জাতির বর্তমানে যারা বড়-বড় মালিক, বড়-বড় কর্তা বনে গিয়ে বিশাল আধিক্য প্রতিষ্ঠিত সহ অধিক সম্মানের জায়গা দখল করে গর্ববোধ করছেন, তারা নিজ নিজ পূর্ব পুরুষদের ৫০-১০০০ বছরের পুরনো ইতিহাস ঘাটা-ঘাটি করে দেখবেন, আপনাদের বংশীয় শিকড় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় শ্রমিক নয় কৃষক ছিলেন।

আমাদের দেশের সাম্প্রতিক অনেক শ্রমিক ভাইদের সন্তানেরা খোদা প্রদত্ত মেধা শক্তির প্রভাবে উচু উচু পদে মালিক বা বড় কর্তাবাবু হয়েছেন। কিন্তু ভুলে গিয়েছেন সমাজের সকলের সামনে আপনার পিতা-মাতার পরিচয় দিতে, ভুলে গিয়েছেন পির্তৃতুল্য, মাতৃতুল্য শ্রমিকদের সঙ্গে ভাল আচরন, ভাল ব্যবহার ও ভালবাসা উজাড় করে দেওয়ার। কি আশ্চর্য্য আমাদের এই আলোর ভিতরে অন্ধকারে হাতছানি।

ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তানী আমল বাঙ্গালী জাতির রক্তের বিনিময়ে রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে ১৯৭১ইং সালে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছিলেন। শ্রমিক ভাইয়েরা অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন এই বুঝি আমাদের মুক্তি হল, এই বুঝি আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দিন আসল। কিন্তু না কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের কাধে ভর করে, কিছু অর্থলোভী লোক শ্রমিক নেতা সেজে অসাধু ব্যবসায়ীদের ও মালিক কর্তাবাবুদের সাথে যোগ-সাজস করে বিভিন্ন কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান, মটরযান, নৌযান ইত্যাদি সংস্থা হতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিয়া অবিরাম শ্রমিকদের ঠকানো শুরু করতে থাকেন। যা অদ্যবদি কোন-কোন ক্ষেত্রে চলমান রয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় শ্রমিক ভাইয়েরা কোন-কোন ক্ষেত্রে ন্যায্য পাওনাদি ও সুবিচার সঠিক ভাবে পেলেও কুট-কৌশলী ও সাদা বর্নের অপরাধীদের ক্ষমতার সিন্ডিকেটের দাপটে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের সহজ সরল, অর্ধ-শিক্ষিত ও অশিক্ষিত নানা প্রকারের এই শ্রমিক সমাজ বঞ্চিত হচ্ছেন।

যেই শ্রমিক ভইয়েরা একদিন কাজ না করলে বড় বাবুদের হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকা লোকসান হয়, সেই শ্রমিকদের মাথার ঘাম পায়ে ঝরানো অর্থ ঠকিয়ে মধ্যসত্বভোগী অলস বাবুরা কোনো-কোনো মালিকগণও বিলাশ বহুল পাঁচতারা হোটেলে, গেষ্ট হাউজে, মদ্যপ বারে, বাগান বাড়ীতে অনৈতিক কর্মকান্ড সহ আনন্দ-ফূর্তি করে টাকা-পয়সা অপচয় করে থাকেন। এহেন অপচয় রোধ করে যদি শ্রমিক ভাইদের ন্যায্য পাওনা, খাদ্য বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার পিছনে কিছুটা মাণবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, তাহলে হয়তোবা এই অপচয়কারী মালিকদের পায়ে সালাম করে শ্রমিক ভাইয়েরা সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রান ভরে দোয়া করতেন।

সকল ভেদাভেদ ভুলে যেয়ে শ্রমিক দিবস ১লা মে ২০১৭ হতে মালিক শ্রমিক এক হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবার চেষ্টা সহ শ্রমিক ভাইদেরকে করুনা নয় বরঞ্চ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করবার বিষয়ে একমত পোষন এবং শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পাওনা মুজুরি পরিশোধ করে দেওয়ার অনুরোধ ব্যাক্ত করলাম।

বিঃ দ্রঃ- সব মালিকগণ যেমন অসাধু বা রক্তচোষা প্রানী নয়। আবার সব শ্রমিকও তেমনি অসাধু ও ফাঁকিবাজ নয়। মালিক পক্ষের সমীপে আকুল আবেদন, শ্রমিক ভাইদের প্রতি সুদৃষ্টি রেখে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ সহ বিপদে-আপদে যথাসাধ্য অনুযায়ী মাণবিক সাহায্য প্রদান করবেন। পক্ষান্তরে শ্রমিক ভাইদের প্রতিও অনুরোধ, মালিক পক্ষ যাতে লোকসানে না পরেন সেই দিকে লক্ষ্য রেখে শ্রমিক সেবা প্রদান করবেন। এই হউক আমাদের মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষের ব্রত।

জয় বাংলা। জয় হোক মেহনতি মানুষের। জয় হোক শ্রমিক দিবস-২০১৭।

(আমার লেখায় কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজগুনে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ পূর্বক মালিক শ্রমিক ভাই ভাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে সকলের মঙ্গল কামনায় শেষ করলাম)।

সর্বদলীয় শ্রমিক ভাইদের পক্ষে
মোঃ সেলিম মিয়া
মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।

শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

Leave A Reply