বাজেট প্রগতিশীল ও উচ্চাভিলাষী, তবে বাস্তবায়নযোগ্য

0
শেয়ার করুনShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPin on PinterestPrint this pageEmail this to someoneShare on Tumblr

স্টাফ রিপোর্টার,বিজয় বার্তা ২৪

Muhit1464957330আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রগতিশীল ও উচ্চাভিলাষী বলে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই বাজেট অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অব্যাহত উন্নয়নে উচ্চাভিলাষী বাজেটের বিকল্প নেই। এজন্য বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দিকে।

বাজেটের আকার বাড়ার কারণ হিসেবে পুরনো সুরেই কথা বললেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য চাই উচ্চাভিলাষ। থাকতে হয় সঠিক পরিকল্পনা, করতে হয় তার বাস্তবায়ন। সে বিশ্বাস থেকেই বাড়ছে বাজেটের আকার।

অর্থমন্ত্রীর মতে, বাজেট উচ্চাভিলাষী হওয়ায় সরকারের দায়িত্ব বাড়ছে, বাড়ছে দক্ষতাও। আর সেজন্য বাজেট বাস্তবায়নের হার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

লক্ষ্য এখন উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। রাজনৈতিক বক্তৃতায় এটা খুব সহজ বলে তুলে ধরা হলেও এতে বড় চ্যালেঞ্জ আছে বলে স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী। সে লক্ষ্য পূরণে আগামী বাজেট নিয়েও শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ। অর্থমন্ত্রী জানালেন, অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আগামী বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহে নেওয়া হচ্ছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। চলতি মাস থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সিম ট্যাক্স অপরিবর্তিত রাখা এবং মোবাইলে কথা বলার ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, বাংলাদেশে সাড়ে ১৫ কোটি মানুষের হাতে এখন ১৩ কোটি মোবাইল ফোন। এ থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ কম।

তিনি বলেন, কথা বলার উপরে ১ শতাংশ বেশি ট্যাক্স… যারা কথা বলেন, তাদের জন্য তেমন কিছু গ্রাহ্য করার বিষয় নয়। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের এটি একটি উত্তম উপায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সব দেশের চেয়ে আমরা সব থেকে কম আদায় করি। আমাদের হ্যাবিটটা চেইঞ্জ করা দরকার। রাজস্বের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ আমরা সব সময় সরকার কী সেবা দিল তা নিয়ে হৈ চৈ করি, দাবি করি। কিন্তু সরকার সেবা দিতে গেলে যে রাজস্ব প্রয়োজন সেটা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাই না। তাই একটু রাজস্ব বেশি দিলে মন্দ হয় না।’

বাংলাদেশ এরই মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে, এখন শুধু ঘোষণা বাকি রয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাজেটের সঙ্গে অনেকে দেশকে মধ্যম আয়ের বিবেচনা করছেন, কিন্তু বাজেট দিয়ে মধ্য আয়ের দেশ নয়, অগ্রগতি দিয়ে মধ্যম আয়ের হওয়া সম্ভব।

এ সময় মন্ত্রী বাজেট উত্থাপনের পর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নেতিবাচক প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাজেটের সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বব্যাংক এটি নির্ধারণ করবে। ২০১৮ সালে তারা মিটিং করে এ বিষয়ে আলোচনা করবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ কমিটিও এটি জানাবে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালে এ ধরনের ঘোষণা আসবে।

অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের সময় কর্মসংস্থানের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে হয় কর্মসংস্থানে টার্গেট অনুযায়ী পিছিয়ে নেই। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিবছর কমপক্ষে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি। আমরা লক্ষ্য অর্জনের পথেই রয়েছি।’

এ সময় তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

শেয়ার করুনShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPin on PinterestPrint this pageEmail this to someoneShare on Tumblr

Leave A Reply