নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর তান্ডব এবং বাংলাদেশের চরম বাস্তবতা-টিপু

0
শেয়ার করুনShare on Facebook118Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

খোলাকলম,বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম,

জনৈক হিন্দু যুবক কর্তৃক ফেসবুকে কথিত ইসলাম অবমাননার অভিযোগকে অজুহাত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গণহারে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরপরাধ জনসাধারণের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক বাড়ি-ঘর ও ১৫টি মন্দির ভাংচুরসহ আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশু। অথচ, কোন ব্যক্তির অপরাধে তার সম্প্রদায়কে আক্রমণ করা আইন, যুক্তি ও মানবিক কোন দৃষ্টিভঙ্গিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিদায় হজ্জের ভাষণে ইসলামের নবীও এক জনের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দিতে নিষেধ করেছেন। এক্ষেত্রে অভিযুক্তকে হামলার আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বলেছে তার অজান্তে কেউ তার ফেসবুকে আপত্তিকর ওই ছবি জুড়ে দিয়েছে, জানার পর সে তা মুছে ফেলেছে ও মুসলিম প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইদিন ধরে উত্তেজনা তৈরি করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনার পরেও হোতাদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। মহাজোট সরকারের আমলেই রামুসহ বিভিন্নস্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হয়নি। বরং অপরাধীরা প্রশ্রয় পেয়েছে ও উৎসাহিত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এ ঘটনার পর অনেকেই বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে সুযোগ সন্ধানী হেফাজতে ইসলাম ও আওয়ামীলীগের একাংশ এই সহিংসতা ঘটিয়েছে। ঘটনাটি থামানোর জন্য স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন তেমন একটা ভূমিকা রাখেননি। শুধু স্থানীয় কিছু মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ ঘটনাটি প্রতিহত করতে এগিয়ে এসেছিলেন। এতে নাসিরনগর সদরের প্রায় ২০ জন স্থানীয় মুসলমান আহতও হয়েছেন। নাসিরনগরের সংখ্যালঘু নেতারা বলেছেন, ঘটনার আগের দিন এলাকায় মাইকিং করে পরদিন হামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা সময়মতো ব্যবস্থা নেননি, এর ফলে সহিংসতা বেশি হয়েছে। এর রেশ ধরে তারা নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবিও জানাচ্ছেন।

প্রায় একই সময়ে একই রকমের দুটি ফেসবুক স্ট্যাটাস অনেকেরই দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছে নাসিরনগরের রসরাজ দাস, যেখানে একটি বিকৃত ছবি পোস্ট করে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে। ফেসবুকে আর একটি পোস্ট করেছে চাটমোহরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বুলবুল, যেখানে হিন্দু দেবদেবী স¤পর্কে অশ্লীল কথা লিখে হিন্দু ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে।

রসরাজের পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে ব্যাপক তান্ডব, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এমনকি দেশ কাঁপানো ওই নৃশংস হামলার পরও শুক্রবার ভোরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সেখানে আরেক দফা বর্বর হামলা করা হয়েছে। রসরাজকে গ্রেপ্তার করে পাঁচদিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আর জহুরুল ইসলাম বুলবুলের পোস্টে চাটমোহরে কোনও প্রতিক্রিয়া না হলেও পুলিশ আগাম সতর্কতা হিসেবে শিক্ষক বুলবুলকে আটক করেছিল। কিছু সময় পরে অবশ্য পুলিশ থানা থেকেই ওই শিক্ষককে ছেড়ে দেয়। দুই জন একই পথে যাত্রা করে করেছিলো। দুই জনের অপরাধ একই রকমের। আবার দুইজন একই ভাবে বলেছে, ওই পোস্ট তাদের নয়; কে বা কারা যেন তাদের ফেসবুক একাউণ্ট হ্যাক করে ওই পোস্ট দিয়েছে। কিন্তু ফল পেলে দুইজন দুই রকমের। একজন পুলিশ রিমান্ডে, আরেক জন মুক্তি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার পর আতঙ্কে ৬টি পরিবার ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। এই রকমই একটি দাবি করেছে ভারতের একটি সংবাদপত্র। সংবাদটিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশ ছাড়েনি অনেক হিন্দু পরিবার। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, সেই সমস্ত পরিবারও প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ ত্যাগ করছে। এনাডু ইন্ডিয়া নামের একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়, গত রোববার বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ১৫টি মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। ভেঙে ফেলা হয় দেবদেবীর মূর্তি। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি হিন্দু পরিবারগুলি। সবথেকে বেশি আক্রমণ চালানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। সেখানে বসবাসকারী হিন্দুদের বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধর করা হয় সদস্যদের। অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিশু ও মহিলারাও।  প্রায় ১০০ জন আহত হযেছেন। তাঁদের বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে; ফলে প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন।

অপরদিকে গত মঙ্গলবার রাতে নাসিরনগরের ডাকবাংলোতে স্থানীয় সংখ্যালঘু নেতাদের উদ্দেশ করে মৎস্য ও প্রাণিস¤পদমন্ত্রী মোঃ ছায়েদুল হক বলেছেন, মালাউনের বাচ্চারা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। আর এঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করে অতিরঞ্জিত করেছে সাংবাদিকরা। অথচ ঘটনা তেমন কিছুই নয়। অন্যদিকে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার পর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত নাসিরনগর থানার ওসি আব্দুল কাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার গত বুধবার দুপুরে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আদেশ দিলেও রাতে মন্ত্রী ও নাসিরনগরের সংসদ সদস্য ছায়েদুল হক বলেছেন, সে (ওসি) ভালো লোক। তাকে প্রত্যাহার করা যাবে না। তার আদেশ বাতিল করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে সরাসরি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের মালাউনের বাচ্চা বলার পরও কিভাবে ছায়েদুল হক মন্ত্রী থাকেন এটা অনেকেরই বোধগম্য নয়। কেউ কেউ অবিলম্বে এই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিস্কার করার দাবী জানিয়েছেন। আজ আওয়ামী লীগের জায়গায় যদি বিএনপি, জাতীয় পার্ট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বামপন্থী কিংবা জামাতের কোনো নেতা প্রকাশ্যে এভাবে মালাউন শব্দটি ব্যবহার করতো তাহলে সারাদেশে নিশ্চয় তোলপাড় হয়ে যেতো। গণমাধ্যম ও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা তুলকালাম কান্ড করে ফেলতেন। অথচ এই ঘৃণ্য অপরাধের পরও সবাই একদম চুপ, কারন মন্ত্রীতো আওয়ামীলীগার, কী বললে আবার কী হয়ে যায়। এই জঘন্য সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যক্তিকে মন্ত্রীসভায় বহাল রাখলে আওয়ামী লীগও যে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল তা নিশ্চয় আরও একবার প্রমানীত হবে।

স্বাধীনতা পরবর্তি সরকার সমূহের বাজারি উন্নয়নের তোড়ে মানুষের মধ্যো থেকে মূল্যবোধ, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব, বিবেক যেন বাণের জলে ভেসে গেছে। আর এই উন্নয়নের জোয়ারে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আগুন দেয়া, তাদেরকে উচ্ছেদ করা, তাদের সঙ্গে ইতরসুলভ আচরণ করার ঘটনাগুলো সমাজের মূলস্রোতে কোনো প্রভাব ফেলে না। অন্যায়ভাবেই সংখ্যালঘুদের উপর সংখ্যাগুরুর ক্ষমতা প্রয়োগ হয় ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাবে।

নাস্তিক, ইহুদী-নাসারা, মুরতাদ আখ্যা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ব্লাসফেমি জারির চাপ, সমাজকে ধর্মীয় লেবাস পরানোর চাপ আর সংখ্যালঘু হত্যা করে, নিপীড়ন করে, অত্যাচার করে, ভূমি থেকে উচ্ছেদ এবং তার স¤পত্তি দখল করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এসবই এক ও অভিন্ন সুতায় বাধা। ভোটের রাজনীতি নামক এক সুবিধাবাদী লক্ষ্যের কারণে ওই সকল নিজস্ব ভোটারকে ক্ষমতাসীনরাও তোয়াজ করে চলে। ওরাও সেই তোয়াজের বলে বলিয়ান হয়ে যা খুশি তাই করতে পারে। ক্ষমতার দম্ভে খোদ মন্ত্রিও অত্যাচারিত হিন্দুদের মালাউন বলে ভৎসনা করেন প্রেস কনফারেন্স করে। আর সরকারের অপরাপর কর্তাব্যাক্তিদের মুখে যেন অর্থমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর সম্পর্কে কথা বলার ব্যপারে কর আরোপ করেছেন, অতএব তারাও নিশ্চুপ।

সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি সমতলীদেরকে হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন, উচ্ছেদ করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সবই নিজ ধর্মের, নিজ ইজমের, নিজ মাজহাবের শ্রেষ্ঠত্ব, ক্ষমতা প্রদর্শন, লুটপাট এবং অপরের ধর্ম, বর্ণ, জাতকে নিকৃষ্টজ্ঞান ও লুটেরা মানসিকতা থেকে উদ্ভুত। আর তাই এধরণের ক্রিমিনাল অফেন্স ঘটলেও সরকারের তরফে ‘অপরাধী যেই হোক; ছাড় পাবেনা’, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে দেয়া হবেনা’, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে’ এমন ইনস্ট্যান্ট বিবৃতি দেয়া ও ‘আইওয়াশের’ এলিমেন্ট হিসেবে দু’চার জনকে বহিষ্কার করা এবং ঠুঁটো জগন্নাথ মার্কা একটা তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়া কার্যত কিছুই হয় না।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দেশে কোনোওভাবে যদি ধর্মীয় মৌলবাদীরা আজ ক্ষমতা দখল করে বসে তবে কালকেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ শাসকশ্রেনীর দলগুলো থেকে ষাট থেকে আশি ভাগ নেতাকর্মী ওদেরই সমর্থন দিয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালন করবেন। আজকের সেক্যুলারিজম, মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীলতা আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ধরাধাম কাঁপিয়ে দেয়া তালেবররাই কালকে ওই ক্ষমতা দখলকারীদের দলে নাম লেখাতে লাইন দেবেন।

এটাই বাংলাদেশের চরম বাস্তবতা। রাষ্ট্রটা যতখানী মানবিক হওয়ার কথা ছিল তাতো নয়ই বরং অনেক বেশী অমানবিক, বর্বর। সাধারণ, সুবোধ মানুষের বাস যোগ্যতা হারিয়েছে বহুদিন ধরেই। শোষন নিপিড়ণ লুটপাট এখানে প্রধান। মানবাধিকার এখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত। বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে ক্ষমতাসীনদের আস্ফোলনে। জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার সুদুরপরাহত। কিন্তু কেন? কারণ যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বার বার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ হলো জনগণের ভুল সিদ্ধান্তের করুণ পরিনতি। রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির পরিবর্তন না করে মানুষ নেতার পরিবর্তন করেছেন বারবার। মানুষ জীবন বাচাতে সিংহের খাঁচা থেকে দৌড়ে বাঘের খাঁচায় আশ্রয় নিয়েছেন। আবার বাঘের খাঁচা থেকে দৌড়ে সিংহের খাঁচায় আশ্রয় খুঁজেছেন। গত স্বাধীনতা পরবর্তি এই ছিল সাধারণ মানুষের প্রধান প্রবনতা। তারা কখনোই বুঝে উঠেনি মৃত্যু উভয় যায়গাতেই সুনিশ্চিত। আর যে কারণেই সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি আজও। বরং দিন দিন রাষ্ট্রিয় ও সামাজিক সংকট, সমস্যা বেড়েই চলছে। শাসকশ্রেনীর এই সাজানো গুছানো মৃত্যুকুপ থেকে বেড়িয়ে আসতে ওদের বিকল্প, বিপরিতে, বিরুদ্ধে অবস্থান এখন সময়ের দাবী। এবং ঐতিহাসিক ভাবেই সত্য যে, পৃথিবীর আদিমতম লড়াইয়ের নাম হলো বেঁচে থাকার লড়াই। আজ থেকে সহস্র বছর আগেও কেউ আপোষে কাউকে বাঁচতে দেয়নি, এখনো দিচ্ছে না, ভবিষ্যতেও দেবে না। সুতরাং বাঁচতে হলে লড়তে হবে সকল অসংগতির বিরুদ্ধে। তবেই সমাজ ও রাষ্ট্রে থেকে শান্তি প্রত্যাশা সম্ভব।

লেখক: আবু হাসান টিপু, কলাম লেখক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কমিটির অন্যতম সদস্য। ফোন: ০১৬৮২-৮১৪৫৬৪।

শেয়ার করুনShare on Facebook118Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

Leave A Reply