উন্নয়নের মহাযাত্রায় এক অদম্য কারিগর ডা. আইভী- পর্ব- ২

0
শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

জাফর আহমদ, বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

(পূর্বে প্রকাশের পর)

১৯৭৪ সালের পৌর নির্বাচনে নিজ দলীয় ২ প্রার্থীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে শতাব্দীর প্রথম নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন স্বাধীনাতা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলী আহমদ চুনকা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত নারায়ণগঞ্জের দেব উন্নয়নে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মানুষের উপর করের বোঝা চাপিয়ে টাকার জন্য চাপ দিতে পারছিলেন না। ৯ মাসের যুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ তখন যেন একটি ভুতরে নগরী ধ্বংস স্তুপ। হানাদার পাক বাহিনী ৬৮ হাজার গ্রামে লুটপাট করে নিয়ে গেছে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংকে নগদ অর্থ আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে গেছে। বাঙ্গালীদের পাওনা ৭০০ কোটি ডলার পাকিস্তানের ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল যা আজও ফেরৎ পাওয়া যায় নি। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সেই সময়ে কোন পৌরসভাকে আর্থিক বরাদ্ধ দেয়া সম্ভব হয় নি। শূন্য কোষাগার থেকে যত সামান্য অর্থ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার হাল ধরেন জননেতা আলী আহমদ চুনকা। বঙ্গবন্ধু বলেন “তিন বছর আমার কাছে কিছু আশা করো না। যে ভাবে পার চালিয়ে যাও।” এমনিতেই নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা মাথাভাড়ি প্রশাসন। কর্মচারী ছাটাই করাও সম্ভব নয়। কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমসিম খাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে স্বচ্ছল বন্ধুদের নিকট থেকে টাকা ধার করে পৌরকর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনের টাকা পরিশোধ করতেন। এহেন পরিস্থিতিতে জাতির ভাগ্যাকাশ থেকে হারিয়ে যান জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজুদ্দিন আহাম্মেদ, ক্যাপ্টেন মুন্সুর আলী, কামরুজ্জমান হেনা ভাই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যগুলো রাষ্ট্রিয় মৌলনীতি পরিবর্তন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হানাদার বাহিনীর দোসর যাদের বিরুদ্ধে খুন, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট সহ মানবতা বিরোধী অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার চলছিল, শুয়রের খোয়ার থেকে যেমনি ভাবে শুয়রের পালগুলোকে ছেড়ে দেয়া হয়, ঠিক তেমনিভাবে জেলখানা থেকে একটি মাত্র শামরিক ফর্মান জারীর মাধ্যমে ইতিহাসের খল নায়ক তাদের মুক্ত করে দেয়। যে সমস্ত রাজনৈতিক দল হানাদার বহিনীর দোষরদের সাথে একাত্ত হয়ে সোনার বাংলা শ্মশান করেছে, রাষ্ট্রিয়ভাবে সে সমস্ত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে তাদের রাজনীতি করার বিধান জারি হল। মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরাও খলনায়কের অনুকম্পায় কনডেম সেল থেকে বেরিয়ে এলো। খল নায়কের ভানুমতি খেলা শুরু হল। একের পর এক সাজানো ক্যু করে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের হত্যা করা হল। গ্রামে গঞ্জে শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয় এই প্রজন্মের ইতিহাস জানা দরকার। বিগত ২৩ বছর ঘুম পড়ানো মাসিপিসির গল্পের ছলে ইতিহাসের খলনায়করা শিশুদের মিথ্যা ইতিহাস শুনিয়ে মগজ ধোলাই করেছে। অনেক শিশুকে প্রশ্ন করে দেখেছি তারা জবাব দেয় ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ১৬ ডিসেম্বর শহীদ দিবস। এই প্রজন্মের মগজ থেকে স্বাধীনতা নামক শব্দটি সুকৌশলে মুছে দেয়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী, দলের নেতা, দল জননেত্রী, দেশরতœ, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে লাইনচ্যুত ইতিহাসের ট্রেনটি আবার সোজাপথে চলতে শুরু করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবার হোচট খাওয়া। ২০০৮ সালে দেশটা যেন আবার স্বাধীন হল।
যা বলছিলাম, মুক্তিযোদ্ধা কন্যা ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীর কথা। উন্নয়নের মহা যাত্রায় ডাঃ আইভীর বিস্ময়কর, সোনালী আর গৌরবময় সাফল্যের কথা। প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে নিজ বাড়িতে অফিসে দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতি দুই দিনে একটি করে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে যা সম্ভব হয়েছিল, চীনের মাউসেতুং-এর সময়ে। তিনি ১০ কোটি স্বেচ্ছা সেবক নিয়ে এ ধরনের অসম্ভব প্রকল্পের কাজ সম্ভব করেছিলেন। ডাঃ আইভির উন্নয়নের মহাযাত্রায় চীনা সংস্কৃতিক বিপ্লবের মত ভিন্ন মতাবলম্বীদের রক্তের শ্রোতে ভাসতে হয় নি। ভিন্ন মতের দলীয় লোকজন থাকলেও উন্নয়নের যাত্রাপথে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও তাকে বেগ পেতে হয় নি। ডাঃ আইভী ১৩৯৮ কার্য দিবসে ৫৮৮টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা চিন্তাশীল ব্যক্তিদের ভাবিয়ে তুলেছে। এ কি করে সম্ভব?
আজ ১নং ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে সর্বমোট ২৫ টি। এতে খরচ হয়েছে ১৩ কোটি ১২লক্ষ ১৪ হাজার ২৭৭ টাকা। প্রকল্পগুলো হল:
(১) মিজমিজি পূর্বপাড়া এন.আর-১ ক্যানেল হইতে দক্ষিণ দিকের সিরাজ মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত পাইপ ড্রেন স্থাপনসহ ব্রিক ফ্লাট সলিং কাজ। (২) পাইনাদী সিআইখোলা মুক্তি স্মরনী রোড এর নূর মোহাম্মদের বাড়ী হইতে আতাহার হাজীর বাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্ব পর্যন্ত পাইপ ড্রেন স্থাপনসহ ব্রিক ফ্লাট সলিং কাজ। (৩) ক. মিজমিজি বাতেনপাড়া তাহের মেম্বারের বাড়ী হইতে রশিদ মুন্সির বাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্ব পর্যন্ত পাইপ ড্রেন স্থাপনসহ ব্রিক ফ্লাট সলিং কাজ। খ. মিমিজি বাতেনপাড়া হযরত আলী মুন্সির বাড়ী হইতে রব মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত বাতেনপাড়া আঃ হামিদের বাড়ীর নিকট পাইপ ড্রেন স্থাপনসহ ব্রিক ফ্লাট সলিং কাজ। (৪) পাইনাদী পূর্বপাড়া কালাহাতিয়ারপাড় পুকুরের পূর্বপাড়া নূর ইসলামের বাড়ীর নিকট হতে নিজাম উদ্দিনর বাড়ী হয়ে মোস্তফা মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত এবং সিআইখোলা রাস্তা হইতে মান্নান সাহেবের বাড়ী পর্যন্ত পাইপ ড্রেন স্থাপনসহ ব্রিক ফ্লাট সলিং কাজ। (৫) পাইনাদী রেকমত আলী স্কুল রোড হতে জুয়েল রোড পর্যন্ত পাইপ ড্রেন স্থাপন কাজ। (সিদ্ধিরগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জরুরী প্রয়োজনের পাইপ ড্রেন স্থাপন কাজ।) (৬) মিজমিজি টিসি রোডের কালু হাজী রোডের কার্পেটিং রাস্তার শেষ মাথা হইতে ওয়াপদা ক্যানেল পর্যন্ত পাইপ ড্রেন স্থাপনসহ রাস্তা এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন কাজ। (৭) মিজমিজি পূর্বপাড়া পাগলা বাড়ী মসজিদ হইতে ফরিদ সাহেবের বাড়ী হইয়া মজিববাগ মসজিদ পর্যন্ত পাইপ ড্রেন স্থাপনসহ রাস্তা এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন কাজ। (৮) মিজমিজি রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকট হইতে টি.সি রোড অভিমুখি রাস্তা কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন কাজ। (৯) মিজমিজি বাতানপাড়া বারেক মেম্বারের বাড়ী হতে আবু ছিদ্দিকের বাড়ী পর্যন্ত ব্রীক ড্রেনের উপর আর.সি.সি. স্লাব স্থাপন কাজ। (১০) ১নং ওয়ার্ডে মিজমিজি পাইনাদি জুয়েল রোডস্থ কাদির ইঞ্জিনিয়ার এর বাড়ী হতে পশ্চিম দিকে রেকমত আলী স্কুল পর্যন্ত সিসি রাস্তা ও ব্রিক ড্রেন নির্মাণ কাজ। (১১) ১নং ওয়ার্ডে মিজমিজি টিসি রোড হতে দক্ষিণ দিকে জনাব আঃ আলীর বাড়ী পর্যন্ত সিসি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজ। (১২) ১নং ওয়ার্ড মিজমিজি টিসি রোডে ২টি কালভাট এ্যাপ্রোচ নির্মাণ কাজ। (১৩) ১নং ওয়ার্ড হিরাঝিল আবাসিক এলাকার ৩নং সড়কে মসজিদ গলিতে ব্রীক ড্রেন নির্মান ও সিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ। (১৪) ১নং ওয়ার্ডে মজিমিজি বাতানপাড়া প্রিন্সিপাল জনাব আঃ খালেক সাহেবের বাড়ীর নিকট হতে জনাব খালেক হুজুরের বাড়ী, পশ্চিমে জনাব আনোয়ার ইবনে আল আমিনের বাড়ী হতে বাতানপাড়া ওয়াপদা ক্যানেল ব্রীজ পর্যন্ত ব্রীক ড্রেন নির্মান ও সিসি দ্বারা রাস্তা উন্নয়ন কাজ। (১৫) ১নং ওয়ার্ডস্থিত পাইনাদি ২নং কেয়ার রোডে জনাব জহির সাহেবের বাড়ী এবং উত্তরে জনাব লতিফ উকিলের বাড়ী হয়ে ওয়াপদা ক্যানেল পর্যন্ত ব্রীক ড্রেন নির্মান ও সিসি দ্বারা রাস্তা উন্নয়ন কাজ। (১৬) ১নং ওয়ার্ডে হিরাঝিল ৬নং গলির উত্তরে ওয়াপদা ক্যানেলের উপর আর এস জয়েন্ট ও স্লিপার দ্বারা ব্রিজ নির্মাণ কাজ। (১৭) ১নং ওয়ার্ডে পাইনাদি তেরা মার্কেট হতে উত্তরে ওয়াপদা ক্যানেল রোড পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ। (চেই:০০-৬০০মি.) (১৮) ১নং ওয়ার্ডে পাইনাদি তেরা মার্কেট হতে উত্তরে ওয়াপদা ক্যানেল রোড পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ। (চেই:৬০০-১১১৫মি.) (১৯) ১নং ওয়ার্ডে হীরাঝিল ওয়াবদা ক্যানেল হতে পশ্চিমে হীরাঝিল মেইন রোড হয়ে হাইওয়ে পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন ও রাস্তার উন্নয়ন কাজ। (২০) ১নং ওয়ার্ডে হীরাঝিল ওয়াবদা ক্যানেল রোড হতে পশ্চিমে হীরাঝিল মেইন রোড হয়ে হাইওয়ে পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন। (২১) Improvement of road from DND canal to mojib Mosque (Ch00 00m-ch 382.00m) (২২) ১নং ওয়ার্ডে টিসি রোড হতে উত্তরে রেকমত আলী স্কুল হয়ে পাইনাদি নতুন মহল্লা সংযোগ সড়ক পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ। ২৩.Instalation of street lighting system with Ornamental Lighting in siddirganj Zone (Length = 6.583km)(২৪) ১নং ওয়ার্ডে হীরাঝিল ১নং গলি সংলগ্ন খালের উপর স্লিপার ব্রীজ নির্মাণ।)

শেয়ার করুনShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0Print this pageEmail this to someoneShare on Tumblr0

Leave A Reply