আদালতে বাকরুদ্ধভাবে তাকিয়ে ছিলেন সাত খুন মামলার আসামীরা

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল নয়টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা আঠারোজন আসামীকে কোর্ট হাজতে হাজির করা হয়। আর সকাল নয়টা চল্লিশ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আনা হয় মামলার প্রধান আসামী নুর হোসেন, লেঃ কর্নেল (বরখাস্তকৃত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (বরখাস্তকৃত) আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বরখাস্তকৃত) এম এম রানাসহ পাচ আসামীকে আনা হয়। নয়টা একচল্লিশ মিনিটে আদালতে তাদের তোলা হয়। নিরাপত্তার কারনে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে আদালতে কাঠ গড়ার বাইরে এক কোনায় অন্যান্য আসামীদেও থেকে পৃথক করে রাখা হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নুর হোসেনকে ডান্ডা বেরী পড়িয়ে কাঠ গড়ায় তোলা হয়। এদিকে  তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন এবং এম এম রানাকে আদালতে হাজির করার সময় ডান্ডা বেরী পড়িয়ে আনা হলেও আদালতের ভেতরে নেয়ার পর তিনজনের ডান্ডা বেরী খুলে দেয়া হয়। এসময় তারা কাঠ গড়ার সামনে নির্বিকার ভাবে দাড়িয়ে ছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, নুর হোসেনকে জুতা এবং হেলমেট খুলে রেখে কাঠগড়ায় নেয়া হয়। অন্যান্য আসামীদেরও জুতা খুলে রাখা হয়। তিনি জানায়, আসামীদের মধ্যে যাতে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য জুতা খুলে রাখা হয়েছে। আদালতের নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৫’শ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সকাল দশটা এগারো মিনিটে আদালত মামলার রায় ঘোষনা শুরু করেন জেলা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। মাত্র  ৫মিনিটের মধ্যে তিনি রায় পাঠ করা শেষ হয়। জেলা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় ঘোষনার পর বেশ কয়েকজন আসামী কাঠ গড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তবে নূর হোসেন, তার সহযোগি চার্চিল, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ছিলেন নির্বিকার।রায় ঘোষনার পর প্রায় ১৫ মিনিট আসামীদের কাঠগড়ায় রাখা হয়।তারপর আদালতের গারদে নিয়ে রাখা হয়। দুপুর দেড়টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। নুর হোসেন .তারেক সাঈদ, আরিফের কোন আত্বীয় স্বজনকে আদালতে দেখা যায়নি। একমাত্র এম এম রানার শ্বাশরী এডবোকেট জেসমীন আক্তার আদালতে ছিলেন। অপরদিকে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি , নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের, নিহত আইনজীবি চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকার রায় ঘোষনা করার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।এসময় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং আইনজীবি চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতাকে কান্না করতে দেখা যায়। তবে তারা ন্যায় বিচার পেয়েছেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

Leave A Reply