বন্দরে জমি জবর-দখলের অভিযোগ চেয়ারম্যানের ভাই দুলালের বিরুদ্ধে

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের ভাই বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান দুলালের বিরোদ্ধে অসহায় ২০/২৫ টি পরিবারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্দর ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াড’স্থ বাগবাড়ী এলাকার ২০/২৫টি পরিবার সম্পত্তি ক্রয় পূর্বক বসবাস করতে গিয়ে ওই বিএনপি নেতার অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। বিএনপি নেতা দুলাল তার ভাই চেয়ারম্যান মুকুলের শেল্টারে প্রায় সময়ই নানাভাবে বাগবাড়িস্থ ওই অবহেলিত পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে । দুলালসহ তার লাঠিয়াল বাহিনী জোর পূর্বকভাবে জায়গা দখলের চেষ্টা ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। সম্প্রতি জনৈক মামুন মিয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় তার বিরোদ্ধে একটি অভিযোগ দায়েরও করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বাগবাড়ী এলাকা থেকে ওই ভূমিদস্যু বিএনপি নেতা দুলালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যান মুকুলের তদবীরে মুচলেখা দিয়ে থানা হাজত হতে মুক্তি পেলেও থেমে নেই তার ভূমি দস্যুতা ও চাদাবাজী। অসহায় মানুষকে প্রতারনার বেড়াজালে আটকে তাদের সর্বস্ব লুটে নেয় ওই বিএনপি নেতা।

সূত্র মতে,বন্দরের ২৪৫নং নবীগঞ্জ মৌজার সিএস ও এসএ ১৭৭নং দাগের ৪৬ শতাংশ জমি ছিল স্থানীয় আদম শেখের। ১৯১৮ সালের ২ ডিসেম্বর ৩৫৭৫নং দলিল মূলে ৩২ শতাংশ জায়গা হাজী সিরাজ উদ্দিন ক্রয় করেন। আদম শেখের বাকী ১৪ শতাংশ জমি তার নামে রেকর্ডভুক্ত হন। হাজী সিরাজ উদ্দিনের ৩২ শতাংশ জায়গা তার ৮ সন্তানের নামে রেকর্ড ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে সিরাজ উদ্দিনের ৩২ শতাংশ সম্পত্তি বাদশা মিয়া মালিক হয়। বাদশা মিয়া তার সৎ ভাই বিএনপির সাবেক সাংসদ হাজী জালাল উদ্দিনের নিকট ১৯৭০ সালের ৩ জুন ২০৭৪নং দলিল মূলে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে হাজী জালাল উদ্দিন তাহার সকল সম্পত্তি ১৯৮৩ সালের ৩ জুন ১০নং অছিয়ত নামা দলিল মূলে তিন পুত্র আবু ছালাম,বিএনপির সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম,আবুল হাছান,এক কণ্যা সখিনা বেগম ও স্ত্রী রহিমন নেছাকে অছিয়ত করিয়া দেয়। জালাল হাজীর মৃত্যুর পর তার সকল সম্পত্তি বন্টন হন। আবু ছালাম নিঃসন্তান থাকাবস্থায় মারা গেলে দুই ভাই আবুল কালাম ও আবুল হাছান ও বোন সখিনা বেগম ও তার স্ত্রী মতিয়া ছালাম মালিক থাকাবস্থায় বিগত ১৯৯৩ সালের ১৮, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০৭৭ নং দলিল বলে তাদের চাচাতো ভাই রহিম উদ্দিন কালুর কাছে বিক্রি করে। কালু ওই সম্পত্তি বিভিন্ন লোকের নিকট বিক্রি করে। আদম শেখের বাকি ১৪ শতাংশ জায়গা তার পুত্র আকরাম আলী ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হইয়া ২০০২ সালের ৩০ জুন ২৬২৭ নং দলিল মূলে রহিম উদ্দিন কালুর নিকট বিক্রি করে। যা তাহার নামে নামজারি করে। শহরের পাঠানতলীর আব্দুল হক মিয়ার পুত্র মামুন ও বাগবাড়ি এলাকার আঃ রহমান ভূইয়ার পুত্র মোঃ শামসুল আলম ২০০২ সালের ২৮৩২ ও ৩৫৬২ নং দলিল মূলে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে শামসুল আলম ২০০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ২৬ নং দলিল মূলে ১ শতাংশ মামুনের নিকট বিক্রি করে। দুই খন্ডে মামুন ১১ শতাংশ জমি নামজারি করে দেয়াল নির্মান করেন। সম্পত্তি বিক্রি করে পুনরায় আবার মামলা করেন চেয়ারম্যান মুকুল ও দুলালের চাচা বাদশা মিয়া। উক্ত দলিলে তাদের আরেক চাচা ছিদ্দিকুর রহমান স্বীকৃতি স্বাক্ষী দেন। ওই সম্পত্তি তাদের চাচা ওয়াজ উদ্দিনের পুত্র রহিম উদ্দিন কালুর নিকট বিক্রি করেন। কালু দখলে থাকাবস্থায় তাদের কোন দাবী ছিল না। খন্ড খন্ড করে নীরহ ও অসহায় লোকদের কাছে কালু বিক্রি করার পর দুলালরা দাবী করেন। বাদশা মিয়া সম্পত্তি বিক্রি করে। মুুকুল ও দুলালগং দাদাকে পিতা বানিয়ে মিছকেইছ করেন। গরীব ও অসহায় লোকদের সম্পত্তি গ্রাস করার কি হীন পায়াতারা। চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে তারা এভাবেই মানুষকে গ্রাস করেছে। বর্তমানে বাগবাড়ি এলাকার আবু তাহের,নাসির উদ্দিনের ছেলে মানিক,জলিল মিলে গরীব ও অসহায়দের সম্পত্তি দখলের যে হীন চেষ্টা করছেন তা অমানবিক বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ভূমিদস্যু বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান দুলালের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে নিরিহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

বন্দর থানা কম্পাউন্ড নতুন আঙ্গিকে ৬ তলা ভবনের শুভ উদ্বোধণ করবেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক। বৃহস্পতিবার সকলে বন্দর থানায় পুলিশ সুপার এ ভবনের উদ্বোধণ করবেন। এ উপলক্ষ্যে বন্দর থানা প্রশাসন সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.