র‌্যাব’র অভিযানে ২ জেএমবি সদস্য আটক

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

রুপগঞ্জ থানার মামলায় দুইজেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রোববার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার যাত্রামুড়া ব্রিজের পার্শ্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপু (৪৮) ও মিজানুর রহমান (৩১)। রুপগঞ্জ থানার মামলা নং-২৭। গত বছরের ১১ জুন এই মামলা দায়ের হয় রূপগঞ্জ থানায়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসসি আলেপ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপুর বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর রতন কান্দির নুন্দাহ এলাকায়। বর্তমানে সে ঢাকার লালবাগে কেবি রুদ্র রোডে ভাড়ায় থাকে। সে ১৯৮৫ সালে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাশ করে। বর্তমানে সে শেয়ার মার্কেটের সাথে জড়িত। ২০০৮ সালে জসিম উদ্দিন রাহমানির হাতেম বাগ মসজিদে যাতায়াত করত। এই সময়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির বিভিন্ন বই, ওয়াজ, লেকচার শুনে উগ্রবাদিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। এই সময় জেএমবির গ্রেপ্তারকৃত শুরা সদস্য তাসলিমের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে। তাসলিমের মাধ্যমে র‌্যাব-১১ কর্তৃক ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির সদস্য ইমরান আহম্মেদ, সাদেক, নাফিজ, আঃ রহমান ওরফে রুবেল, সাগর, মাওলানা ইসহাক, শায়েখ আরিফ সহ আরও অনেক সদস্যের সাথে আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপুর পরিচয় হয়। সে মূলত পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বর্তমানে জেএমবির দাওয়াতি শাখার সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করছে। তার মাধ্যমে বেশ কয়েকজন সদস্য জেএমবিতে যোগদান করে। তার নামে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় জঙ্গি সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে।
অপরদিকে মিজানুর রহমান ডেমরার সারুলিয়া ডগাইর এলাকায় থাকে। সে ২০০১ সালে গেন্ডারিয়া এম শফিউল্লাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফজ সম্পন্ন করে। ২০১১ সালে জামিয়া ইসলামিয়া দারুলউলুম মাদ্রাসা থেকে দাওরা সম্পন্ন করে। বর্তমানে বাইতুন নুর জামে মসজিদ হোমনা, কুমিল্লায় ইমাম হিসেবে নিয়োজিত আছে। মিজানুর রহমান ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বগুড়া পৌরসভা পার্ক মসজিদে ইমামতি করেছিলেন। ওই সময় তার মসজিদে শিহাব নামে জনৈক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। শিহাব তাকে জেএমবির দাওয়াত দেয় এবং সে দাওয়াত গ্রহন করে জেএমবিতে যোগদান করে। এরপর থেকে সে জেএমবির দাওয়াতি কাজে নিজেকে যুক্ত হয়। তার মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ, সিয়াম, এহসানসহ কয়েকজন সদস্য জেএমবিতে যোগদান করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে মিজান ঢাকায় আসে এবং ডেমরার আয়েশা মসজিদে ইমামতি শুরু করে ।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপুর সাথে মিজানের পরিচয় হয়। ডেমরা নারায়ণগঞ্জ এলাকায় জেএমবির কার্যক্রম কিভাবে বাড়ানো যায় এই নিয়ে প্রায়ই আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপুসহ আরো অন্যান্যদের সাথে তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হত। নারায়ণগঞ্জে আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে সে কুমিল্লার হোমনায় চলে যায় এবং বাইতুন নুর জামে মসজিদ হোমনা, কুমিল্লায় ইমাম হিসেবে কর্মরত থাকে। এরপরও সে বিভিন্ন সময় দাওয়াতি কাজে নারায়ণগঞ্জে আসত ও অন্যান্য সদস্যদের সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হত। ময়মনসিংহ ও আরামবাগ থেকে গ্রেপ্তারকৃত নারী জঙ্গি ফিরোজা রহমান, নাঈমা ও রুবাইয়া বিনতে নুর উদ্দিন ওরফে হুরের রাণীর সাথে তার স্ত্রীর মাধ্যমে পরিচিত হয়। মিজান বিভিন্ন সময় এই নারী জঙ্গিদের কে অনলাইনে জেএমবির বয়ান প্রদান করত বলে ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত নারী জঙ্গিরা স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। মিজানুর রহমান মূলত জেএমবির দাওয়াতি শাখার সদস্য হিসেবে নিযুক্ত প্রাপ্ত।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.