ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে চাঁদমারীতে মাদকবিরোধী অভিযানে সেই গাউছুল আজম

0
বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ  জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কয়েক গজ দূরেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডস্থ ফতুল্লার চাঁদমারী বস্তি। যেখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক।যেখানে আবার তৈরী হয়েছে মাদকের এক মহা উৎসব। বিষয়টি দেখেও যেন দেথার কেউ নেই।
বর্তমান প্রশাসনের উদাসীনতায় বেড়ে গেছে এইসব মাদক ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্ব।অতীতে গাউছুল আজম নারায়ণগঞ্জে এডিসি ও ইউওনও থাকা অবস্থায় চাঁদমারীর দৃশ্যটাই পাল্টে দিন তিনি। ওই সময় দায়িত্ব থাকা অবস্থায় তিনি প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক মুক্ত করেছিলেন গোটা এলাকা। শুধু তাই নয় বস্তির মানুষদের জন্য তৈরি করেছেন স্বপ্ন ডানা নামে একটি স্কুল। যেখান তাদের তিনি পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে তিনি র‌্যাব-সদর দপ্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাঁদমারী বস্তির বর্তমান এই দূর অবস্থা দেখে অনলাইন এক্টিভিসট শেখ মিজানুর রহমান সজীব তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন ‍‌‍’গাউছুল আজম ভাই নারায়ণগঞ্জে নাই তাই আবারো চাঁদমারীতে গাজা বিক্রির মহা উৎসব চলছে, গতকাল রাতে আসার সময় এই দৃশ্য দেখলাম।৫০ গজ দূরেই পুলিশের পিকভ্যান!!!’ তিনদিন আগে সজীবের স্ট্যাটাস দেখে গাউছুল আজম চাঁদমারী বস্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে ছুটে আসেন আজ শুক্রবার। টানা তিন ঘন্টার অভিযানের তিনি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৩ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবন কারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থ জরিমানা করেন এবং মাদক ছাড়ার শপথ করান।এসময় গাউছুল আজম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনাকৃত সারাদেশে চলমান মাদক বিরোধী কার্যক্রমকে সফল করতে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্দেশে চাঁদমারীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমি চাই সারাদেশের মত নারায়ণগঞ্জও মাদক মুক্ত হোক। এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।নারায়ণগঞ্জের এক ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে দেখলাম চাঁদামরীতে আবারো মাদক ভরে গেছে  চাঁদমারী বস্তির বর্তমানের অবস্থা সম্পর্কে গোপনে তথ্য নিয়ে তাই অভিযান করতে ছুটে আসি। এখন থেকে নিয়িমত যখনই সময় পাবো তখনই নারায়ণগঞ্জে অভিযান করতে আসবো। নারায়ণগঞ্জকে মাদক মুক্ত করতে প্রশাসন, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ. নাগরিক সমাজ সহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই এই জেলায় মাদকমুক্ত হবে। আমি চাই নারায়ণগঞ্জ মাদকমুক্ত হোক।
এদিকে গাউছুল আাজমের অভিযানের কথা শুনে অনেকেই তাকে দেখতে ছুটে আসে এবং তার সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত করেন এবং তাকে অভিনন্দন জানান। এসময় তাদের বলতে শোনা যায়, নারায়ণগঞ্জে আবারও গাউছুল আজমের মত অফিসারদের প্রয়োজন। ডিসি এসপির কার্যালয়ের ও মাদক দ্রব নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের অনেকটা সামনেই চাঁদামারী বস্তিতে মাদকের মহাউৎসব। বিষয়টি সম্পর্কে তারা যেন ঘুমন্ত। মাদক নির্মূল করতে তাদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই । নারায়ণগঞ্জ বর্তমান প্রশাসনের উচিত গাউছুল আজম মত নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান করা।এই জেলাকে মাদক মুক্ত করতে গাউছুল আাজমের থেকে তাদের অনেক কিছু শিখার আছে।
মিজানুর রহমান সজীব জানান,  নারায়ণগঞ্জের চাঁদমারীর বস্তির সামনে দিয়ে গত তিন দিন আগে যাওয়ার সময় দেখি সেখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা রাস্তার গতিরোধ করে মাদক লাগবে নাকি বলে জিজ্ঞেস করে। আমি তাদের পাশ কাটিয়ে চলে আসি। সেখানে একটু দূরেই দেখা যায় টহলরত পুলিশের একটি পিক আপ ভ্যান।তাদের নিরব থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি আবার দৃষ্টি গোচর হলে আমি গাউছুল আজম ভাইকে ট্যাগ করে  ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করি।আর সেই প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি চাঁদামারীতে বস্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান চালান।সত্যিই তিনি একজন ভাল মনের মানুষ। অতিতেও তিনি এই জেলাকে মাদকমুক্ত করতে ব্যপক কার্যক্রম চালিয়েছেন। অভিযানের জন্য তাকে অশেষ ধন্যবাদ। আশাকরি মাদক মুক্ত করতে তিনি এই জেলায় এসে প্রায়ই মাদক বিরোধী অভিযান চালাবেন।
প্রসঙ্গত,  ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১৩ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবন কারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ফতুল্লা থানাধীন চাঁদমারী বস্তিতে র‌্যাব-সদর দপ্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন বিষয়ক কর্মকর্তা মো. গাউছুল আজম’র নেতৃত্বে এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। ১৩ জন আসামীর মধ্যে ৫ জনকে ১ বছর করে ও ৭ জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড সহ একজনকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।এদের মধ্যে একজন কাজল নামে একজন হিজরা ও অসুস্থ থাকায় থাকে ৬য় মাসের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ১৩ জন আসামীরা হলেন, ময়না খাতুন (৩৫) স্বামী-মৃত মোখলেছ, দ্বীন ইসলাম (৩৫) পিতা-মৃত জলিল বেপারী, পান্না মিয়া (৩০) পিতা-মৃৃত মেছের আলী, জরিনা বেগম (৩০)স্বামী-উজ্জল হোসেন, মো. রমজান আলী (৪০) পিতা- জব্বার আলী। এদের ৫ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া শরিফুল ইসলাম (৩৮) পিতা-ইসমাইল, হারুন অর রশিদ পিতা(৩০)-আজগর,মনির হোসেন (৩৫),পিতা-দুলু মিয়া, আব্দুল আজিজ (২৫),পিতা-মৃত আবু বক্কর, রাসেল (২৬) পিতা-মিন্টু মিয়া,  আমান (১৮)পিতা-সেলিম, হিজড়া কাজল(৩০) পিতা- চিন্তা মজুমদার। এদের ৭ জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদিকে রাসেল নামে একজনকে মাদক ব্যবসায়ীকে সহযোগীতা করায় ২ হাজার টাকা জারিমান করা হয়। এসসময় মাদক বিরোধী অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি জসিম উদ্দিন, এএসপি বাবুল আক্তার, নাজমুল আহসান। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ওবায়দুল কবির, উপ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা।
এসময় তিনি স্বপ্ন ডানা স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সহযোগীতা করতে সবাইকে আহ্বান জানান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.