লাঙ্গল বিরোধীদের কাছে সেলিম ওসমানের প্রশ্ন

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি বার বার বলে আসছি রমজান মাসে কোন রাজনীতি না, কোন গিবত না। আমি কারো বিরুদ্ধে বা গিবত করে কিছু বলবো না। আমার শুধু একমাত্র প্রশ্ন, নারায়ণগঞ্জে যারা সরকারী দলের লোক দাবী করছে উনারা একটা বোকার হদ্দ। একটা দল নিয়েই কিন্তু আজকে একটা সরকার না। আমরা যদি সহযোগীতা না করতাম তাহলে সরকারটা কি হতো? প্রশ্ন রেখে গেলাম। ভবিষ্যতে যারা আপনাদের ৫ আসনে নির্বাচনে করতে চান। তাদের খতিয়ান বের করলে দেখা যাবে তারা কারা? কথায় আছে বঙ্গবন্ধুর নৌকা নদী, খাল, বিল, সমুদ্রে চলে। আর গাঁজার নৌকা চলে তালগাছ দিয়ে। আপনারা এতো উত্তেজিত হবেন না নির্বাচন এখনো অনেক সময় বাকি আছে।

রোববার ১০ জুন বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের শীতলক্ষ্যা কমিউনিটি সেন্টারে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এমপি সেলিম ওসমানের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে মতবিনিময় ও দোয়া অনুষ্ঠানের পূর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এলাকায় সরকারী বরাদ্দে বেশ কিছু উন্নয়নের কথা তুলে ধরে উক্ত আসনে লাঙ্গল প্রতীকের বিরোধীতাকারীদের উদ্দেশ্যে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ভয় পাবেন না। নারায়ণগঞ্জ রাতারাতি সিঙ্গাপুর হবে না। একটি দলের সাধারণ সম্পাদক তো বলেই ফেলেছেন লাঙ্গলের ভার আর সইতে পারছি না। আরে ভাই লাঙ্গলের ভার তো সইতে পারেনা বলদে। আপনি একটা দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে লাঙ্গলের ভারে বাচঁতে পারেন না কেন গো ভাই?

তিনি বলেন, লাঙ্গলের ভার আরো হবে। পাপ মোচন করতে হলে সনাতন ধর্মের মানুষকে লাঙ্গলবন্দে গিয়ে ¯œান করতে হয়। আপনি তো করেন না। কিন্তু এই লাঙ্গলবন্দের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ ব্রহ্মপুত্র নদের এপার এবং ওপার দুটি আসনেই লাঙ্গল মার্কা দিয়েছেন। ইনশাল্লাহ আগামীতেও লাঙ্গল মার্কাই দিবেন। মনে অহংকার রাখবেন না। প্রতিটি মুহুর্ত চিন্তা করবেন মানুষের জন্য কাজ করবো মানুষের উপকার করবো।

নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা নাসিম ওসমান নির্বাচনে ফেল করার পরেও তাঁর সাথে থাকতেন দলে তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। আর যারা নাসিম ওসমানের সাথে ঘুরতেন। একেবারে ঘায়ে লেগে থাকতেন তাদের চাহিদা ছিল জমি, তাদের চাহিদা ছিল টেন্ডারবাজি। ওই রকম কিছু লোক এখন আমাকে তেমন করে জড়িয়ে ধরে থাকতে চান। আমি সেই ধরনের মানুষ না। আমাকে সংসদ সদস্য হতেই হবে এমন কোন কথা না। সরকারী অনুদান প্রত্যেকটা সংসদ সদস্যই পান। জাতীয় পার্টির এমপি হয়ে আমিও বঞ্চিত হই নাই। এখনো আশা করছি আর এলাকার কোন ইউনিয়নের রাস্তার আর কাচা থাকবে না। প্রত্যেকটা রাস্তাই আরসিসি ঢালাই রাস্তা হবে। যতক্ষন না হবে ততক্ষন পর্যন্ত আমি নির্বাচনের কথা চিন্তা করতে পারি না। আর আমার জাতীয় পার্টির একজনও যদি লোভী হোন তাহলে সেলিম ওসমান নির্বাচন করবে না। কারন জাতীয় পার্টি মানে হরতাল না, গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ মারা না। জাতীয় পার্টি মানেই সরকার গঠন করার পার্টি, জনগনের কল্যানে যে কাজ করবে তাকে সহযোগীতা করার পার্টি।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, গত ৪ বছর ধরে আমি সব জায়গায় বলে যাচ্ছি আমি আপনাদের প্রিয় নেতা প্রয়াত নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রক্সি দিতে এসেছি। বাংলাদেশে কোথাও নাই একটি পরিবারকে মানুষ এতো ভালোবাসে। যেখানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এসে বলে গেছেন নারায়ণগঞ্জে শুধু ওসমান পার্টি আর ওসমান লীগ ছাড়া কিছু নাই। আমি মনে করি আজকে আমি সেই পরিবারের সদস্যদের সাথে বলেছি। এমন না যে নাসিম ওসমান অসুস্থ্য ছিলেন সে হঠাৎ করে চলে গেছে। তাঁর প্রথম জানাজা হয় দিল্লীতে নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারে। তারপর নারায়ণগঞ্জে লক্ষ মানুষ তাঁর জানাজায় অংশ নেন। জানাজা লোভ আমার মা সামলাতে পারলেন না। আমি একবার পৌরসভার নির্বাচনে কমিশনার পদে প্রার্থী হয়ে ছিলাম। ওই নির্বাচনের সময় আমার মা আমার সহধর্মিনীকে নিয়ে প্রতিদিন ২০ রাকাত নফল নামাজ পড়েছে আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করেছেন আমি যাতে নির্বাচনে ফেল করি। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর আমি যখন নির্বাচন করতে চাইছিলাম না তখন আমার সেই মা আমাকে বলেছিলেন কেন আমি নির্বাচনটা করছি না। নির্বাচন আমাকে করতেই হবে। আমি সময়ই পেলাম না আমার উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হলো।

নিজের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমানের দেওয়া তাঁর প্রতি পরামর্শের উদ্বৃত্তি টেনে বলেন, তিনি বলেন তুমি নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করো। যাতে করে আমার শাশুড়ির আত্মা শান্তি পান। আমার ভাসুর যেন বেহেস্তবাসী হতে পারে। আপনারা আমাকে আপন মানুষ করেছেন কিনা জানি না। আপনাদের অত্যন্ত আপন মানুষ ছিলেন প্রয়াত নাসিম ওসমান। আপনি আপনাদের সহযোগীতা নিয়ে সার্বক্ষনিক চেষ্টা করেছি নাসিম ওসমান যদি নিজের অজান্তে কোন ভুল ত্রুটি করেও থাকে তাহলে আপনাদের সহযোগীতা আর আমার কর্মের বিনিময় উনি যাতে জান্নাতবাসী হন এটা আমার চাহিদা। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন এর সঞ্চালনা ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আফজাল হোসেন, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, মহানগর শ্রমিক পার্টির আহবায়ক আবুল খায়ের ভূইয়া, জেলা সেচ্ছাসেবক পার্টির আহবায়ক কুতুবউদ্দিন, জেলা মহিলা পার্টির সভাপতি আঞ্জুমান আরা ভূইয়া, জেলা যুব সংহতির আহবায়ক রাজা হোসেন রাজু সহ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ১৫’শ নেতাকর্মী।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.