অযোগ্যদের দিয়ে জেলা ছাত্রদলের কমিটি হলে আস্থা হারাবে তৃনমূল

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

বিএনপির নেতৃত্বের ও আন্দোলন সংগ্রামের মূল যোগান দাতার প্রধান কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। যা বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত। রাজপথের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বিএনপির এই সহযোগি সংগঠনটি । আর এই সংগঠনটি শক্তিশালী করতে দরকার একদল যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত সৈনিক। এদিকে আগামী জুন মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি হতে পারে বলে জানায় ছাত্রদলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র।কিন্তু অর্থের বিনিময়ে অর্থব, অছাত্র ও অযোগ্যদর নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল কমিটির দেওয়ার সুপারিশ চলছে বলে জানায় তৃনমূল।

ছাত্রদলের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জেলা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান রনিকে সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এবং সোনারগাঁ উপজেলার চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নানের পুত্র খায়রুল ইসলাম সজিব জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আনতে দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যায়ে সর্বত্র জোর লবিং করছে । বদলী মান্নান খ্যাত আজারুল ইসলাম মান্নানের পুত্র সজিব নিজেকে জেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু উপজেলা ও ইউনিয়ন তো দূরের কথা কোন ওয়ার্ড কমিটিতেও সজিবের ছাত্রদলের কোন পদপদবি নেই । এদিকে বাবা শিল্পপতি ও টাকার বিনিময় এই সজিব নাকি হতে যাচ্ছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এমনটিই প্রচার করছেন তারা । আর এই পদ পেতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাকে মদদ দিচ্ছে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দানকারী বেলায়েত হোসেন মৃধা । বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তাদের রহমান ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দানকারী নরসিংদীর মোঃ বেলায়েত হোসেন মৃধা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ভাঙিয়ে তৃনমুল ছাত্রদলের কর্মীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথে আঁতাত করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি দেওয়ার পাঁয়তারা করছে । বেলায়েত হোসেন কখনো তারেক রহমান আবারও কখনো দলের মহাসচিবের নাম ভাঙিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নিজের প্রভাব বিস্তার করছে বলে জানা যায় । যিনি বিএনপি তথা যুবদল, ছাত্রদল সহ কোন কমিটিতে তার কোন পদপদবি নেই । কিন্তু দূর প্রবাসে থেকে নিজেকে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জেলার ছাত্রদল , যুবদল সহ সহযোগি সংগঠনের কমিটির দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা বলে জানান দলের বেশ কয়েকজন নেতা। এদিকে প্রায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি । বিভিন্ন সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামি হয়েছে তৃনমূলের সক্রিয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা । এসব মামলায় পদবিহীন ছাত্রদলের বহু নেতা একাধিকবার কারাগারে গিয়েছেন । আর হাতে গুনা কয়েক জন ছাড়া বাকী সবাই ডজন খানেক মামলার আসামি । প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পর নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হওয়ার পর আশা দেখেছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেই আশায় ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শুধু রাজনীতি নয় তাদের ব্যক্তি জীবনের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেছে । ছাত্রদলের পদ পাওয়ার আশায় এখনও অনেকেই বিয়ে করে সংসারও করেননি বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে জেলা কমিটিতে গঠন হলো আগামী নির্বাচনে আন্দোলন সংগ্রামে কতটুকু সচল হবে তাই দেখার বিষয় ।

জেলা ছাত্রদল কমিটির ব্যাপারে তার হস্তক্ষেপ আছে কি না এ বিষয়ে জানতে চেয়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দানকারী বেলায়েত হোসেন মৃধার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি ।

কমিটির বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় । আর সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের মোবাইল মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি । ফলে তাদের দুইজনের বক্তব্যে নেওয়া সম্ভব হয়নি ।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিবের কাছে বেলায়েত হোসেন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যতটুকু ওনাকে চিনি বা জানি ওনি কখনো এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্নই আসে না । এবং আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা । আর কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এমন কিছু শুনিনি । যদি কমিটি দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের ছাত্রদলের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে । আর যদি কমিটি গঠন করা হয় তাহলে অবশ্যই আমাকে অতিবাহিত করবে কেন্দ্রীয় কমিটি যেহেতু আমি জেলার আহ্বায়ক । আমি বিশ্বাস করি কেন্দ্রীয় কমিটি তৃনমুল নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জেলা কমিটি করতে পারে না । কিন্তু সেই কমিটি দিয়ে কখনো ছাত্রদল সুসংগঠিত হবে না । তাই আমি বিশ্বাস করি ছাত্রদল কে আন্দোলন সংগ্রামে সচল রাখতে হলে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ সেই সব ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব গঠন করে কমিটি দিতে হবে ।

প্রসঙ্গত, জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে প্রায় ৫ বছর পূর্বে ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত সায়েম এবং মাহাবুব রহমান, শাহ ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মনজুর হোসেন, হারুন উর রশিদ মিঠু ও মশিউর রহমান রনিকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

অন্যদিকে একই সময়ে মনিরুল ইসলাম সজলকে আহ্বায়ক ও দেলোয়ার হোসেন খোকনকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আবুল কাউসার আশা, রাশেদুল রহমান রশু, সাহেদ আহমেদ, শেখ মোহাম্মদ অপুকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

171 Shares

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.