“জলজট”যানজট”মানবজট”মশাজট”মুক্ত শহর চাই”

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম, মোঃ সেলিম মিয়া’/’ইন্সপেক্টর অব পুলিশ

বাংলাদেশ যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ তেমনি সমভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর। জেলা শহরের মধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তি নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর জেলা অন্যতম। বিভাগীয় নগরীর মধ্যে চট্টগ্রাম খুলনা প্রথম প্রহরে আলোচনায় আসাটাই স্বাভাবিক। উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ নগর শহরগুলো সহ আরো বেশ কিছু শহরে শুধু বর্ষাকালেই নয় আমি বলবো ঘন-ঘন বৃষ্টিকালের দিনগুলির জনবিরক্তিকর ঘটনাবলীর করুন পরিণতির কথা। গ্রীষ্মকালীন বর্ষাকালীন শরৎকালীন সময়ের অসংখ্য দিনগুলোতে যাহা দেখি তাহা হলো:- যদি ঘন্টাধিক সময়ের বেশি মুষলধারে বৃষ্টি হয় তাহলে প্রথমত জলজট। দ্বিতীয়ত মহা-জানজট। তৃতীয়ত পোশাক শিল্পাঞ্চল বাসসট্যান্ড রেলস্টেশন লঞ্চঘাট ফেরিঘাট সহ জনগুরত্বপূর্ন স্হান সমূহে হয় মানবজট। চতুর্থত সন্ধ্যার পরে বিষাক্ত রোগবাহি ভন-ভন অসহ্য মশা উপদ্রব-জট শুরু হয়। বিভিন্ন সড়কে গোড়ালি থেকে হাটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। বর্ষনের ব্যাপ্তির বৃদ্ধি যদি দিনাতিপাত অতিবাহিত হয় বা একাধিক দিন অতিবাহিত হয় তাহলেতো রক্ষাই নাই। কোথাও-কোথাও গলা পর্যন্ত পানি জমে থাকার দৃশ্যও দেখা যায়। শুধু পানি বন্দি নয় এর সঙ্গে ময়লা ও দুষিত পানি দূর্গন্ধযুক্ত হয়ে পলিথিনের সংমিশ্রণে পয়-নিষ্কাশনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বনের রাজা সিংহকে যেমন চিড়িয়াখানায় আটক রাখিয়া তাহার স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। ঠিক এই জলজটের সময়কাল শহরের মানুষ গুলোরও একই ভাবে স্বাভাবিক চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব হয়। শিশুদের খাঁচার পাখির মতো দরজা বন্ধ করে আটকে রাখা হয়। এককথায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে। দৈনন্দিন কাচা মালের দাম বৃদ্ধি সহ আমদানি রপ্তানি হ্রাস পায়। আমি আশির দশকে ঢাকা পশ্চিম রামপুরা উলন রোডে খালেদ হায়দার মেমোরিয়াল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যখন লেখা পড়া করেছি তখন ঢাকা শহরের প্রতিটি এলাকায় খাল-বিল- পুকুর দেখেছি। নব্বইয়ের দশকে মীরপুর সরকারি বাঙলা কলেজে যখন লেখা পড়া করেছি তখন বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কারনে-অকারনে ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকায় আমার পায়ের ছাপ পড়েছে। সেই কারনে আমার অনেক খাল বিল দেখার সৌভাগ্যে হয়েছে। বর্ষাকালে কিছু-কিছু এলাকায় পরিষ্কার পানির স্রোতযুক্ত বন্যায় কবলিত হওয়ার দৃশ্য দেখেছি। রামপুরা বিলে চকচকে পানিতে শৈশবে আমরা অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা টায়ার টিউব নিয়ে আনন্দে সাতার কেটেছি। ২০০২ ঢাকা হতে বদলি সুত্রে সরকারি চাকরির সুবাদে উত্তর বঙ্গে দীর্ঘদিন থাকতে হয়েছে। যখন ২০১০ সালে পুনরায় মুন্সীগঞ্জ বদলি হয়ে আসার সুবাদে ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন কাজে যাতায়াত শুরু করি। যাহা অদ্যাবধি চলমান রহিয়াছে। যত বছর সামনে অতিবাহিত হচ্ছে ততই দেখছি খাল বিল কমে অট্টালিকা পাকা রাস্তার সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক রাস্তায় ড্রেন তৈরী হয়নি। অনেক ড্রেন সচল নেই। আর তাই বৃষ্টিকালে উল্লেখিত শহরের অধিকাংশ রাস্তা ও গলি পথে জলজট সৃষ্টি হইয়া জানজট সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষেরা নিরুপায় হয়ে অস্বাভাবিক জীবন-যাপন করিতে বাধ্য হচ্ছে । সরকারি প্রক্রিয়ায় খাল উদ্ধার এবং পয়-নিস্কাশন প্রয়োজনীয় ড্রেন তৈরী করার পাশাপাশি পলিথিন সহ ময়লা আবর্জনা যেন সাধারণ জনতা যত্র-তত্র নাফেলে। সরকারি খাল যতটুকু আছে যেনো উহা খনন করে পানি চলার যোগ্য রাখা হয়। আর কোনো খালের উপর নতুন করিয়া অট্টালিকা কেহ নাকরেন সেই জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পোশাক শিল্প কলকারখানা এলাকা সমূহে প্রশস্ত রাস্তা ঘাট করতে হবে। বাসস্ট্যান্ড,রেলস্টেশন লঞ্চঘাট গুলো আঞ্চলিক ভিক্তিতে শহরের বাহিরে বিস্তর জায়গা নিয়ে স্হাপন করতে হবে। উন্নত বিশ্বমানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দেশে পৌঁছানোর জন্য আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি সেই বিবেচনায় তালে-তাল মিলিয়ে শহরের মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা বিশেষ প্রয়োজন। ২০১৮ সালের বৃষ্টিকালে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ শহর বাসির যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে শান্তি পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন হতে পারে জলজট/ যানজট/ মানবজট/ মশাজট/ মুক্ত শহর চাই মর্মে জোরালো শ্লোগান উচ্চারণ করে। এই শ্লোগান গর্জে উঠুক বারবার। সরকারি-বেসরকারি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি বিনয়ী অনুরোধ রইলো আমার।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.