আড়াইহাজারে ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যার কথা স্বীকার করলেন ঘাতক মা

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে নিজ শিশু সন্তান হৃদয় (৯) কে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দী দিয়েছে নিহত হৃদয়ের মা শেফালী আক্তার। এ সংক্রান্তে দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়ইহাজার থানার এস আই আবুল কাসেম গতকাল রোববার এ তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।
তিনি জানান, ১৪ এপ্রিল নিহত হৃদয়ের গ্রেফতারকৃত মা শেফালী আক্তারকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেন তিনি। এ সময় স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেনের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই মোমেনকে সাথে নিয়ে নিজের দু সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁথায় মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ফলে বড় ছেলে হৃদয় (৯)এর সারা শরীর আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ছেলে জিহাদ (৭) কে বাড়ির লোকজন তাৎক্ষণিক ভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় সে বেঁচে যায়।
প্রসঙ্গত আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেফালী আক্তারের সাথে তার বৈমাত্রেয় ভাই রাশেদুল ইসলাম মোমেনের দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
প্রতিরাতেই প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন ভাবী শেফালী বেগমের ঘরেই রাত্রি যাপন করত। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিস বসে বিচার আচার হয়।
তাদের দুজনের কুকর্ম শেফালী আক্তারের ছেলেরা দেখে ফেললে শেফালী আক্তার ও তার প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন শিশু হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
সেই পরিকল্পনা মতো ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার সময় শিশু হৃদয় ও জিহাদকে কাঁথায় পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহুর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই শিশুর দেহ। শিশুদের চিৎকারে বাড়িল লোকজন এসে হৃদয়ের সারা শরীর পোড়া নিথর দেহ ও ছোট ভাই জিহাদের অর্ধ পোড়া অবস্থায় কাতরাতে দেখতে পান। সেখান থেকে আহত জিহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহত হৃদয় ৩৫ নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র এবং আহত ছোট ভাই জিহাদ প্রথম শ্রেনীর ছাত্র তার পরিবার সূত্রে জানাযায়। ১৩ এপ্রিল শুক্রবার এ ব্যাপারে নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী আক্তার ও রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘাতক মা শেফালী আক্তার ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকার সুন্দর আলীর কন্যা বলে পুলিশ জানায়।
মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন ঘটনার নির্মমতার বর্ণনা দিয়ে জানান,গভীররাতে শিশুদের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। পরে সে ও তার বড় ভাই আঃ হান্নান ও তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে তার বিদেশ প্রবাসী ছেলে আনোয়ারের ঘরের সামনে গিয়ে দেখতে পান ঘর থেকে ধুয়া বের হচ্ছে। তারা সেই ঘরের একটি দরজা খোলা পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখতে পান পুত্রবধূ শেফালী আক্তার ও রাশেদুল ইসলাম মোমেন মিলে বিছানার কাথা ও তোষকে আগুন ধরিয়ে তার দুই শিশু নাতি হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার উদ্দ্যেশে তাদের শরীর আগুন দিয়ে পোড়াচ্ছে। তখন তারা শিশুদের রক্ষায় ব্যস্ত থাকলে রাশেদুল ইসলাম মোমেন দৌড়ে পালিয়ে যায়।
মামলার বাদী বিলাল হোসেন বলেন,এ নির্মম ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও এ হত্যাকান্ডের মূল হোতা রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে এখনো পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করছেনা।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, অভিযুক্ত দুইজনের মধ্যে শিশুর মা শেফালী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সে আদালতে ঘটনার সাথে তার দায় স্বীকার করেছে। অপর আসামী রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে খুব দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.