সিদ্ধিরগঞ্জে জয়কে হত্যার ঘটনায় খুনী ইব্রাহিমের আদালতে স্বীকারোক্তি

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকার কালামের ছেলে ও দূধর্ষ ডাকাত আবুলের ছোটভাই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মুন্নাকে একাধিকবার গ্রেফতারে থানা পুলিশকে সহযোগিতা করার ক্ষোভে সোর্স ইফতেখার মুশফিক জয় (১৮) কে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে হত্যা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। বুধবার (১৪ মার্চ) বিকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে গ্রেফতারকৃত খুনী ইব্রাহীম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
জবানবন্দী প্রদানকারী খুনী ইব্রাহীম নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকার কালামের ছেলে ও দূধর্ষ ডাকাত আবুলের ছোটভাই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মুন্নার ভাই।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানায়, গত মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতে নিহত জয়ের বাবা আকরাম হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং-৩৮(৩)১৮। এ ঘটনায় আটককৃত নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মুন্নার ভাই ইব্রাহিম, সহযোগী মাসুম ও সোর্স আওলাদকে জিজ্ঞাসাবাদে এ খুনের রহস্য উদঘাটিত হয়।
নিহত জয় নাসিক ১নং ওয়ার্ডের হিরাঝিল এলাকার ১০ নং সড়কের বিল্লাল হোসেনের বাড়ীর ৪র্থ তলার ৫০২ নং ফ্লাটের ভাড়াটিয়া বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের ছেলে। সে এসএসসি পাশ করে বিদেশে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হলেও পড়াশুনা বাদ দিয়ে দেশে ফিরে এসে বখাটেদের সাথে মিশে পুলিশের সোর্সের কাজ করতো। তবে সে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রফিকের সোর্স হিসেবে কাজ করতো বলে জানা গেছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতের যে কোন এক সময় সিদ্ধিরগঞ্জের ডাচ বাংলা ব্যাংকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় ইসলাম মোল্লার বিক্রমপুর বোর্ডিং সংলগ্ন পূর্ব পাশে মুন্নার মাদক স্পটে রাতের কোন এক সময় সোর্স জয়কে পিটিয়ে হত্যা করে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) ভোরে তিনজন যুবক তাকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩‘শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ খানপুর হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ১‘শ শয্যা বিশিষ্ট ভিক্টরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে জয়ের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে সিদ্ধিরগঞ্জে তার দাফন সম্পন্ন হয়। পুলিশের ধারনা ছিলো, মাদক ব্যবসায়ী মুন্না ও তার সহযোগীদের সঙ্গে কোন কিছু নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অবশেষে সে ধারনাই সত্যি হলো।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, যে জায়গাটিতে সোর্স জয় খুন হয়েছে সে জায়গাটি মাদকের অভয়ারন্য হিসেবে সকলের সুপরিচিত। একসময় দূধর্ষ ডাকাত দিনা এ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা শুরু করে। তখন স্থানীয় প্রশাসন তার মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হিমশিম খেতে থাকে। পরবর্তীতে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় দূধর্ষ ডাকাত দিনা। তারপর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এ ব্যবসার হাল ধরেন ক্রসফায়ারে নিহত দিনার বোন নাজু। সেও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে প্রশাসনের নাকের ঢগায় বীরদর্পে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাবের তৎপরতার কারনে সিদ্ধিরগঞ্জ ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় ফ্লাট কিনে সেখানে আশ্রয় নেয় সে। সেখানে বসে নাজু তার ছেলে ভাগিনা রাজুকে দিয়ে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। দীর্ঘদিন বীরদর্পে রাজু ব্যবসা চালিয়ে মার মতো সেও গা ডাকা দেয় সে। তাদের এ মাদক ব্যবসার দ্বন্ধ নিয়ে এ ভয়ানক মাদক সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অনেকে। বর্তমানে এ ব্যবসাটির হাল ধরেছে আরেক দূধর্ষ ডাকাত আবুলের ছোট মুন্না। এ মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে প্রতিনিয়তই ভয়ংকর মারামারির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ সোর্স জয়ের হত্যাকান্ডের ঘটনাও এ মাদক ব্যবসার দ্বন্ধের জেরে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা করছে এলাকাবাসী। এ এলাকার দুধর্ষ ডাকাত ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ ভাবে সোর্সদের নিয়ে সুসংঘঠিত হয়ে প্রশাসনের নাকের ঢগায় মাদক ব্যবসা, মহাসড়কে প্রকাশ্যে বিভিন্ন যাত্রী পরিবহনে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে বলেও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এমনকি এদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও মারামারিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার জানান, মঙ্গলবার রাতে নিহত জয়ের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়। তারই প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ী মুন্নার ছোটভাই ইব্রাহিম বুধবার বিকালে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply