দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে দাড়াঁলেন সেলিম ওসমান

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

বয়সের কারণে শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে শেষ বিদায়ের প্রহর গুনা মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের শেষ ইচ্ছা পূরণে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। সেই সাথে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যাংকের কাছে মর্গেজ থাকা বাড়িটি মুক্ত করতে আরো সাড়ে ১৭ লাখ টাকা আগামী দু’একদিনে মধ্যেই তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিবেন এমপি সেলিম ওসমান।

অপরদিকে সম্প্রতি দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের পরিবারেরও পাশে দাড়িয়েছেন তিনি। মরহুম মোতালেব হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া মেয়ের ‘ল’ কোর্স সম্পন্ন করতে আগামী তিন বছরের পড়ালেখার ব্যয় সহ পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে আরো ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৭টায় দেওভোগ জল্লারপাড় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন এবং দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকায় মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের বাসায় সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সহযোগীতার অর্থ তুলে দেন এমপি সেলিম ওসমান।

বয়সের ভারে বাধক্য জনিত কারনে শয্যাশায়ী মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন। জল্লারপাড় এলাকার অবস্থিত নিজ বাড়ির ভবনটি অত্যন্ত জড়াজীর্ণ। মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন অসুস্থ্য অবস্থায় দীর্ঘ দিন ধরে জড়াজীর্ণ ওই ভবনের ৪র্থ তলায় একটি কক্ষে শয্যাশায়ী রয়েছেন। কক্ষটির অবস্থাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কক্ষের প্রতিটি দেয়াল খসে পড়ছে। পায়ে হেঁটে ভবনটির ৪র্থ তলায় অসুস্থ্য আনোয়ার হোসেনের কক্ষে গিয়ে আচমকা উপস্থিন হন এমপি সেলিম ওসমান। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের মাথায় কাছে গিয়ে বসে পড়েন। তাঁর মাথায় হাত রেখে বলেন চাচা আমি চলে আসছি। আপনি কেমন আছেন? আমাকে কি করতে হবে বলেন। প্রথমে আনোয়ার হোসেন কিছু বুঝে উঠতে না পেরে সবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে। ওই সময়টুকুতে হয়তো তিনি অতীত স্মৃতি মনে করছিলেন। কয়েক মিনিট পরে অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় তিনি তাঁর মেঝ ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলেন সেলিম ওসমান কই? তখন এমপি সেলিম ওসমান উত্তর দেন এই যে চাচা আমি সেলিম ওসমান বুড়ো হয়ে গেছি চুল দাঁড়ি পেকে গেছে তাই হয়তো চিনতে পারছেন না। তখন আনোয়ার হোসেন সেলিম ওসমানের মাথায় হাত বুলিয়ে হাত মুষ্ঠি বেঁধে অস্পষ্ট ভাষায় কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে থাকে বলেন কি করতে হবে আমি প্রস্তুত আছি। ইলেকশনের সময় করছিনা? আমার কাজল কই? তখন এমপি সেলিম ওসমান হাত ইশারায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলকে দেখিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত সকলের মাঝে এক হৃদয়স্পর্শী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আলোচনার এক পর্যায় এমপি সেলিম ওসমান তার বাবা মরহুম শামসুজ্জোহার এক সময় সহকর্মী মুক্তিযোদ্ধা, আয়াত আলী, আফতাব উদ্দিন সরদার, শাহাবুদ্দিন, মোতালেব হোসেন সহ অন্যান্যদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের কাছে শেষ ইচ্ছা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বাড়িটা ছুটাই দাও। তখন তিনি বাড়ির বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁর ছেলেরা জানান বাড়িটি ব্যাংকের কাছে মর্গেজ রয়েছে। বর্তমানে তাদের কাছ থেকে ব্যাংক আরো সাড়ে ১৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তখন এমপি সেলিম ওসমান আগামী দু’একদিনের মধ্যে মর্গেজের টাকা পরিশোধ করে বাড়িটি ব্যাংকের মর্গেজ থেকে ছুটানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি পশ্চিম দেওভোগ পানিরট্যাংকি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন এবং তার পরিবারের খোঁজ নিয়ে তার মেয়ের হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, কমান্ডার আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা এম, এ সাত্তার, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: কামরুল হাছান মুন্না সহ অন্যান্যরা।

Leave A Reply