শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ে হকার মার্কেটের প্রস্তাব সেলিম ওসমানের

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ সকলের সহযোগীতা পেলে শহরের হকারদের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড় বন্দরের ময়মনসিংহ পট্টি এলাকায় হকারদের জন্য একটি মার্কেট নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এমপি সেলিম ওসমান। মার্কেটের পাশাপাশি সেখানে একটি মিনিপার্ক করার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। যাতে করে শহর ও বন্দরবাসী সাপ্তাহিক ছুটির দিন গুলো সহ অন্যান্য দিন গুলোতে একই সাথে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে ঘুরাফেরার পাশাপাশি একই স্থান থেকে মার্কেটিং করতে পারে। এক্ষেত্রে হকারদেও মধ্য থেকে নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। তবে কোন অবস্থায় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসতে পারবে না বলে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।

মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হকার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং হকার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় সভায় এমপি সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন। উক্ত সভায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুল ইসলাম।

এ সময় হকারদের পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেটের মত বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসতে দেওয়ার দাবী রাখেন হকার নেতৃবৃন্দরা।

পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, শুক্র ও শনিবার বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসার দাবীটি সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে লিখিত ভাবে জানাতে হবে। সিটি মেয়র অনুমতি দিলেই কেবল ওই দুই দিন বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসতে পারবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রকৃত হকার হতে হবে এবং তাদের কাছে পরিচয় পত্র থাকতে হবে। জেলা পুলিশ প্রশাসন সেই পরিচয় পত্র তৈরি করে দিবেন। অন্যথায় কোন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসতে পারবে না। আর যারা হলিডে মার্কেটের মত বঙ্গবন্ধু সড়কে সপ্তাহে দুই দিন দোকান বসিয়ে ব্যবসা করবে তাদেরকে বন্দরে ময়মনসিংহ পট্টিতে হকারদের জন্য মার্কেট করা হলে সেখানে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

এ সময় দুইজন হকার সভায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বললে এমপি সেলিম ওসমান তাদের স্থায়ী ঠিকানা জানতে চান। উত্তরে তারা জানান একজনের বাড়ি বিক্রমপুর এবং অপর জনের বাড়ি নরসিংদী। তখন তিনি সভায় উপস্থিত নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা কারা জানতে চাইলে মাত্র তিনজন হকার উঠে দাড়ায়। এ সময় এমপি সেলিম ওসমান জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রেখে বলেন, আমি এবং মেয়র উভয়ে নারায়ণগঞ্জের জনগনকে স্বস্তির জীবনমান নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধা অসুবিধার কথা সবার আগে ভাবতে হবে। হকারদের মধ্যে যারা নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পর্যায়ক্রমে আমরা অন্যান্যদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করবো। যারা নারায়ণগঞ্জে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সরকারকে কর দিয়ে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিভিন্ন মার্কেট গুলোতে প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বঙ্গবন্ধু সড়কে শুধু তাঁরাই থাকবে।

সভার শুরুতে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আপনিও আপনাদের মত একজন হকার ছিলাম। বর্তমানে আল্লাহ আমাকে অনেক উপর স্থানে উঠিয়েছেন। আমি আপনাদের কষ্ট বুঝি। অনেকেই বলে থাকেন আমি দুবাই মালেশিয়া টাকা পাঠিয়েছি। এরআগেও আমি সাংবাদিকদের আহবান জানিয়ে ছিলাম। আমি আবারো বলছিল আমি দুবাই মালেশিয়া টাকা পাঠিয়েছি নাকি সেখান থেকে টাকা বাংলাদেশে এনেছি এসে দেখেন। আমি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করি ওই ব্যাংকের দরজা খুলে দিলাম জেনে সঠিক হিসেবটা জেনে নিতে পারেন। কোন ব্যাপারে সঠিক তথ্য না জেনে উল্টাপাল্টা বলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা ঠিক নয়। এতে অপরাজনীতির সৃষ্টি হয়। এমন করা থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান রাখছি।

মেয়রের উন্নয়ন কাজের প্রশংসা করে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, মেয়র আইভী তাঁর বড় ভাই হিসেবে আমাকে নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ডটি সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে ছিলেন আমি সকলের সহযোগীতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধান করেছি। কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডটি একটি নিয়মের মধ্যে আনতে সক্ষম হয়েছি। দীর্ঘদিন পড়ে হলেও ফুটপাতে হাটা চলার জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও যানজট নিরসনে আমি বঙ্গবন্ধু সড়কে অবৈধ গাড়ি পাকির্ং, অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রন, বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশাপাশি ২নং রেলগেইট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত বিকল্প রাস্তাটি চালু করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল উন্নয়ন কাজে তাঁকে সহযোগীতা করা আমাদের সকলের কর্তব্য এবং আমি সেটা সব সময় করতে প্রস্তুত আছি। হকার ইস্যুটি নিয়ে সুষ্ঠু আলোচনা চলছিলো। কিন্তু একটি ভুল বুঝাবুঝির মধ্য দিয়ে গত ১৬ জানুয়ারীর ঘটনায় মেয়রকে চরমভাবে অপমানিত করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ওই ঘটনার জন্য একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি লজ্জিত এবং মেয়রের কাছে দু:খ প্রকাশ করছি।

হকারদের পক্ষে সভায় উপস্থিত কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশ এর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ও শ্রমিক নেতা হাফিজুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, হাফিজুল ইসলামকে আমি অনেক আগে থেকেই পছন্দ করি। নারায়ণগঞ্জে যখন গার্মেন্টস শ্রমিক ও মালিকদের সাথে বৈরী সম্পর্কের কারনে প্রতিনিয়ত শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছিলো তখন শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ, কাউসার আহম্মেদ পলাশ, হাফিজুল ইসলাম, ইকবাল, শাহীন সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা আমাকে অনেক সহযোগীতা করেছেন। মালিক শ্রমিকদের বিকেএমইএ এর মাধ্যমে এক টেবিলে বসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে ছিলেন যার ফলে আজকে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টেস কোন অশান্তি নেই। তাই হাফিজুল ইসলামের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। আমি তাঁকে দায়িত্ব দিচ্ছি নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসা প্রকৃত হকারদের একটি সঠিক ও পূর্নাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তাদেরকে স্থায়ীভাবে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করতে সহযোগীতা করবে।

সেই সাথে তিনি আরো উল্লেখ করেন, হকারদের জন্য যে মার্কেট নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে সেখানে প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা নিয়ে সম্মিলিতভাবে অর্থায়ন করবো। যারা সেখানে দোকানপাট নিয়ে ব্যবসা করবে ইচ্ছা করলে তাঁরাও মার্কেট নির্মাণে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রথমে হয়তো সেখানে টিনশেড দিয়ে মার্কেট করা হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সেটিতে দুই তলা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে জায়গাটি লিজ নিতে হবে জায়গাটি লিজ পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি জেলা প্রশাসনের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ রাখছি।

জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: কামরুল হাছান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স লীগ সভাপতি রহিম মুন্সি, জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

Leave A Reply